|
প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬
সুনামগঞ্জে সতীনের মেয়েকে নদীতে ফেলে খুনের অভিযোগে সৎ মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম আছিয়া বেগম (৫০), তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামের মো. তাজ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিহত শিশু জাকিয়া আক্তার নিহা (৭) এর খুনের অভিযোগে সৎ মা আছিয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের এ তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আছিয়া বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মাথায় শয়তান ভর করায় তিনি এই কাজ করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদারগাঁও গ্রামের তাজউদ্দীন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভের পাঁচ সন্তান রয়েছে। জাকিয়া আক্তার নিহা চার নম্বর সন্তান। ৪ বছর পূর্বে তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের আছিয়া বেগমকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। আছিয়া বেগমের কোন সন্তান নেই।
গত ১৭ আগস্ট রোববার সকাল ১১ টার সময় আছিয়া বেগম সতীনের মেয়ে জাকিয়া আক্তার নিহাকে নিয়ে বাড়ী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সুরমা নদীতে গোসলে যেতে চাইলে তাজউদ্দিন নিষেধ করেন। কিন্তু আছিয়া বেগম নিষেধ অমান্য করে নিহাকে গোসল করানোর নামে সুরমা নদীর তীরে নিয়ে যায় এবং খুন করে তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। ওই দিন দুপুরে তাজ উদ্দিন তার মেয়ে নিহাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু স্ত্রী কোন সদুত্তর দিতে পারেননি, মেয়েকে কোথাও না পাওয়ায় তিনি ওই দিন সদর থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন ১৮ আগস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও নিহার কোন সন্ধান পায়নি। ঘটনার দুই দিন পর গতকাল ১৯ আগস্ট বুধবার সকালে সুরমা নদীর রাজারগাঁও গ্রামের পাশের নিখোঁজ নিহার লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। এরপর চাপ প্রয়োগ করলে আছিয়া বেগম সতীনের মেয়ে নিহাকে খুন করে সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং কৌশলে আত্মগোপনে চলে যায়। মেয়ে নিহা খুনের ঘটনায় স্ত্রী আছিয়া বেগমের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের তাজ উদ্দিন। এরপর পুলিশ গোদারগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে আছিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে।
সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এস আই) অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, গ্রেফতারকৃত আছিয়া বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে স্বীকার করেছে সতীনের মেয়েকে খুন করে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। জিজ্ঞাসবাদ শেষে তাকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D