‘এক ব্যক্তি, এক খতিয়ান ও এক দাগ’, জুলাই থেকে ডিজিটাল ম্যাপ‘

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৪

‘এক ব্যক্তি, এক খতিয়ান ও এক দাগ’, জুলাই থেকে ডিজিটাল ম্যাপ‘

আগামী জুলাই থেকে দেশে ডিজিটাল সার্ভের ম্যাপ তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপের লক্ষ্য, ‘এক ব্যক্তি, এক খতিয়ান ও এক দাগ’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এর বাস্তবায়ন হলে নাগরিকদের ভূমিবিষয়ক হয়রানি এবং মামলা-মোকদ্দমার পরিমাণ অনেকাংশে কমবে।’

বুধবার (১৫ মে) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপের সফল বাস্তবায়ন জরুরি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে একটি ন্যায্য ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল জরিপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই কাজে সহযোগিতা করতে আমরা একটি স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আগামী জুলাই থেকে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ছয়টি এলাকায় ডিজিটাল জরিপের আওতায় ম্যাপ প্রস্তুতকরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। যোগাযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিডিএস অপারেশনে নাগরিকদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৩৪ মৌজায় ৯০৩ বর্গকিলোমিটার জরিপ করা হবে। পাইলটিং প্রকল্প হবে নবীগঞ্জ মৌজায় পহেলা জুলাই থেকে। অক্টোবর থেকে ডিটেইলস জরিপ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জমির মালিকদের আন্তরিক হতে হবে। দেশের সকল নাগরিককে এই জরিপের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ভূমির মালিক যিনি, ভূমি রক্ষার দায়িত্ব তারই। একটি সুন্দর ও ফ্রেশ ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করতে চাই।’ ভূমি সম্পর্কিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) আনিস মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সেমিনারবিষয়ক সচিত্র উপস্থাপনা করেন অতিরিক্ত সচিব ও ইডিএলএমএস প্রকল্প পরিচালক জহিরুল হক।

সভাপতির বক্তব্যে খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালে প্রদত্ত ৩১টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অন্যতম বাস্তবায়ন হিসেবে ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন ও বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ (বিডিএস) কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ভূমিসম্পর্কিত লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসেছে।’

অতিরিক্ত সচিব জহিরুল হক বলেন, ‘৩৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কোরিয়ান সহায়তায় এই ডিজিটাল ভূমি জরিপ হবে। নারায়ণগঞ্জবাসী ভাগ্যবান, কেননা সিএস জরিপ শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে ১৮৮৮ সালে। আর বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল ভূমি জরিপ শুরু হবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ মৌজা থেকে।’

জরিপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ করে ডিজিটাল খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ নির্ণয় করা হবে। উন্নত তথ্যসেবা ভূমি মালিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্বে কোরিয়া প্রথম ডিজিটাল ভূমি জরিপ করে, তাই তাদের সহায়তা নিয়ে এই জরিপ করা হবে। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখব। জরিপ যথাযথভাবে করতে পারলে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা হলো ম্যাপ সংশোধন। যখনই জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হবে, তখনই সব জায়গায় সংশোধন হয়ে যাবে।’

স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘সরকারি এক ইঞ্চি জায়গাও কোনো ব্যক্তির নামে রেকর্ড হবে না। ভূমি অপরাধ আইন দেখিয়ে অনেক জবরদখলকারীর হাত থেকে জমি উদ্ধার করেছি। যারা জমির মালিক, কিন্তু এখানে থাকেন না, তাদের জমি যেন অন্য কারও নামে রেকর্ড না হয়- সেদিকে সর্বাত্মক লক্ষ রাখা হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা এবং ধামরাই ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এস্টাব্লিশমেন্ট অব ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের (ইডিএলএমএস প্রকল্প) মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিএনএসএস, টোটাল সার্ভে সিস্টেম, ড্রোন, ওরাকল ডেটা ও জিআইএস সফটওয়্যারসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় ইডিএলএমএস প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে বিডিএস পরিচালনা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সেমিনারে জানান, বিডিএস অপারেশনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হবে। জরিপের সময় যদি সিলিংবহির্ভূত জমি পাওয়া যায়, তাহলে অতিরিক্ত জমি খাস খতিয়ানে এনে বাকি জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হবে। আর সরকারি জমির ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের রায় অনুযায়ী কাজ করা হবে। তা ছাড়া বিডিএসের আওতায় তৈরিকৃত ডিজিটাল ম্যাপে ক্লিক করলেই জমির সব তথ্য পাওয়া যাবে। রেকর্ড সংশোধন করলে ডিজিটালি ম্যাপ পার্টিশন হয়ে যাবে। অন্য আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আরও ৩২টি উপজেলায় বিডিএস অপারেশন শুরু করা হবে বলেও জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

ডিএলআরএস পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাদের শেখ, মো. মোমিনুর রশীদ, ঢাকার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও ইডিএলএমএস প্রকল্প, জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণসহ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকল্পের সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তাগণ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইসহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন, অংশীজন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট