সিসিক নির্বাচনে স্থগিত দুটি কেন্দ্রে ৪৭৮৭ ভোটের মধ্যে ১৬২ ভোট পেলেই আরিফ বিজয়ী

প্রকাশিত: ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৮

নিজাম ইউ জায়গীরদার : সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। বেসরকারি ফলাফলে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ঘোষিত ফলাফল থেকে তথ্য জানা যায়।

ভোট স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭। সেখানেও আরিফুল শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেটে কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সোমবার বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। দিনভর ভোট গ্রহণে নানা অভিযোগ করেন সদ্যবিদায়ী এই মেয়র।

বিএনপির পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরের দিকে অভিযোগ করা হয়, অন্তত ৪১টি কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা। তারা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও জানানোর কথা বলেন।

বিএনপি প্রার্থীর বক্তব্য এবং অন্য দুই সিটির নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে এমন ধারণা অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়, হয়তো সিলেটও শাসক দলের দখলে যাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই চমক দেখা যায়। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হয়েছে, তাতেও এগিয়ে যান আরিফুল হক চৌধুরী।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সোমবার রাতে তিনি এই আবেদন করেন বলে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

আবেদনে তিনি ১০-১২টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে ফলাফল ঘোষণায় ধীরগতির নীতি অবলম্বন করেন বলে জানা গেছে।

ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করার পর নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই প্রার্থীর সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক ‘কারচুপির’ অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ। সে জন্য তারা বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ফল ঘোষণা স্থগিত করে।

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালে আওয়ামীলীগের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সন্ধ্যা থেকেই ফলাফল ঘোষণা চলছিল। রাত ৯টায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের সিলেট নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ইসিকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। মাইকে ঘোষণায় বলা হয়, ‘এখন এখান থেকে আর কোনো ফল দেওয়া হবে না। আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কারচুপি চলছে, আপনারা সবাই সেখানে চলে যান। আমাদের নেতা মিসবাহউদ্দিন সিরাজও সেখানে গেছেন। সুষ্ঠু ফলের জন্য সেখানে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।’ এই ঘোষণার পরই কার্যালয় ত্যাগ করতে থাকেন নেতাকর্মীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট