দীর্ঘদিন পর খুলছে সিলেটের জালালাবাদ পার্ক

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

দীর্ঘদিন পর খুলছে সিলেটের জালালাবাদ পার্ক

দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে সিলেট নগরীর জালালাবাদ পার্ক। তবে এবার পুরোনো রূপে নয়। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নতুন সাজে উন্মুক্ত করা হবে নগরবাসীর জন্য।

পার্কটিকে শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি থাকবে বসার ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশ। সংস্কার করা হবে পার্কের গেট ও সীমানা প্রাচীরও।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পার্কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সিসিক প্রশাসক বলেন,“জালালাবাদ পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানো হবে।

তিনি বলেন, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। নগরবাসী যেন এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।

পার্কের সীমানাপ্রাচীর নিয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসক বলেন, বর্তমান গেট ও সীমানাপ্রাচীরের কারণে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই দেয়াল ও গেট সংস্কার করা হবে। বাইরে থেকেও যেন পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষ হাঁটতে যান। অবসর সময় কাটান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কার শেষ হলে নগরবাসীকে এখানেও অবসর সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য আসার আহ্বান জানানো হবে।

তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটাচলা ও মুক্ত বাতাসে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ পার্কটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত। নগরবাসীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। তাই পার্কটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পার্কটির অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বীন ব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের পর এটি নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্ককে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট