নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বেড়াজালে বন্ধী শাহজালাল সারকারখানা

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বেড়াজালে বন্ধী শাহজালাল সারকারখানা

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়াজালে নিমজ্জিত সিলেটের ফেন্চুগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহত্তম সার উৎপাদনকারি প্রতিষ্টান শাহজালাল (রঃ) সারকারখানা। বার্ষিক প্রায় ৫৭০০০০ মে. টন সার উৎপাদনকারি এই কারখানায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অনৈতিক কর্মকান্ড ছিল সীমাহীন। অনুসন্ধানে সারকারখানাটির পাহাড়সম অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অনিয়মের ‘নীল নকশা’ বজায় রাখা হয়েছে।

জিএম একাউন্ট, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, জিএম কমার্সিয়ালসহ অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় একই পদে বহাল থেকে তাদের নিজস্ব বলয় তৈরি করে অবৈধ সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত।

সূত্র জানায়, সার পরিবহন প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভুগিদের সুযোগ করে দিতে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশি দুরত্বের বাফার গোডাউনে সার পরিবহন করার ফলে টন প্রতি পরিবহন খরচ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ করা হয়। দেশের মধ্যাঞ্চল আশুগঞ্জ জোনের বাফার গোডাউন গুলোতে সার পরিবহন করা অনেক সাশ্রয়ী ও সহজ হলেও সিন্ডিকেটের কারনে তা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর যাবত দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না দেওয়ায় ফ্যাসিস্টদের দোসররা চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয়ভাবে মব তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হাস্যকর মুল্যে লৌডিং ঠিকাদার নিয়োগ (যেমন প্রতি টন ৪ থেক ৫ টাকা) করে বখসিসের নামে প্রতি গাড়ি থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা আাদায়ের মাধ্যমে লৌডিং প্রক্রিয়া চালানো হয়। বর্তমান প্রশাসনের সিন্ডিকেট সদস্যরা চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে এবং ট্রাকচালক এই চাঁদা না দিলে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অত্যাচার করে।

সূত্র জানায়, নদী পথে সার পরিবহন অনেক সাশ্রয়ী হওয়া সত্বেও সিন্ডিকের কারনে নদী পথে সার পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। রেল পথে সার পরিবহনের সকল সুবিধা থাকার পরেও সিন্ডিকেটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে।

জরুরি দপ্তর যেমন মেডিকেল শাখায় ২৪ জনের মধ্যে ৩ জন, নিরাপত্তা শাখায় ৭৪ জনের মধ্যে ২৩ জন, স্কুল কলেজে শিক্ষকসহ জনবল সংকটের কারণে জরুরি সেবা কার্যক্রম প্রবলভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র জানায় এমোনিয়া গ্যাস সরবরাহ ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নিতীবাজ ফ্যাসিস্টদের সুযোগ বহাল রাখতে, সরকারি ভাবে এস এফ সি এল কর্তৃপক্ষ সিলিন্ডার আমদানির মাধ্যমে নিজস্ব সিলিন্ডারের মাধ্যমে এমোনিয়া গ্যাস বিক্রয় প্রক্রিয়া অনেক লাভজনক হলেও এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

১৯৬১ সালে নির্মিত পুরোনো বাজারে কারখানা কর্তৃপক্ষের চাঁদাবাজি এবং ফ্যাসিস্ট আমলের অবৈধ দোকান মালিকদের বহাল রাখতে, প্রকৃত ব্যাবসয়িদের চাহিদা থাকা সত্বেও এস এফ সি এল বাজার নতুন সেডে স্তানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সার উৎপাদন ও পরিবহনে স্বচ্ছতা এবং সার চুরি প্রতিরোধ করতে বিগত চার বছর আগে ওজন স্কেল স্তাপন করা হলেও আজও সম্পূর্ণ হয়নি।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীর বাড়ি সিলেট জেলায় হওয়ার পরেও উক্ত মন্ত্রনালয়ের অধিনস্ত বিসিআইসির এই প্রতিষ্ঠানে নীতিনৈতিকতা বহির্ভুত কার্যক্রম জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় উপরোক্ত বিষয়গুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনিত অনুরোধ করেছেন স্থানীয়রা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট