৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০
দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।
বাংলাদেশে জেকেজি এবং রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারির পটভূমিতে স্বাস্থ্যখাতে যখন একের পর এক দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, তখন সরকার টাস্কফোর্স গঠন করে দুর্নীতি দূর করার কথা বলছে। খবর বিবিসি বাংলার
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় চুনোপুটি কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। কিন্তু সংকটের গভীরে গিয়ে প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মহল বা রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি-অনিয়মের গভীরে যাওয়া আসলে কতটা চ্যালেঞ্জের, এবং সিণ্ডিকেট বা স্বার্থন্বেষী মহলের প্রভাব থেকে স্বাস্থ্যখাতকে মুক্ত করা কী আদৌ সম্ভব-এই খাতের পর্যবেক্ষকদের অনেকে এসব প্রশ্ন তুলেছেন।
সিণ্ডিকেটের হাত কত লম্বা?
স্বার্থন্বেষী মহল বা সিণ্ডিকেটের হাত কি সরকারের হাতের চেয়েও লম্বা, এমন আলোচনাও এখন চলছে।
টিআইবির ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, স্বার্থন্বেষী মহলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা বেশ কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব বিষয় নয় বলেও তিনি মনে করেন।
সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।
গভীরে গিয়ে যারা এর সার্বিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মূল ভূমিকাগুলো পালন করে থাকে, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা বা একটা প্রতিরোধমূলক জায়গায় নিয়ে আসা- এটা খুবই কঠিন কাজ এবং অনেক সময় অসম্ভবও মনে হয়। কিন্তু যদি আইনের প্রয়োগটা হতো বা নীতিমালার প্রয়োগ হতো তাহলে কিণ্তু এটা খুবই সম্ভব।
কিন্তু দু:খের বিষয় হলো, যে প্রতিষ্ঠানগুলো বা যে কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব তারা কিন্তু এক ধরণের সীমারেখা নির্ধারণ করে বসে আছে যে এই সীমারেখার উর্ধ্বে আর যাওয়া যাবে না, তাহলে হাত পুড়ে যাবে।যার ফলে টানাটানি হবে তথাকথিত কিছু চুনোপুটিদের নিয়ে। এবং রুই-কাতলারা ঠিকই বাইরে থেকে যাবে।
সরকারের টাস্কফোর্স
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ যখন পদত্যাগ করেন, তখন গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
নানা অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।
পরীক্ষায় কত নাম্বার পেলেন, এটা নির্ভর করে আপনি পরীক্ষা কেমন দিয়েছেন। আমরা মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাল নাম্বার পেয়েছে। নাম্বারটা কি–যে আমাদের মৃত্যুর হার দেড় পার্সেন্ট। এটা হলো সবচেয়ে বড় নাম্বার। যেটা আমেরিকাতেও ছয় পার্সেন্ট, ইউরোপে ১০ পার্সেন্ট। তবে যেখানে যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়গুলো আমরা অবশ্যই দেখবো। আমরা চাই যে, এখানে সুষ্ঠু পরিচালনা হোক।
তবে মন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করবেন কিনা-সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে জাহেদ মালেক বলেছিলেন, একটি টাস্কফোর্স গঠন করে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কিন্তু সংকট কতটা গভীরে-তা বের করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা আছে কিনা- তাতে সন্দেহ রযেছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেছেন, সংকটের শেকড়টা বের করা প্রয়োজন।
খুবই গভীর মনে হয়। যদি সেটা গভীরে না হয়, তাহলে একের পর এক দুর্নীতি হতে পারে না। যেমন, আমরা জেকেজি বা রিজেন্টের ঘটনা দেখেছি। এরপর সাহাবুদ্দিন হাসপাতালের ঘটনা দেখলাম। একের পর এক হয়েই যাচ্ছে। এর রুটটা বের করা দরকার। সংবেদনশীল এই খাতে দুর্নীতি চলতে থাকলে শেষপর্যন্ত জনগণকেই কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হয়।
দুর্নীতির গভীরতা এবং উৎস: কারা দায়ী?
