কমলগঞ্জে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে সন্তানকে হত্যা, ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

কমলগঞ্জে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে সন্তানকে হত্যা, ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ডের রায়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যা সন্তানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাবা শরীফ আলীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর পূর্ব ভানুবিল গ্রামে নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু রুনা বেগমকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার জন্মদাতা বাবা শরীফ আলী।

পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুবিল গ্রামের শরীফ আলী তার চাচাত ভাইয়ের সাথে জমি নিয়ে রিরোধের জেরে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের উপর দায় চাপান। বিষয়টি টের পেয়ে শরীফ আলীর স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই ঘটনার রায়ে মৌলভীবাজারে দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নিষ্ঠুর পিতার মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন।

পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী সালেক মিয়াকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাতক বাবা নিজেই নিজ সন্তানকে হত্যা করে। পরবর্তীতে বাবা শরীফ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বিবরণ দেয়।

দন্ডপ্রাপ্ত শরীফ আলী কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে।

ঘটনার পর নিহত শিশু রুনার মা ও আসামির স্ত্রী নেকজান বিবি বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ বছর পর আদালত আসামি শরীফ আলীকে মৃত্যুদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে এই রায় প্রদান করেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট