সাংবাদিক অজয় পাল আর নেই

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৩

সাংবাদিক অজয় পাল আর নেই

একাত্তরের কলমযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় পাল আর নেই। তিনি শনিবার (৭ জানুয়ারী) রাত ৯টার দিকে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এরআগে গত ৪ জানুয়ারী বুধবার ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে লন্ডনের রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টার দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

সত্তরের দশকে সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন অজয় পাল। ৫২ বছরের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় এবং প্রবাস থেকে প্রকাশিত অনেক সংবাদপত্রে কাজ করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। জাতীয় দৈনিকের মধ্যে বাংলার বাণী, দৈনিক সংবাদ, দেশবাংলা ও বাংলাবাজার পত্রিকা ছাড়াও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকায়ও কাজ করেছেন তিনি। আর সাপ্তাহিকের মধ্যে যুগভেরী, সিলেট সমাচার, দেশবার্তা ও সিলেটধ্বনি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন বহুদিন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা, জাগরণ, পত্রিকা, দেশবার্তা, পূর্বদেশ ও কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা নিউজ পত্রিকার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন । ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক হৃদয়ে বাংলাদেশ ম্যাগাজিনের ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।

বাংলাবাজার পত্রিকায় টানা দুবছর অজয় পালকে দেশের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি গীতিকার ও ছড়াকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। পাশাপাশি দুবছর সিলেট বেতার কেন্দ্রে স্থানীয় সংবাদও পাঠ করেন।

ছড়াসাহিত্যেও অজয় পাল ছিলেন অনন্য, অনবদ্য। শব্দে-বাক্যে টানতে জানেন চমৎকার অন্তমিল। গান রচনায়ও তিনি ছিলেন বেশ সাবলীল। তাঁর লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুবীর নন্দী, হিমাংশু গোস্বামীর মতো খ্যাতনামা শিল্পীরা।

সাংবাদিকতার সুবাদে ২০০১ সালে অজয় পাল কিউবার হাভানায় অনুষ্ঠিত ইন্টার–পার্লামেন্টারি কনভেনশনে বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সঙ্গে সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে দৈনিক সংবাদে কর্মরত থাকাকালে সিলেটের স্থানীয় একজন সাংসদের গাড়ি পোড়ানোর মিথ্যা মামলায় তিনি কারাবরন করেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট