|
প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সম্পর্ক ভেঙে গেলেও মুছে যায় না সব স্মৃতি। থেকে যায় অভিমান, অভিযোগ, বিশ্বাসভঙ্গের কষ্ট কিংবা না বলা অনেক কথা। সময়ের সঙ্গে ক্ষত কিছুটা শুকিয়ে এলেও অতীতের তিক্ততা কখনো কখনো মনে দাগ কেটে থাকে। সেই কষ্ট থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন’।
ইংরেজিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ নামে পরিচিত এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, পুরোনো সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবা এবং জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ আবার সেই সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
কবে শুরু হয়েছিল এই দিবস?
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিবসের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে কে প্রথম দিবসটি চালু করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদ্যাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।
এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন বর্ষপঞ্জির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে।
কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়?
একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। প্রাক্তনের প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ ও কষ্ট কখনো কখনো নতুন সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই দিবস মানুষকে নিজের অনুভূতি ও অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়। ক্ষমা করার মাধ্যমে কেউ কেউ পুরোনো কষ্টকে মেনে নিয়ে তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ক্ষমা করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউকে জোর করে ক্ষমা করানো কিংবা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চাপ দেওয়া এই দিবসের উদ্দেশ্য নয়।
ক্ষমা করা মানেই কি সম্পর্কে ফিরে যাওয়া?
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা কিংবা পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা—এমন ধারণা ঠিক নয়। কাউকে ক্ষমা করেও তার কাছ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, প্রতারণা কিংবা অসম্মানজনক আচরণের অভিজ্ঞতা থাকলে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
ক্ষমা করার জন্য প্রাক্তনের সঙ্গে দেখা করা, ফোন করা কিংবা বার্তা পাঠানোও বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে নিজের মনেই পুরোনো ক্ষোভ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার কারও ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। সেটিও স্বাভাবিক।
কীভাবে পালন করবেন দিবসটি?
দিবসটি উপলক্ষে নিজের অতীতের সম্পর্ক ও অনুভূতি নিয়ে ভাবতে পারেন। কোন ঘটনা এখনো কষ্ট দেয়, কেন সেই স্মৃতি মনে প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে তাঁর খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বা তা নিরাপদ নয় বলে মনে হলে দূরত্ব বজায় রাখাই যথাযথ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, কষ্ট থেকে মুক্তি
লেখক ও মনোচিকিৎসাবিষয়ক চিন্তাবিদ লুইস বি. স্মেডিসের বক্তব্যের মূল ভাবনা হলো, ক্ষমা অতীতের তিক্ততা মুছে দেয় না। বরং যে স্মৃতি ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তাকে নতুনভাবে মনে রাখার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের কষ্টকে ভবিষ্যতের আশায় রূপান্তর করার মধ্যেই ক্ষমার তাৎপর্য রয়েছে।
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন তাই শুধু পুরোনো সম্পর্কের কথা মনে করার উপলক্ষ নয়; নিজের অনুভূতিকে বোঝা, মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয়। কারণ, সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D