ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বিবৃতি

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫

ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বিবৃতি

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক, রিকশা, ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল এক যুক্ত বিবৃতিতে ‌বলেন, সিলেট সহ সারাদেশের প্রায় ৬০ লক্ষ ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষার আন্দোলনে কোন সেক্টরের শ্রমিক কিংবা যাত্রী সাধারণ কেউই প্রতিপক্ষ নয়।

প্রায় ৬০ লক্ষ ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিক তার উপর নির্ভরশীল আড়াই কোটি নির্ভরশীল মানুষের পক্ষে সংগ্রাম পরিষদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার ইতিমধ্যে “বৈদ্যুতিক থ্রী-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫” চুড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ঠিক এই সময়ে সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিষিদ্ধ কিংবা অদৃশ্য ঘাতক উল্লেখ করা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপন্থী।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে কোনভাবেই ব্যাটারিচালিত যানবাহন দায়ী নয়। যাত্রী কল্যাণ সমিতি তথ্যানুযায়ী ৮৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়ে থাকে বিভিন্ন পরিবহন দ্বারা। মাত্র ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ব্যাটারিচালিত যানবাহন দ্বারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নানা সূত্র মতে সারা দেশে ব্যাটারি চালিত যানবাহন প্রতিদিন প্রায় ৫শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। অন্যদিকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিদিনের সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াট। তাহলে মাত্র আড়াই শতাংশ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় সারাদেশের ব্যাটারি চালিত যানবাহনের জন্য। এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে সারাদেশের ৩ কোটি মানুষের জীবিকা এবং ২ কোটি মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত হয়।
ব্যাটারি চালিত যানবাহন পরিবেশ বান্ধব ও সাশ্রয়ী।তেল চালিত গাড়ি দেশের কার্বন নিঃসরণের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী, যা দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি তও জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। যার কারণে গোটা দুনিয়াতে তেল চালিত গাড়ির পরিবর্তে ইবি বেইক্যাল বা বিদ্যুৎ চালিত যানবাহন উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শহরের যানজটের প্রধান কারণ অবৈধ পার্কিং, রাস্তা ও ফুটপাত দখল, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধন সহ অন্যান্য ন্যায্য দাবিতে আমরা যেমন একাত্ম থাকি। একইভাবে আমরা সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের নিবন্ধন, শ্রমিকদের লাইসেন্স দাবিতেও একাত্বতা প্রকাশ করি।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএনজি চালিত গাড়ি ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানাই। ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য তৃতীয় কোন পক্ষের উস্কানিতে শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রত্যেক শ্রমিক সংগঠন ন্যায্য দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক -গণতান্রিক আন্দোলনের অধিকার রয়েছে কারো উস্কানি কিংবা ফাঁদে পা না দিতে সকল শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বক্তারা দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, সাধারণ মানুষের সহজলভ্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের খসড়া নীতিমালা দ্রুত চুড়ান্তকরণে নিয়মতান্ত্রিক -গণতান্রিক আন্দোলনে সকল নাগরিকের সমর্থন-সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় আম্বরখানাস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে সামনে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট