মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘৩০০০ হ্যাবিটাট চ্যালেঞ্জ’

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘৩০০০ হ্যাবিটাট চ্যালেঞ্জ’

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো “৩০০০ হ্যাবিট্যাট চ্যালেঞ্জ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি (মুগাস) গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি এই চ্যালেঞ্জের আয়োজন করে।

দুই দিনের জ্ঞানসমৃদ্ধ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বিবর্তন ও মহাকাশবিষয়ক বিভিন্ন সেগমেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার পরিচয় দেয়।

“৩০০০ হ্যাবিট্যাট চ্যালেঞ্জ” হলো মূলত একটি কল্পনাপ্রসূত প্রতিযোগিতা যা অংশগ্রহণকারীদের ৩০০০ সালে মানুষের জীবন কেমন হতে পারে তা কল্পনা এবং সৃজনশীলভাবে অন্বেষণ করতে অনুপ্রাণিত করার জন্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক চৌধুরী মোকাম্মেল ওয়াহিদ। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

চ্যালেঞ্জে মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন সেগমেন্ট ছিল, যা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সৃজনশীলতার বিকাশে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রকেট সেগমেন্ট, সফট ল্যান্ডিং অব স্পেসক্রাফট ইত্যাদি।

বাংলাদেশের প্রথম রকেট কোম্পানি ধূমকেতুএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও নাহিয়ান আর রহমান ওলি ও তার টিম এই ইভেন্টে অংশ নেন। এটি ছিল ধূমকেতুএক্সের প্রথমবারের মতো সিলেটে পদার্পণ, যা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসকে রকেট প্রযুক্তি নিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।

ধূমকেতুএক্সের সিইও নাহিয়ান আর রহমান ওলি “Bangladesh in Aerospace: Current Landscape & Future Prospects” শিরোনামে একটি ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। এতে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে পারে।

ইভেন্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সেমিনার, যার শিরোনাম ছিল “The Power of Geography: QUAD’s Presence in the Bay of Bengal: A Two-Edged Sword for Bangladesh”।

সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক চৌধুরী মুজাদ্দিদ আহমেদ। তিনি কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরে QUAD জোটের প্রভাব এবং বাংলাদেশের জন্য এর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

এই দুটি সেমিনারে সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫০ এর অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ। সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘দূরবীন’ এর সহায়তায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয় টেলিস্কোপ। সিলেটের প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি এই অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করে। শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো চাঁদ, গ্রহ ও নক্ষত্রপুঞ্জ সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।

শুধু বিজ্ঞান নয়, সাংস্কৃতিক আয়োজনেও সমৃদ্ধ ছিল এই ইভেন্ট। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয় নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান, যা অংশগ্রহণকারীদের আনন্দ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে।

ইভেন্টের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো। গোল্ড স্পনসর ছিল ফেইত আইটি। এছাড়াও সিটি এভিয়েশন, ঠিক আছে ডট কম এবং ফুড পার্টনার হিসেবে দি সিলেট বাফেট সাউথ অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে।

ইভেন্টের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুগাসের সাধারণ সম্পাদক প্রিতম পাল বলেন, “মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই নাসা স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জে গ্লোবাল নমিনি ও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে তারা হ্যাবিট্যাট সেক্টরে গবেষণায় বাংলাদেশকে গর্বিত করতে চায়। এই ইভেন্ট সেই অভিযানেরই একটি ধাপ।”

ইভেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, “এই শিক্ষার্থীদের নতুনকে জানার স্পৃহা ভবিষ্যতে আমাদের মাতৃভূমি তথা পুরো বিশ্বকে বিজ্ঞান বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করবে। কারণ এরাই হলো আগামীর সোনার বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।”

এই ইভেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে, যা ভবিষ্যতে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও গবেষণায় সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট