সিলেটে প্রার্থীর বাসার সামনে মহড়া, অস্ত্রধারী তুহিন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৩

সিলেটে প্রার্থীর বাসার সামনে মহড়া, অস্ত্রধারী তুহিন গ্রেপ্তার

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসার সামনে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় আলোচিত সেই অস্ত্রধারী আবুল কালাম আজাদ তুহিনকে গ্রফতার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জুন) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‍্যাব-৯।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র এএসপি আফসান-আল-আলম জানান, শুক্রবার (১৬ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আবুল কালাম আজাদ তুহিন (৩৩) এসএমপি-সিলেট এর জালালাবাদ থানাধীন লন্ডনী রোড (বাসা নং-অগ্রণী-১২৭) এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম এর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৮ টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, আবুল কালাম আজাদ তুহিন এর আগেও র‍্যাবের হাতে অস্ত্রসহ আটক হয়েছিল।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে গ্রেফতারক তুহিনকে এসএমপি-সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তুহিন সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আফতাব হোসেন খানের অনুসারী বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আফতাব হোসেন খানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সায়ীদ মো. আবদুল্লাহ’র বাসার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে হুমকি দিয়ে ভাইরাল হন তুহিন। পরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ মো. আবদুল্লাহ গত ৯ জুন শুক্রবার সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়া বিমানবন্দর থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন তিনি।

এ ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী আফতাব হোসেন খানের প্রার্থিতাও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এরআগে এ ঘটনায়  আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগরীর বনকলাপাড়ার নূরানী এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান (৪২)। একই এলাকার মৃত আকরাম আলীর ছেলে জুবের আহমদ (৩৮) ও এয়ারপোর্ট থানাধীন হাজীপাড়া এলাকার মিছির আলীর ছেলে নুরুজ্জামান (৩৪)। তারা তিনজনই নগরীর বনকলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের অনুসারী।

শনিবার (১০ জুন) ভোরে বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তবে প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী লাটিম মার্কার প্রার্থী সাইদ মো. আব্দুল্লার বাসার সামনে অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ৯ জুন কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ আব্দুল্লাহ রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান।

এদিকে গত মঙ্গলবার (৬ জুন) সকালের ওই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ৮ জুন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নগরের ১৩/১৩ সুবিধবাজার দিঘীর পাড় কাউন্সিলর প্রার্থী সাঈদ আব্দুল্লাহর বাসার সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেন ঘুড়ি মার্কার কাউন্সিলর প্রার্থী আফতাব হোসেন খান। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে থাকা যুবকরা প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ আব্দুল্লাহর বাসার মূল ফটকের দিকে অস্ত্র প্রদর্শন করেন। ঘটনার সময় আরেকটি মোটরসাইকেলে কাউন্সিলর প্রার্থী আফতাব হোসেন খানকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ডের লাটিম মার্কার কাউন্সিলর প্রার্থী সাঈদ আব্দুল্লাহ বলেন, গত ৬ জুন কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানসহ কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলযোগে আমার বাসার সামনে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আমার বাসার ফটকে এসে অস্ত্র প্রদর্শন করেন। এরই প্রেক্ষিতে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।