শ্রমিক কল্যাণে নির্ধারিত স্থান ছাড়া চাঁদা আদায় করা যাবে না

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪

শ্রমিক কল্যাণে নির্ধারিত স্থান ছাড়া চাঁদা আদায় করা যাবে না

সিলেট মহানগর পুলিশ-এসএমপি কমিশনার মো জাকির হোসেন খান পিপিএম বলেছেন, সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় করা যাবে না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এসএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে পরিবহন সেক্টরে নিরাপত্তা ও আইনশৃংঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সভায় সিলেট মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ছয় থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পুলিশ সুপার, এনএসআই, ডিজিএফআই ও র‌্যাব প্রতিনিধি এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, সিলেট একটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি যে ঘটনা ঘটেছে তা সিলেটের সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান। ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। র‌্যাব আইনগত প্রক্রিয়ায় যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। এ বিষয়ে কোন বক্তব্য থাকলে আলোচনা করা যেতো; কিন্তু কোন আলাপ আলোচনা ছাড়া রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইনের প্রতি সম্মান জানানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।

তিনি উপস্থিত শ্রমিক ও পরিবহণ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা উত্তোলন করা যাবে না।

সভায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ৬ ফেব্রুয়ারীর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন মামলায় শ্রমিকদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা এসকল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া নির্দোষ কারও বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্ট দেওয়া হবে না।

পরিবহন নেতৃবৃন্দ পুলিশ কমিশনারের কাছে বিভিন্ন এলাকায় জুয়া, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, মাঝে মধ্যে সভা করে ও পরিবহন সেক্টরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।

যে কেউ তার সঙ্গে যেকোন সময় কল দিয়ে কথা বলতে পারবেন জানিয়ে তিনি কোথাও কোন অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পরামর্শ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস্), উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর), উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), উপ পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি), পুলিশ সুপার (সিলেট জেলা), উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি), উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি ও মিডিয়া), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিলেট জেলা), উপ পরিচালক (ডিজিএফআই), উপ পরিচালক (এনএসআই), সহকারী পুলিশ সুপার (র‌্যাব-৯), সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম হাদী ছয়ফুল, সিলেট জেলা টান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি মো সাহেদুর রহমান, বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমদ, ট্যাংকলরি এসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো দিলু মিয়া প্রমুখ।


সূত্র : তথ্য বিবরণী


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট