বেশি চাপাচাপি করলে সব ফাঁস করে দেব, হুমকি পাপিয়ার

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

বেশি চাপাচাপি করলে সব ফাঁস করে দেব, হুমকি পাপিয়ার

জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় গোয়েন্দা পুলিশকেই (ডিবি) হুমকি দিয়ে বসলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। তিনি বলেন, বেশি চাপাচাপি করবেন না, আর করলে সব ফাঁস করে দেব। আমি যা করেছি তার থেকে অনেক বেশি আমার সঙ্গে হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছি। কিন্তু মনোয়ন পাইনি, মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়া কথা বলে যারা টাকা নিয়েছিলেন, তারা ফেরত দেননি। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেক প্রতারণার অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমিই প্রতারণার শিকার হয়েছি। তাই পরে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েকজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেছি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া বেশ কয়েকজনের নামও বলেছেন। তবে এসব নাম প্রকাশ করতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রাজি হননি। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পাপিয়ার আরেকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে ডিবি।

রাজধানীর ফার্মগেটে পাপিয়ার আরও একটি আস্তানা পেয়েছে র‌্যাব। ওখানে তিনি মাসে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ভাড়া দিলেও ওই ফ্ল্যাটে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল না। ফ্ল্যাটটিতে মাঝে মধ্যে ফুর্তির আসর বসত। সেখানে অনেক নেতা ও আমলা আসতেন বলে গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন পাপিয়া। এরই মধ্যে ডিবি পুলিশ ওই ফ্ল্যাট পরিদর্শন করেছে। ভবনটির কেয়ারটেকারের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

কেয়ারটেকারের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, মাঝে মধ্যে রাত ১২টা থেকে ১টার দিকে সাত থেকে আটজন নারী নিয়ে ফ্ল্যাটটিতে আসতেন পাপিয়া। নিজের গাড়িতে করেই তিনি আসতেন, আবার কখনো অন্য কেউ এসে তাকে নামিয়ে দিয়ে যেতেন। রাতে আসলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত তিনি থাকতেন। ভবনটির কেয়ারটেকার বলেন, ‘পাপিয়া ম্যাডাম অনেক সময় বড় স্যারদের নিয়ে আসতেন।’ এসব স্যারের কয়েকজনের নামও বলেছেন কেয়ারটেকার।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর শেরে বাংলা নগর থানায় দুটি এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়।

পৃথক তিন মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে পাপিয়া তার বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে অবাক করার মতো নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়াও তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে এ দুজনকে ফের ৫ দিনের রিমান্ডে দেন আদালত।