ছাতকে ২০ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬

ছাতকে ২০ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের ছাতকে ২০ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মরম আলী (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাবনগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মরম আলী ওই গ্রামের মৃত হবিবুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলামের ২০ মাস বয়সী শিশু কন্যা তাবাসুম জান্নাতকে তার বসতঘরে নিয়ে যায় মরম আলী। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে একটি চৌকির ওপর শিশুটিকে শুইয়ে তার পরনের কাপড় খুলে ধর্ষণ করে সে।

এ সময় শিশুটির মা ঝুমা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে মরম আলীকে শিশুটির ওপর নির্যাতন করতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত মরম আলী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দ্রুত ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট ছাতক থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৪। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছাতক থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সালাউদ্দিন মোল্লা।

মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ছাতক থানা পুলিশ। পরে সোমবার রাতে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাবনগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২০ মাস বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এদিকে এত অল্প বয়সী শিশুর ওপর এমন গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা ও আসামির অপরাধ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।