সিলেটে ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীর

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৬

সিলেটে ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীর

সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ব্যাংক অ্যাপস হ্যাকড করে সিলেটের এক গ্রাহকের তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় দাবি করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার মো. আব্দুল হান্নান চৌধুরীর পুত্র মো. ইসমাইল হোসেন আজাদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ তার ব্যক্তিগত স্মার্টফোন হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি দেখতে পান, তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ ১০ টাকা তার অনুমতি ছাড়াই প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের একটি হিসাব নম্বর (০১৭৫১২১০০০০১২৫৩)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনি এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর: ১৩২৮। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, একই হিসাব ব্যবহার করে তার মতো আরও অনেক সাধারণ মানুষের অর্থও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে হিসাবটিতে তার অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, সেই হিসাবধারীর নাম সোহেল রানা। একই ব্যক্তির নামে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিতেও (হিসাব নম্বর: ১৫৫১৪৪০০০৫৮৫৩) একটি হিসাব রয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয়, একই ব্যক্তি একাধিক ব্যাংকের হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ গ্রহণ করে তা অন্যত্র স্থানান্তর করছেন, যা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের অংশ বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকায় তিনি সরাসরি ব্যাংকে যেতে পারেননি এবং কল সেন্টারে অভিযোগ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রাপক ব্যাংককে অবহিত করলে হিসাবটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা সম্ভব ছিল এবং তার আর্থিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা যেত। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় তিনি কল সেন্টারে অভিযোগ করেছেন, তবে এখনো কোনো প্রতিকার পাননি।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বলেন, “আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এই তিন লাখ দশ টাকা আমার কষ্টার্জিত অর্থ। এই অর্থ হারিয়ে আমি সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। আমার স্ত্রী গর্ভবতী, তিনি মারাত্মক মানসিক চাপে আছেন। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই অননুমোদিত লেনদেনের দায়ভার কে নেবে এবং একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে তাকে একাই কি এই ক্ষতির দায় বহন করতে হবে?

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইসমাইল হোসেন আজাদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা চেয়েছেন।