শিশুর সঙ্গে বাবা-মা’র আচরণ কেমন হওয়া উচিত

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২

শিশুর সঙ্গে বাবা-মা’র আচরণ কেমন হওয়া উচিত

Manual5 Ad Code

একটি শিশুকে পূর্ণভাবে গড়ে তোলার জন্য মা-বাবার ভূমিকাই প্রধান। তার হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথা বলা, নিয়মানুবর্তিতা, পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। এছাড়া শিশুর মানসিকতা বুঝে সেই অনুযায়ী তার সঙ্গে মা-বাবা’র আচরণ করতে হবে।

বাব-মা রা এখনো নিজ সন্তানের লালন-পালন নিয়ে সংশয়ে ভোগেন। বাংলাদেশে এক সময় কঠোর শাসনে সন্তান লালন-পালনের নিয়ম প্রচলিত থাকলেও ধীরে ধীরে সেই ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন আধুনিক বাবা-মা। কিন্তু নতুন লালন-পালনের এই নিয়মগুলো নিয়ে রয়ে গেছে অনেক সংশয়।

ইদানীং সব পরিবার ছোট হয়ে আসায় শিশুর দেখাশুনার মূল দায়িত্ব একাই পালন করে যান মা। আর বাবা-মা উভয় কর্মজীবী হলে এর ফল আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

Manual4 Ad Code

সারাদিন শেষে বাবা-মাকে পেয়ে শিশুরা বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাবার পাশাপাশি কখনো কখনো খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠে। বিষয়টিকে সামলাতে মাঝে মধ্যে মা-বাবা বকা দেন শিশুদের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শিশু বিষয়ক সংস্থা আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিকস জানায়, এটি করলে শিশু আরো বেশি খিটখিটে মেজাজের হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের ব্যক্তি ও মানসিক গঠনে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসে বাবা-মার এমন আচরণ।

তাহলে বকা না দিয়ে কিভাবে আপনার শিশুর আচরণকে পরিবর্তন করবেন?

Manual5 Ad Code

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাঁচটি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে-

প্রথমে বলা হয়েছে, শিশুকে রক্ষা করতে বকা দেয়া এবং শিশুর ওপর রাগ দেখিয়ে বকা দেয়ার মধ্যে পার্থক্যটা বাবা-মাকে আগে বুঝতে হবে। শিশুর ওপর কখনই রাগ প্রকাশ করা যাবে না। সেটা আপনার যতই কষ্ট হউক। সেই সঙ্গে শিশুকে বকা দেয়ার পর বোঝাতে হবে, কেনো বকা দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, যখন আপনি নিজের রাগ সামলাতে পারবেন না, তখন নিজের কপাল চেপে ধরুন। সমাধানটি আপাতত দৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। কেননা আমাদের ‘লিম্বিক সিস্টেম’ থেকে রাগের জন্ম। আর সে কারণেই কপাল চেপে ধরলে আপনার রাগ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। আপনার রাগ কিছুটা কমলে ভেবে দেখুন, আসলে আপনি কী করতে চান? তারপর সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করুন।

তৃতীয়ত, নিজেকে আটকে রাখুন। এটি আসলে নিজের রাগকে সামলানোর সবচাইতে সফল পদ্ধতি। কার্লা নামবার্গ জানান, আপনি রেগে গেলে তখন ভিন্ন কিছু করুন। যে বিষয় নিয়ে আপনি রেগে আছেন তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে আপনি চুপ করে বসে পড়ুন। বেশি রাগ হলে হাত উপরে তুলে আত্মসমর্পণের মত করে ধরে রাখুন। বড় করে নিঃশ্বাস নিন। অথবা অদ্ভুত ও হাস্যকর কিছু করুন। এতে করে আপনার রাগ কমবেই। সঙ্গে সঙ্গে হয়ত আপনার শিশুও তার বিরক্তিকর কাজ বন্ধ করে আপনার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে।

চতুর্থ পরামর্শ হলো, শান্ত গলায় কঠিন কথাটি বলুন। আপনার শিশুর কোন আচরণ পছন্দ না হলে বা তা ঠিক না হলে বাবা-মার কর্তব্য তাকে সাবধান করা। কিন্তু সেটি চিৎকার করে না বলে শীতল গলায় বলুন।

Manual1 Ad Code

সর্বশেষ পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে, বারবার আপনার সন্তানকে বলে যাওয়া এবং শিখিয়ে যাওয়া। শিশুকে কিছু বললেই সে শিখে নিবে এমন নয়। তাই আপনাকে বারবার বলে যেতে হবে, চেষ্টা করে যেতে হবে। আর বারবার চেষ্টা করার পরও শিশু আপনার কথা না শোনার অর্থ এই নয়, যে মা-বাবা হিসেবে আপনি ব্যর্থ। বরং ভিন্ন ভাবে, নতুন করে আপনাকে চেষ্টা করে যেতে হবে। ধৈর্য হারাবেন না।


Manual5 Ad Code


Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code