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়ম নতুন কিছু নয়। এখন করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে কিছু ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি এবং এই খাতের পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।
কিন্তু কীভাবে বছরের পর বছর ধরে সেখানে দুর্নীতি চলে, সেই প্রশ্নও অনেকে তুলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগে পরিচালকের কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ডা: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে টাকা বানানোর টার্গেট নিয়েই চক্র গড়ে ওঠে।
যে সেক্টরগুলোতে বেশি কাজ হয়, তার মধ্যে হেলথ সেক্টর অন্যতম। সুতরাং এই জায়গাটাকে তারা টার্গেট করে যে এখান থেকে ‘দে ক্যান আর্ন অ্যা্ লট’ এটা টার্গেট করে যারা আসে, তারা বড় বড় প্লেয়ার এবং তাদের নানা জায়গায় পরিচিতি আছে।
তিনি আরও বলেছেন, আমাদের ক্রয় সর্ম্পকিত পদ্ধতিতে দূর্বলতা আছে। আর যারা টার্গেট নিয়ে আসে, তারা খুব স্মার্ট। এদের সাথে আমাদের অধিদপ্তর বা আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ কেউ জড়িত হন। যে লোকগুলো বছরের পর বছর একই পদে থাকেন, তারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দু’টো মিলিয়ে করাপশনগুলো হচ্ছে।
সাবেক এই পরিচালক ডা: বে-নজীর আহমেদ এক শ্রেনির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতিতে জড়িত থাকার যে কথা বলছেন, অনেকটা একই তথ্য এসেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবির গবেষণায়।
সেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যখাতের ঠিকাদার বা ব্যবসায়ী, একশ্রেনির আমলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব-এই তিনটি পক্ষের সিণ্ডিকেট সেখানে কর্মকাণ্ড চালায়।
টিআইবির নির্বাহি পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সিণ্ডিকেটের লোক বদল হয়। কিন্তু একইভাবে দুর্নীতি চলতে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ক্ষমতার রদবদল কিছু না কিছু হয়। একই রাজনৈতিক দলের আমলে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ব্যক্তি ক্ষমতায় আসেন এবং প্রভাবশালী গ্রুপ তৈরি হয়ে যায়। তাদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনিয়ম হয়। সেখানে একদিক থেকে প্রশাসনের এক শ্রেনির কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। আর ঠিকাদার বা সরবারহাকারি আছে, যাদের বানোয়াট বা বাস্তব পরিচয় থাকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মহলের সাথে। এগুলোকেই পুঁজি করে চক্রজালের মতো কাজ করে। যেটাকে আমি ত্রিমুখী আঁতাত বলি।
বেনিফিশিয়ারির লিস্ট অনেক লম্বা
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়ম করে বেনিফিশিয়ারি বা লাভবান হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা অনেক লম্বা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও অনেকেই তা মনে করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রুহুল হক আওয়ামী লীগ সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনাতেই ত্রুটি আছে। সেকারণে কেনাকাটা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি থাকছে। তিনি মনে করেন, স্বাধীন একটা কমিশন গঠন করে স্বাস্থ্যখাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সার্কেলের মধ্যে বেনিফিশিয়ারির লিস্ট অনেক লম্বা। এই লিস্টের কিছু লোক পরিবর্তন হলেও বেনিফিশিয়ারিরা কোন না কোনভাবে থেকে যায়। সবাই শুধু মন্ত্রীকে জেলে দয়ে। কিন্তু মন্ত্রীর হাত দিয়ে কোন কেনাকাটা হয় না্ মন্ত্রীর বাইরে সব কেনাকাটা হয়। সুতরাং বেনিফিশিয়ারিরা কিন্তু পদ্ধতিটাকে পরিবর্তন করতে দেয় না।
অধ্যাপক হক আরও বলেছেন, হাউ টু চেঞ্জ দিজ – এখানে দুর্নীতি বলুন, হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা বলুন, অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালে কথা বলুন, আমাদের দুই মাস বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় সার্জারির সিরিয়াল পাওয়ার জন্য-এসব যাই বলুন না কেন, এগুলোর সমাধান করতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।। সেজন্য একটি কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন সময়ই স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের বিষয় আলোচনায় এসেছে।
দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, এমন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক সংস্কারের লিখিত সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দিয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু সংস্কারের প্রশ্নে কোন পদক্ষেপ নেই।
দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে ব্যবস্থাপনা বা পদ্ধতির মধ্যেই দুর্নীতির উৎস রয়েছে। তারা গবেষণায় এমন চিত্র পেয়েছেন।
আমরা এটা নিয়ে কিছুটা গবেষণা করেছি। সেখানে কিভাবে ক্রয় করা হয়, কিভাবে হাসপাতাল ম্যানেজ করা হয়, কিভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, চিকিৎসা সেবা কিভাবে দেয়া হয়-এসব বিষয়ে আমাদের টিম দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছে।এই গবেষণায় স্বাস্থ্যখাতের পদ্ধতির বিচার বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছি যে ঐ পদ্ধতির মধ্যেই কিছু গোলমাল রয়ে গেছে।
