সিলেটে মামলায় নিখোাঁজ ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির ৩৮ নেতা খালাস

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

সিলেটে মামলায় নিখোাঁজ ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির ৩৮ নেতা খালাস

যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো ও হত্যা মামলায় বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী সহ ৩৮ নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এই মামলার আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮জন আসামি।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

মামলার সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব-০২০১৩৩) যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো এবং একই সঙ্গে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস (সিলেট-জ-১১-০৩৪৪) ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত হন চিত্র নায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী নাছির (৭০)। যার পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বেওয়ারিসভাবে লাশ দাফনের ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১, জানুয়ারি।

নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক নারী দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা।

জ্যোৎস্না বেগম নামে ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের নাম কাজী নাছির (৭০)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে নাছিরের পরিচয় শনাক্ত করেন। তিনি চিত্রনায়িকা শাবনুরের বাবা। কাজী নাসিরের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন জ্যোস্না।

জোৎস্না পুলিশকে জানিয়েছিলেন, নাছির তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী শাবনুরের মা। সর্বশেষ মৌলভীবাজারে স্বপ্না বেগম নামে একজনকে বিয়ে করেন নাছির।

জোৎস্না বেগম জানান, মৌলভীবাজার ও সিলেটে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৪ ডিসেম্বর নাছির বাড়ি থেকে রওনা হন। ১৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সিলেটে আসছিলেন।

ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুর বদিকোনা এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসের মধ্যেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। দুইদিন পর ২০ ডিসেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ওই ব্যক্তির লাশ নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত সাংবাদিকদের জানান, সকালে নিহতের স্ত্রী জ্যোৎস্না থানায় এসে লাশটি তার স্বামীর বলে জানান। পায়ের জুতা ও মুখমণ্ডলের ছবি, হাতের ঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন তিনি।

গাড়িতে আগুনের ঘটনায় ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি মামলা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদি হয়ে হত্যা মামলা (৭৮৮/২০১৬) এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন। মামলায় ১৪৩, ৩৪১, ৪৩৫, ৪২৭, ৩০২, ৩৪ দণ্ডবিধির ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আসামিরা হলেন- বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, কোহিনুর (৩৮), আশিক (৩৫), মকছুদ আহমদ (৩৩), রাসেল (২৮), তোরন (৩০), সামছুল ইসলাম টিটু (৩১),এমএ মান্নান, অলিউর রহমান, কামাল হোসেন, রুবেল আমিন সুমন (কাউয়া সুমন), তোফায়েল আহমদ সুহেল, শরিফ আহমদ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত, সুহেল, মো. কামরুজ্জামান, আজমল বখত সাদেক, শাকিল মোর্শেদ, শাহাব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, শামীম (২৯), তাজুল ইসলাম (৩৯), আলী মিয়া (২৫), হোসেন আহমদ (২৬), ছালেক আহমদ (২৯) জোবায়ের আহমদ (২৮), ফখরুল ইসলাম ফারুক ওরফে টাকু ফারুক (৫৫), লুৎফুর রহমান (৩৮), মো. জাহেদ হোসেন (২৮), জালাল আহমদ (৪০), মুসা মিয়া (৩০), জিহাদ চৌধুরী (১৮), মো. আব্দুল মজিদ (৪২), মজম্মিল আলী (৩০), আঙ্গুর মিয়া (২৫) ও সুহেদুর রহমানকে (৩২)।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট