|
প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬
চার দিন ধরে নিখোঁজ সাত মাস বয়সী পার্সিয়ান জাতের পোষা বিড়াল ‘মিরুশি’। প্রিয় বিড়ালটির সন্ধানে মাইকিং করিয়েছেন দুই বোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট দিয়ে সন্ধানদাতাকে ঘোষণা করেছেন ৫ হাজার টাকা পুরস্কার। প্রিয় পোষ্যকে ফিরে পেতে এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার দুই বোন হাবিবা ইসলাম ও আয়শা ইসলাম।
ঘটনাটি কুলাউড়া পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপুর এলাকায়। হাবিবা ও আয়শা ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বাসায় ‘মিরুশি’ ছাড়াও দেশি-বিদেশি জাতের আরও সাতটি বিড়াল রয়েছে।
হাবিবা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁর ছোট বোন আয়শা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) অধ্যয়নরত।
গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে নিখোঁজ হয় পুরুষ বিড়াল ‘মিরুশি’। হাবিবা বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘নিখোঁজ সংবাদ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। এতে জানানো হয়, মিরুশির গায়ের রং সাদা ও হালকা ধূসর মিশ্রিত। শরীর ও লেজে ঘন, লম্বা পশম রয়েছে। কেউ বিড়ালটির সন্ধান দিতে পারলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
দুই বোন জানান, ৪ অক্টোবর তাঁদের বাসায় কয়েকজন অতিথি এসেছিলেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর মিরুশিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
তাঁদের ধারণা, অতিথিরা আসার সময় বাসার প্রবেশ ফটক খোলা থাকায় ওই সুযোগে মিরুশি বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। পরে স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় এক তরুণকে একটি বিড়াল বুকে জড়িয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। তবে ওই তরুণকে চিনতে পারেননি ওই ব্যক্তি।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পাশের এক আত্মীয়ের বাসায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখেন দুই বোন। ফুটেজে এক তরুণকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর কাছে বিড়াল ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। এরপর মিরুশির সন্ধানে লস্করপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাইকিং করান তাঁরা।
শহরের বাসস্ট্যান্ডেও মিরুশির সন্ধানে যান দুই বোন। বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ৫ অক্টোবর এক তরুণকে একটি বিড়াল কাঁধে নিয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। জিজ্ঞাসা করা হলে ওই তরুণ নাকি রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘এইটা শিক্ষিত বিড়াল।’
এই তথ্যের সঙ্গে নিখোঁজ মিরুশির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাবিবা বলেন, “বিড়ালের সন্ধানে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবার সহযোগিতা চেয়েছি। সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করব।’
হাবিবা ও আয়শা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁরা বিড়াল পোষেন। তাঁদের চার বোন ও এক ভাই। ছোটবেলায় দুই বোনের দুটি দেশি বিড়াল ছিল।
একবার তাঁদের বাবা রাগ করে বিড়াল দুটিকে বাড়ি থেকে দূরে ফেলে রেখে আসেন। স্কুল থেকে ফিরে বিড়াল দুটিকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই বোন। পরে বাবা তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বিড়াল দুটিকে খুঁজতে বের হন। প্রথমে একটি এবং সাত-আট দিন পর অন্য বিড়ালটিরও সন্ধান পাওয়া যায়। সেই স্মৃতি এখনো মনে আছে দুই বোনের। গত দুই বছর ধরে তাঁরা পার্সিয়ান জাতের বিড়ালও পালন করছেন।
বর্তমানে তাঁদের চারটি পার্সিয়ান ও চারটি দেশি জাতের বিড়াল রয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা মুরগির মাংস সেদ্ধ করে খাওয়ানোর পাশাপাশি বিড়ালগুলোকে ক্যাট ফিড দেওয়া হয়। কুলাউড়ায় ক্যাট ফিড পাওয়া না যাওয়ায় কয়েক দিন পরপর সিলেট নগরে গিয়ে তা কিনে আনতে হয়।
হাবিবা বলেন, ‘চার দিন ধরে মিরুশি নিখোঁজ। আমাদের মনটা মোটেই ভালো নেই। অনেকে বিড়াল পোষার কথা শুনে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে নানা মন্তব্য করেন। এটা খুব কষ্ট দেয়। তবে অনেকে আমাদের পোস্ট শেয়ার করছেন। সবার সহযোগিতায় মিরুশিকে খুঁজে পাব- এই আশায় পথ চেয়ে আছি।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
দুই বোন কুলাউড়া থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বলেন, “আমরা নিখোঁজ বিড়ালটির ছবি ও দুই বোনের নাম-ঠিকানা রেখেছি। বিড়ালটির সন্ধানে চেষ্টা চলছে।”

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D