ইকবাল মাহমুদের বক্তব্য হচ্ছে, পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া কোন দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সেজন্য আমরা সংস্কারের কিছু সুপারিশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, আপনাদের পদ্ধতির মধ্যে দুর্নীতির উৎস হচ্ছে এগুলো। এগুলো বন্ধ করার জন্য আপনারা রিফর্ম করতে পারেন।সেগুলো যদি আমরা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে পারতাম, তাহলে স্বাস্থ্যখাতে অর্থের অপচয় সেভাবে হতো না।
জেকেজি হেলথকেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারিতে প্রতিষ্ঠান দু’টির মালিক মো: সাহেদ এবং ডা: সাবরিনা আরিফসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিদায় নিতে হয়েছে।
কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে এর পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য ব্যয়ের বেশিরভাগই মৌখিক নির্দেশে হয়েছে। ফলে সেখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড: শাহনাজ হুদা সুশাসনের জন্য কাজ করেন। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যখাতে সংকটের গভীরে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একটা সিণ্ডিকেট আছে। শুধু যাদের মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, মানুষকে খুশি করার জন্য তাদের শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এর উৎসতো অনেক গভীরে।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি: শাস্তির নজির নেই
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়মের ব্যাপারে কখনও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে-এই খাতের সাথে সম্পৃক্তরাও এমন প্রশ্নের জবাব মিলাতে পারছেন না।
করোনাভাইরাস সর্ম্পকিত সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ মনে করেন, কখনও কঠোর শাস্তি না হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে এবং এখন তার প্রকাশ ঘটেছে।
দুর্নীতি যারা করছে, তারা ইচ্ছামত করছে। কোন শাস্তি হয় না, পার পেয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তারা বেপোরোয়া হয়েছে। এখন দুর্নীতি করলে কোন অসুবিধা যদি না হয়, তাহলেতো তারাতো চালাতেই থাকবে। সেটাই হয়েছে।সেটা আগেও ছিল এবং এখনও আছে। সমস্যা হয়েছে, করোনাভাইরাস আসায় এটা উন্মোচিত হয়ে গেছে। এটুকুই পার্থক্য। আর কিছু নয়।
এখন প্রকাশ হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। এর আগে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের পর্দা কিনতেই হাজার হাজার টাকা ব্যয় করাসহ নানা অভিযোগে ১১টি মামলা নিয়ে দুদক কাজ করছে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা থাকছে বলে তার ধারণা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে বলে আমার মনে হয় না। আমার মনে হয়, আমরা যারা ইমপ্লিমেন্টেশনে আছি, তাদেরই সমস্যা। যেমন আপনি দেখেছেন যে মশারি-বালিশ এ সকল ক্রয়ে অনিয়ম। এগুলোতো প্রকল্পে ছিল। প্রকল্প তৈরি হয় কোথায়- অধিদপ্তরে, সেখান থেকে মন্ত্রণালয় তারপর প্ল্যানিঙসহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। সবাই কিন্তু তা দেখছেন। তাহলে এত চোখ এড়িয়ে কিভাবে বালিশের দাম এত নির্ধারিত হয়ে যায়। এখানেই সমস্যা।
তবে সরকারের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরাই বলেছেন, এখন স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং এখনই সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সংস্কারের পদক্ষেপ নেবে কে?
সেখানে প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। তারা সেই অপেক্ষাতেই আছেন বলে মনে হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ.ফ.ম. রুহুল হক বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে স্বার্থান্বেষীদের সিণ্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পুরো এই খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে পদক্ষেপ নেবেন-এমন আশায় তিনি রয়েছেন।
ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের কথা যা বলছি,তাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন, তিনি যদি কনভিন্সড হন যে আমি একটি নতুন ব্যবস্থাপনার কথা বলছি এবং আলোচনা করতে বলেন। তাহলে তা হবে।
একইসাথে তিনি বলেছেন, আমি খুব আশাবাদি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রতিদিনই খুব কাছ থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দেখছেন। সুতরাং আশাবাদি যে পরিবর্তন আসবে। এটা আমার ধারণা।
সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী মনে করেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক দিক থেকেও বিবেচনা করলে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরণের সংস্কার কার্যক্রম নেয়া প্রয়োজন।
তবে শেষ পর্যন্ত এসব কথার কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ রয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D