সরকার প্রতিহিংসার কারণেই খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না : ফখরুল

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২১

সরকার প্রতিহিংসার কারণেই খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না : ফখরুল

সরকার প্রতিহিংসার কারণেই উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে এখনো অসুস্থ অবস্থায় আছেন। এই সরকার কত বড় প্রতিহিংসা পরায়ন, তাদের যে পায়ের নিচে মাটি নেই। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ডাক্তাররা পরামর্শ দিচ্ছেন যে বাইরে নিয়ে যাও। তারা (সরকার) বাইরে যেতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, এটা হচ্ছে তাদের দুবর্লতা। তাদের রাজনীতির যে দেউলিয়াপনা, জনগণ থেকে যে বিচ্ছন্নতা তারই প্রমাণ। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা দুর্নীতিপরায়ন সরকারে পরিণত হয়েছে। এ সরকার জনগণের ওপরে অত্যাচারী সরকারে পরিণত হয়েছে, ফ্যাসিবাদী সরকারে পরিণত হয়েছে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পরে সবাই ভেবেছিল যে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে, বিএনপিকে আর দেখা যাবে না। কারণ আসল নেতাই চলে গেছেন। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন তিনি পতাকাকে তুলে ধরছেন। কিসের পতাকা? স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা, যেটাকে ধারণ করে এ দেশের মানুষ বেঁচে আছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তার মূলমন্ত্র হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্র। দীর্ঘ নয় বছর পতাকাকে তুলে ধরে স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন। এখন অবধি বেগম খালেদা জিয়া… আমি তো মনে করি, এই দেশে জীবিত আছেন যেসমস্ত রাজনীতিবিদ তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিয়শী নেত্রী হচ্ছে বেগম জিয়া। তার অবদার আমি মনে করি কারো চেয়ে খাটো নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। উনি কারাগারে বলেই গণতন্ত্র এখন কারাগারে। গণতন্ত্র বন্দী হয়ে আছে। আমাদের অসংখ্য নেতা প্রাণ হারিয়েছেন, গুম হয়ে গেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা, ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। তারপরেও কিন্তু বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি সরকার। বিএনপি আছে, চলছে ও অত্যন্ত সোচ্চার হয়েই আছে।’

সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সামনে নিয়ে তার যুদ্ধ করার যে মানসিকতা তাকে সমানে নিয়ে ও বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব অনুসরণ করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে পুঁজি করে তার নেতৃত্বে ও ১৩ হাজার মাইল দূরে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, যাকে আমরা সবাই তারণ্যে অহংকার বলি, যার নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন করছি, সংগ্রাম করছি, তাকে নিয়েই আমাদের হারিয়ে যাওয়া যে গণতন্ত্র তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে পারবো এই আহ্বান আমি জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কখনো পিছু ফিরে তাঁকাবেন না। আর কখনো এই কথা মনে করবেন না যে আমরা পারবো না। আমরাই পারবো, অবশ্যই ইনশাল্লাহ আমরা জয়ী হবো। যে দানব আমাদের অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে, যে দানব শুধুমাত্র লুণ্ঠনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই দানবকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন-কর্মের ওপর মরহুম সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর লেখা গ্রন্থ দু’টি দলের সকল নেতাকর্মীকে পড়ার পরামর্শ দেন বিএনপি মহাসচিব।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিথীকা বিনতে হোসাইন ও ইয়াসীন আলী প্রমুখ।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট