কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদের আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রকাশিত: ১:৩২ পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০২০

কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদের আবেগঘন স্ট্যাটাস


সিলেট সংবাদ ডেস্ক : কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম। বিশ্ব মোড়লদের কাটছে নির্ঘুম রাত।করোনা প্রাদুর্ভাব নিরাময় প্রতিষেধক উৎপাদনে হিমশীম খাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারও গ্রহণ করেছে নানামুখী পদক্ষেপ। সরকারি কঠোর নির্দেশনায় পরিবার পরিজনের মায়া বিসর্জন দিয়ে মাঠে-ঘাটে রাত্রিযাপন করছে সশস্ত্র বাহিনী’সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বৃন্দ। ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন মানবিক ডাক্তারগণ। ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দূরত্বের চরম বিগ্ন ঘঠবে ও আক্রান্তের ঝুকি প্রায় নিশ্চিত জেনেও সহসাই বিতরণে অংশ নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।সরকারী নির্দেশনায় লকডাউনে আটকে পড়া অসহায় ও নিম্ন আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় স্হানীয় সরকারে প্রতিনিধি মারফত স্থানীয় সরকার ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন ।সেই ত্রাণ বিতরণ করে কোন কোন জনপ্রতিনিধি প্রচার করেন সংবাদ মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।

দেশব্যাপী বিতরণকৃত চাল সংখ্যায় কম হলেও কিছু জনপ্রতিনিধি করছে চাল আত্মসাৎ ও অনিয়ম। সরকার প্রয়োজনীও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সেই সুযোগে ফেইসবুক সরগরম করছে সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। শতকরা প্রায় ৯৫/৯৭% জনপ্রতিনিধি সুষ্ঠভাবে ত্রাণ বণ্টন করলেও সংবাদ মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক প্রচারে কারো রয়েছে তাদের ব্যক্তিগত অনিহা।
সেই সুযোগে সঠিক তত্ত্ব-উপাত্ত্ব না জেনে কেউ কোয়ারেন্টাইনে ঘরে বসে, আবার কেউ প্রবাসে থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন অহেতুক মনগড়া অপপ্রচার। সেই অপপ্রচার থেকে বাদ পড়েননি কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনও। তাই নিজের ফেইসবুক ওয়ালে দেন আবেগঘন স্ট্যাটাস। সেই স্ট্যাটাসে পঞ্চমুখ শুরু হয় সর্বত্র। নিম্নে সিলেট সংবাদ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার ফেসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের কিছু ফেইসবুক ব্যবহাকারী ভাইগন উনাদের ফেইসবুকে আমাকে না দেখে মামুন চেয়ারম্যান উধাও কিংবা পাওয়া যাচ্ছেনা
এই দঃসময়ে এমন কথা ভাইরাল করা আদৌ ঠিক হয়নি। ভাইগনের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, প্রায় দেড় মাস থেকে কানাইঘাটে অবস্থান করছি। এর মধ্যে নিজের সন্তানদের দেখতে দু’রাতের জন্য বাসায় গিয়েছিলাম তাও UNO মহোদয়কে অবগত করে। এ পর্যন্ত ৬ষ্টবারে ইউনিয়নের ১৮০০অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণের চাল ১০কেজি করে বিতরণ করি। এসমস্ত চাল কানাইঘাট খাদ্য গুদাম হইতে নিজে উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় যেমন ৩,৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডএর জন্য ভাটিদিহি বেবি স্টেশনে, ১ ও ২ নং ওয়ার্ড এর জন্য আগ্নিপাড়া গ্রামে এবং ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড এর জন্য বীরদল পুরানফৌদে ও ৯ নং ওয়ার্ড ইউনিয়ন অফিসে আমার ব্যক্তিগত খরচে ট্রাক দিয়ে পৌছে দিই। এই ত্রাণ বিতরনী কর্মকান্ডে মাঝেমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় এবং সার্বক্ষনিক সরকারী তদারকী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমার মেম্বার সাহেবদের নিয়ে আমি সুষ্ঠুভাবে বিতরণে চেষ্টা করে আসছি।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাই যে, সরকারের নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক লোক ইউনিয়ন থেকে চাল আনবেন। কিন্ত বর্তমানে লকডাউনের কারণে যানবাহন খুবই সীমিত অর্থাৎ নাই বলে চলে এই কঠিনতম সময়ে একজন গরীব লোক কিভাবে ৪/৫ কিলোমিটার হেঠে ১০কেজি চাল ইউনিয়ন থেকে আনবেন এই কষ্ট ও আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্পূর্ণ ত্রাণ আমার নিজে খরছে ট্রাক পরিবহনের মাধ্যমে উল্লিখিত স্পটে নিয়ে যাই। এর সত্যতা দয়াকরে যাচাই করবেন।
এতকিছুর পরেও আমাকে দেখা যাচ্ছেনা, পাওয়া যাচ্ছেনা এই বিপদে উধাও শব্দগুলো শুনতে হচ্ছে। কারণ আমার কর্মতৎপরতা ফেসবুকে না আসায় এমন অপবাদ শুনতে হচ্ছে। আমার জন্য ভীষণ সত্য কথা হলো ফেইসবুকে এইসব ভাইরাল করাটা একদম পছন্দ করিনা যার কারনে নিজের ফেসবুক আইডিতে এসব কিছু পোস্ট করিনা। অপছন্দ হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজের এফবি আইডিতে এখন থেকে কিছুটা এক্টিব থাকবো।
দয়াকরে এই বৈশ্বিক চরম দুঃসময়ে কারোর বিরুদ্ধে অসত্য কথা না বলে বরং উৎসাহিত করুন। পারলে সহযোগিতার হাত বাড়ান। ভাইগন আমার জীবনে কারোর ক্ষতি করেছি বলে জানা নেই। কারোর কোন কাজ করতে গিয়ে আমার সাথে টাকার লেনদেন হয়েছে অনৈতিক এমন নজির কেউ দেখাতে পারবেনা ইনশাল্লাহ। আমাকে অনৈতিকভাবে লেনদেন করার সাহস কারোরই নাই ইনশাল্লাহ। তারপরও বদনাম থেকে রেহাই নাই। মান-সম্মান ও ইজ্জতের মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আমরা অপপ্রচারকে না বলি। এই দুনিয়া ব্যাপী অদৃশ্য মরণঘাতী করোনাভাইরাস জনিত মহামারী থেকে পরিত্রাণ পেতে আসুন আমরা মহান রবের কাছে দোয়া করি। – আল্লাহ হাফেজ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট