বিজয়ের মাসে বীর শহীদ স্মরণে খেলাঘরের শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২৩

বিজয়ের মাসে বীর শহীদ স্মরণে খেলাঘরের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আমরা চাই মুক্ত স্বদেশ, ছবির মতো বাংলাদেশ- হে শহীদ-হে বীর- হে জ্যোতির্ময়-” এ স্লোগানকে ধারন করে বিজয়ের মাসে প্রথম দিবসে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান’ এ খেলাঘর সিলেট জেলা কমিটির উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন।

শুক্রবার (১লা ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় খেলাঘর সংগীত আর শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

খেলাঘর সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) তাপসী চক্রবর্তী লিপি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তপন চৌধুরী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল মোঃ আব্দুস সালাম (অব.) বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সাভাপতি এড. বেদানন্দ ভট্টাচার্য্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার রুনু আলী, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মা, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অকন।

সভার শুরুতে সভাপতি অধ্যক্ষ তাপসী চক্রবর্তী লিপি গণহত্যা বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তার বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পকিস্তানী বাহিনী বর্তমান ক্যাডেট কলেজে ক্যাম্প করেছিল। গণ কবরটি ক্যডেট কলেজের বাউন্ডারির মধ্যে। বৃহত্তর সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে র মুক্তিকামী ও প্রগতিশীল লোকদের এখানে ধরে আনা হতো। তাদের অকথ্য নির্মম নির্যাতন এবং তাদের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে ব্লাড ব্যাংকে মজুদ রেখে পরবর্তীতে আহত পাকবাহিনী কে প্রদান করা হতো। তাছাড়াও নারীদের নির্যাতন এবং হত্যা করে এই গণ কবরে মাটিচাপা দেওয় হতো। অনেক গবেষনা আর তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মা গণ কবর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। এখানে প্রায় হাজার খানেক মুক্তিকামী ও প্রগতিশীল লোকদের নির্মম হত্যা ও গণ কবর দেওয় হয়েছে। আজ পর্যন্ত ৬১ জনের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে, তাদের নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে। আজ বিজয়ের মাসে প্রথম দিবসে খেলাঘর যে উদ্যোগ গ্রহন করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এসেছেন তার জন্য খেলাঘরকে ধন্যবান জ্ঞাপন করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল মোঃ আব্দুস সালাম (অব.) বীরপ্রতীক তার বক্তব্যে আবেগপ্লোত হয়ে বলেন আজকে আমার মনে হচ্ছে সারা দেশকে খেলাঘরের পতাকা তলে নিয়ে আসি। খেলাঘর আজ যে কাজটি করল দেখালো তা আমাদের প্রত্যেকের করা উচিত। তাতেই মুক্তিযুদ্ধ আর বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্য বিষয়ে শিশু-কিশোরদের সঠিক ভাবে জানানো সম্ভব হবে এবং প্রত্যক শিশু-কিশোর অন্তর থেকে দেশপ্রেম আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সঠিক ইতিহাস জেনে বেড়ে উঠবে। সার্থক হবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, গড়ে উঠবে সুন্দর সাম্যের বাংলাদেশ।

আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় খেলাঘর ভাই-বোনদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় খেলাঘরের ভাই-বোনরা বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলাঘর সংগীতের সাথে সাথে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে এক প্রাণবন্ত দৃশ্যের অবতারনা করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবি সিরাজ উদ্দিন শিরুল, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিধান দেব চয়ন, উদীদী সিলেট জেলা সংসদের অর্থ সম্পাদক সন্দীপ দেব, সোপান সংস্কৃতি কেন্দ্র সিলেট এর সাবেক অর্থ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দে, সংস্কৃতি কর্মী বিভাষ পুরকায়স্থ যাদন, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী প্রনতী ভট্টাচার্য্য, বিশিষ্ঠ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী প্রভাতী দেব দুলু, মনিপুরি সাহিত্য সংসদের সদস্য এন যোগেশ্বর অপু, খেলাঘর সংগঠক সন্তু চৌধুরী, খেলাঘর সংগঠক দীনবন্ধু পাল, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনেরর কর্মকর্তা সহ খেলাঘর সিলেট জেলার সকল আসরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্যরা। বিজ্ঞপ্তি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট