৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৮
সিলেট নগরীর ধোপাদীঘির পারে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ভবন পৌর বিপনী কেন্দ্র। এই ভবনের আরেক নাম সন্ধ্যা বাজার। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির দ্বিতীয় তলার পেছনের অংশে ‘ব্যাচেলার হোটেল’ নামের একটি ভবনে চলছিল মাদক, পতিতাবৃত্তিসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় অনেকটাই গোপনীয়তার সাথে এসব কর্মকান্ড সেখানে পরিচালিত হতো। পাশাপাশি চলতো ডিজিটাল জুয়া তীর শিংলয়ের কার্যক্রমও। এছাড়া ওই হোটেল থেকে পালানোর জন্য ছিল গোপন সুড়ঙ্গও।
তবে, সোমবার এই ‘মিনি পতিতালয়’ সন্ধ্যান পেয়ে সেখানে দলবল নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেখান থেকে আটকা পড়েছেন ছয় নিশিকন্যাও। তাদের হোটেলে একটি কক্ষের গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে টাকা, মোবাইল ফোন, কনডমসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে ব্যবহৃত আলামতও। জব্দ করা হয়েছে সবকটি ঘরের আসবাবপত্রাদিও। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা এই পতিতালয়ের পাশাপাশি জুয়ার আসর ‘শিলং তীর’ খেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষও উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরে ছড়া দখল করে নির্মিত অবৈধ ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। হোটেলটিতে ১৬টি কক্ষ রয়েছিল।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ‘পৌর বিপনীর পাশেই কাস্টঘর এলাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত বহুতল ভবন নির্মান কাজের অগ্রগতি দেখতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তখন বিপনী কেন্দ্রের দুই তলায় উঠার পর পেছনের অংশের ব্যাচেলার হোটেলটি দেখতে পান তিনি। এসময় ওই দিকে গেলে সেখানকার লোকজন ভেতর থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে দিলে তার সন্দেহ হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে এসব কিছু উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরো জানান, ‘পৌরবিপণী মার্কেট এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে দ্বিতীয়তলায় পেছনের অংশে নির্মিত ঘরগুলোও অবৈধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ঘরের ভেতর অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে বলে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন। তাই অবৈধ এই স্থাপনা সিটি করপোরেশন গুড়িয়ে দেবে। এছাড়া মূল হোতাদের এবং শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে সিসিকের পক্ষ থেকে মামলাও দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।’
জানা যায়, পৌরবিপনী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবৈধভাবে নির্মিত ‘হোটেল ব্যাচেলরে’ দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়ে দ্বিতীয় তলা পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় মার্কেটের পশ্চিম দক্ষিণ পাশে নির্মিত একটি ‘ব্যাচেলর হোটেলে’ গিয়ে তিনি অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। মেয়রসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই হোটেলে থাকা ৬ নারী সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে নিচের একটি রুমে আত্মগোপন করেন। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ওই রুম থেকে তাদেরকে বের করে আনেন। এছাড়া হোটেলের দুই কর্মচারীকেও আটকে রাখেন তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে দুই কর্মচারী ও ৬ পতিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বাইদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে আবদুস শহীদ ও জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর কামারপাড়ার মৃত আব্বাসের ছেলে মোস্তাক আহমদ, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের শওকত আলীর মেয়ে জ্যোতি (২৮), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর থানার পলাশ গ্রামের ঝর্ণা (১৯), গাজীপুরের শ্রীপুর থানার তাজুল ইসলামের মেয়ে আঁখি (২২), গাজীপুর সদর থানার সজিব আহমদের মেয়ে সুমি (২৮), ভোলা থানার পাটিয়া গ্রামের প্রিয়া (১৯) এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর থানার নতুনপূর্ণ গ্রামের কদ্দুস মিয়ার মেয়ে কাজল (২৪)। এসময় হোটেল থেকে জুয়া ও মাদক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোটেলের ভেতরে সুড়ঙ্গ তৈরী করে এরকম অসামজিক কার্যকলাপের পেছনের মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মেয়র আরিফের নেতৃত্বে সকাল ১১টা থেকে প্রায় চার ঘন্টাব্যাপী উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ, র্যাবসহ সিটি করপোরেশনের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি অংশ নেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D