সিলেটে ধীরে কমছে বন্যার পানি, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৪

সিলেটে ধীরে কমছে বন্যার পানি, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ

প্রতিদিনই সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বসতবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। নতুন করে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন আরও ৬ হাজার মানুষ। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বন্যার্ত মানুষ। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সিলেটের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) ভোর রাতে অল্পকিছু সময় বৃষ্টি হলেও সিলেট মহানগরেরও বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামছে দ্রুত। তবে অনেক নিচু এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি থেকে পুরোপুরি পানি নামেনি এখনো।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোকালয় থেকে পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বসতবাড়িতে ফিরছেন বাসিন্দারা। তবে যারা বাড়ি ফিরেছেন তারা পোহাচ্ছেন নানা ভোগান্তি। তবে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে এখনও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে পানি রয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের সোমবার সকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আজ পর্যন্ত সিলেটে ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। তাছাড়া জেলার ২৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩ হাজার ২০৯জন মানুষ অবস্থান করছেন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে। পৌঁছানো হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধপত্র।

এদিকে পানি কমার সাথে সাথে দুর্ভোগও বাড়ছে বাসিন্দাদের। অনেক জায়গায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। রান্না-বান্নায়ও কষ্ট হচ্ছে বন্যার্তদের।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায় সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরআগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে সোমবার সকাল থেকে একই অবস্থায় রয়েছে। সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে। বিকেল ৩টায়ও একই অবস্থায় রয়েছে। রোববার এ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সকাল ৬টায় ১০ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকেল ৩টায় সেটি আরও বেড়ে ১০ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। বিকেল ৩টায় তা আরও বেড়ে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে রোববার ছিল বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে। কুশিয়ারার পানির ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সকাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। বিকেল ৩টায়ও একই অবস্থায় রয়েছে। রোববার এ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপরে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জের ওপর দিয়ে জুড়ি নদী, শেরপুরের ওপর দিয়ে মনু নদী কুশিয়ারা নদীতে যুক্ত হয়। তাই কুশিয়ারা নদীর পানি নামার হার ধীরগতির। এছাড়া নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব এলাকা প্লাবিত তাই পানি ধীরগতিতে নামছে। এখন বৃষ্টিপাত কমে গেলেও সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিন রোদ হলে বন্যার পানি কমে যাবে।

এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান এক ক্ষুদে বার্তায় বলেছেন, আগামী ২৮ জুন সিলেটে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই সকল প্রকার প্রস্তুতি রাখতে হবে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আশা করি পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না।

এরআগে ১৭ জুন ভোররাত থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়। এদিন বিকালে বৃষ্টি থামলে ধীরে ধীরে কিছুটা কমে পানি। তবে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের শুরু হয় বৃষ্টি। উজানেও বৃষ্টিপাত হয় প্রচুর। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি। এ অবস্থা চলমান থাকে পরবর্তী ৩ দিন। একপর্যায়ে সিলেটজুড়ে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১০ লাখে। তবে গত তিন দিন ধরে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হচ্ছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট