সমাবেশে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা ঘোষণা বিএনপির

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

সমাবেশে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা ঘোষণা বিএনপির

Manual1 Ad Code

ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ ১০ দফা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে দলটির বিভাগীয় সমাবেশে এই ঘোষণা দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এর আগে নয়টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশের সময় জানানো হয়েছিল, ঢাকার এই সমাবেশ থেকেই তাদের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করা হবে।

Manual2 Ad Code

তারা বলেছিলেন,এই সমাবেশে দফার ‘চার্টার্ড অব ডিমান্ড’ ঘোষণা করা হবে, যার লক্ষ্য হবে ‘সরকারের পতন ঘটানো’।

এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি গত আড়াইমাস ধরে দেশ জুড়ে যে সমাবেশ কর্মসূচী পালন করে আসছিল, তা শেষ হলো।

বহু টানাপোড়েনের পর যেসব শর্তে বিএনপিকে গোলাপবাগের মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।


বিএনপির ১০ দফা হলোঃ

১. বর্তমান জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ক্ষমতাসীন সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।


২. ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সংযোজিত ধারা ৫৮-খ, গ ও ঘ’-এর আলোকে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার/অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন।

Manual2 Ad Code


৩. নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ সরকার/অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্ববধায়ক সরকার বর্তমান অবৈধ নির্বাচন কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, উক্ত নির্বাচন কমিশন অবাধ নির্বাচনের অনিবার্য পূর্বশর্ত হিসাবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে আরপিও সংশোধন, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও পেপার ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা।


৪. খালেদা জিয়াসহ সব বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী, সাংবাদিক এবং আলেমদের সাজা বাতিল, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক কারাবন্দীদের অনতিবিলম্বে মুক্তি, দেশে সভা, সমাবেশ ও মত প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি না করা, সব দলকে স্বাধীনভাবে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসন ও সরকারি দলের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করা, স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে নতুন কোনো মামলা ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার না করা।


৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সব কালা-কানুন বাতিল করা।


৬. বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও পানিসহ জনসেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল।


৭. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে সিন্ডিকেট মুক্ত করা।


৮. গত ১৫ বছর ধরে বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত ও শেয়ার বাজারসহ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্নীতি চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন/দুর্নীতি চিহ্নিত করে অতি দ্রুত যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।


৯. গত ১৫ বছরে গুমের শিকার সব নাগরিককে উদ্ধার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা।


১০. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সরকারি হস্তক্ষেপ পরিহার করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।

Manual4 Ad Code



 

Manual1 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code