কেমুসাস বইমেলার ১১তম দিন, শেষ হবে কাল

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০১৮

কেমুসাস বইমেলার ১১তম দিন, শেষ হবে কাল

একাদশ কেমুসাস বইমেলার ১১তম দিনে আজ শুক্রবার ছিলো স্কুল, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কিরাত প্রতিযোগিতা। এতে নগরীর ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান। বিকাল ৪ টায় বইমেলামঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত এবং শ্রেষ্ঠ একটি ঐশীগ্রন্থ। কিরাত আবৃত্তি শিল্পেরই একটি অংশ। যারা আজকে কিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তারা অবশ্যই অভিনন্দিত এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কর্তৃক একাদশ বইমেলায় কিরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় তাদেরকেও ধন্যবাদ।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী সদস্য মাওলানা ফজলুল করিম আজাদের সভাপতিত্বে এবং বইমেলা উপকমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট কারী মাওলানা মোখতার আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী পরিষদের সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষা দিয়ে আলোকিত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা অভিভাবকদের জন্য জরুরি।

মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম বলেন, আগামীতে কেমুসাস কর্তৃক শুধু স্কুল-কলেজের ছাত্রদের জন্য পৃথক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে ভালো হয়। এতে তারা বেশি উৎসাহিত হবে। জাহেদুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে এবারের মেলা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। কেমুসাস বইমেলার প্রতিযোগিতার মধ্যে এবার নতুন সংযোজন হলো কিরাত প্রতিযোগিতা, যা স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের শুদ্ধভাবে কোরআন শিখতে উৎসাহিত করবে।

কিরাত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপের ১ম স্থান অধিকার করে নাবিলা রশিদ, ২য় স্থান যৌথভাবে শাহ আলম ও আজাদ রশিদ সাফওয়ান, ৩য় স্থান সৈয়দ আতিকুর রহমান সাইফ, ‘খ’ গ্রুপের ১ম স্থান অধিকার করে কাওসার আহমদ, ২য় স্থান আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ নাফি, ৩য় স্থান যৌথভাবে মুহাম্মদ আজির হোসেন ও ফজলে রাব্বি সামির। বিচারক প্যানেলে ছিলেন মাওলানা কারী শাহ নজরুল ইসলাম, মাওলানা কারী মোখতার আহমদ, মাওলানা কারী এমদাদুল হক নোমানী, হাফেজ মাওলানা কারী আবুযর রেজওয়ান, হাফিজ কারী সৈয়দ আলমগীর গাজি, মাওলানা কারী সৈয়দ ফাহিম আব্দুল্লাহ।

এদিকে একাদশ, কেমুসাস বইমেলা শেষ হবে আগামীকাল শনিবার। সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর দরগাহ গেইটে শহিদ সুলেমান হলে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাঙবে লেখক-পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা।

গত ২০ মার্চ শুরু হওয়া ১২ দিনব্যাপি চলা এই বইমেলায় সিলেটের বইপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিলো। লেখক পাঠকদের আড্ডায় মুখর ছিলো কেমুসাস প্রাঙ্গন। এবাবেরর বইমেলায় বেচাকেনার রেকর্ডও অতীতের সকল পরিসংখ্যানকে অতিক্রম করেছে। ঢাকা সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ৩৬টি প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীরাও জানিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টির কথা। তবে শেষ দুই দিন বৃষ্টি এসে বাগড়া না দিলে বেচাকেনা আরও বেশি হতো বলে তাদের মন্তব্য।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী। অনুষ্ঠানে বিগত ১২ দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট