|
প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
একটি শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক। এত শিক্ষার্থীর ওপর একসঙ্গে নজর রাখা এবং পরীক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা শিক্ষকদের জন্য কঠিন। এই সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চার শিক্ষার্থী।
‘চিটলক’ নামের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য অনিয়মের সংকেত শনাক্ত এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির সহায়তায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের কাজের চাপও কমানো সম্ভব হবে।
প্রায় আট মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী, ঐতিহ্য সরকার অতিব, আমানুর রহমান আমান ও সানদিদ হক চৌধুরী। তাঁরা প্রকল্পটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা, ওয়েব ও অ্যাপ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
যেভাবে কাজ করবে চিটলক
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিটলক-এ ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটার ভিশন ও অডিও বিশ্লেষণ প্রযুক্তি। ক্যামেরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মুখের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মাথার অবস্থান ও দৃষ্টির দিক বিশ্লেষণ, একাধিক মুখ শনাক্ত এবং সম্ভাব্য নিষিদ্ধ ডিভাইসের উপস্থিতি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক শব্দ বা কথাবার্তার সংকেত বিশ্লেষণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিষয়ে সতর্কতা তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রচলিত অনলাইন পরীক্ষায় একজন শিক্ষককে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হয়। চিটলক-এর লক্ষ্য, এই কাজের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা, যাতে শিক্ষক ও পরীক্ষকেরা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পর্যালোচনা করতে পারেন।
তবে ক্যামেরার বাইরে তাকানো, মাথা ঘোরানো কিংবা আশপাশে শব্দ হওয়া মানেই পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন নয়। তাই এআইয়ের তৈরি সতর্কতাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করে মানবিক পর্যালোচনার সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যেক সৎ শিক্ষার্থীর ন্যায্য পরীক্ষাব্যবস্থা প্রাপ্য
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিটলক-এর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন লিড আমানুর রহমান আমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক সৎ শিক্ষার্থীর একটি ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা প্রাপ্য, আর চিটলক-এর মাধ্যমে আমরা সেটাই গড়ে তুলতে চাই।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা শুধু অনিয়ম শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের প্রস্তুতি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হওয়ার বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।
চিটলক-এর বিজনেস অ্যানালিস্ট সানদিদ হক চৌধুরী বলেন, নকল করে ডিগ্রি অর্জন করা যায়, কিন্তু যোগ্যতা নয়। আজকের অনলাইন পরীক্ষায় অসততা, আগামী দিনের জন্য হতে পারে ভয়ংকর ঝুঁকি। চিটলক অঙ্গীকারবদ্ধ সৎ, যোগ্য ও দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তুলতে।
অনলাইন থেকে শ্রেণিকক্ষের পরীক্ষায় ব্যবহারের লক্ষ্য
চিটলক-কে শুধু অনলাইন পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখতে চান না উদ্যোক্তারা। অনলাইন পরীক্ষা, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পরীক্ষা, কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবহারিক পরীক্ষা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন, ভর্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং অধ্যায়ভিত্তিক মডেল টেস্টে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
প্রকল্পটির ডেভেলপমেন্ট লিড ঐতিহ্য সরকার অতিব বলেন, চিটলক আমাদের একটি ড্রিম প্রজেক্ট। আড্ডার টেবিলে জন্ম নেওয়া একটি ধারণা থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য, হ্যাকাথন পেরিয়ে আজ ইন্ডাস্ট্রির পথে এই যাত্রাটা আমাদের কাছে সত্যিই অসাধারণ। জুবায়ের, সানদিদ ও আমানকে টিমমেট হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত। আমাদের পথচলা তো সবে শুরু। সামনে যেতে চাই আরও বহুদূর!
প্রকল্পটির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স লিড জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা মানুষের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই সম্ভাবনার একটি বাস্তব উদাহরণ আমরা চিটলক-এর মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিটলক দল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘আইডিয়া টু ইমপ্যাক্ট’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাইব্লিটজ ২০২৬-এ প্রকল্প প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম রানার-আপ হওয়ার পাশাপাশি হ্যাকাথনে বাংলাদেশের ১০৮টি দলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। এ ছাড়া ডুয়েট সিএসই কার্নিভাল ২০২৬-এ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে দলটি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D