জনগণের সাথে নেতাকর্মীদের ভালো ব্যবহারের নির্দেশ কাদেরের

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

জনগণের সাথে নেতাকর্মীদের ভালো ব্যবহারের নির্দেশ কাদেরের

মোঃ মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)


জনগণের সাথে নেতাকর্মীদের ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার ধামরাইয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ নির্দেশ দেন তিনি।

নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা প্রস্তুত হোন। কাউকে আক্রমণ করবেন না। জনগণের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। কাউকে উস্কানি দেবেন না। আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ করবেন না।

তিনি বলেন, বিএনপির ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলে। আমি বলতে চাই, আপনাদের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করলে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে কে? এর নেতা কি বাংলাদেশে আছে, নাকি রিমোট কন্ট্রোলে লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দেবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় আসলে আমরা কাজ করে জবাব দে্বো। উন্নয়ন, কাজ দিয়ে মিথ্যাচারের জবাব দেবো। শেখ হাসিনার সততা দিয়ে। ৭৫ এর পরে তার মতো জনপ্রিয় নেতা আসেনি। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে বিএনপি ভয় পায়। তারা আজকে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, দুঃস্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশকে বিশৃংখলার আবহে নিতে চাচ্ছে, পেট্রোল বোমা, ককটেলের পরিকল্পনা নিচ্ছে। তারা যদি আন্দোলনের নামে সহিংসতা করে আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নামে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে জবাব দেবো।

তিনি বলেন, নির্বাচন হলে জাতীয় সরকার করবে, গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। জাতীয় সরকারের নেতা কে? কেউ জানে না। কোনো নেতাও নাই, আন্দোলনের নেতাও নাই, দলের নেতাও নাই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবো। আগামী নির্বাচনে নতুন করে কোনো সরকার আসবে না। গণতান্ত্রিক অন্য দেশের মতো সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে শেখ হাসিনার সরকার। নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালতের আদেশে তত্বাবধায়ক সরকার মিউজিয়ামে চলে গেছে। তত্বাবধায়কের দুঃস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই। এইসব দুঃস্বপ্ন, এইসব রঙ্গিন খোয়াব কিছুদিনেই উড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগের কর্মী বাহিনীকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধামরাইয়ে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কলহ বাদ দিতে হবে। দুঃসময়ে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বসন্তের কোকিলদের নেতা বানানো চলবে না। অনেকেরই পদ নেই, পদবঞ্চিত সরে গেছেন। তাদের নেতা বানাবেন। ধামরাই ছিল আওয়ামী বিরোধী এলাকা। আওয়ামী লীগের পক্ষের এলাকা ছিল না। দুই বছর আগে আমি গিয়েছিলাম। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ দেখেছি। অবাক হয়েছি। এতো মানুষ আওয়ামী লীগ করে দেখে। উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কলহ রয়ে গেছে। এটা চিরতরে সরাতে হবে। দলে ঐক্য না থাকলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। এজন্যে ঐক্য থাকতে হবে।

কাদের বলেন, ১৯৭৫ এর ইতিহাসের অনেক কথা অজানা। অনেক কিছুই জানি না। স্বাধীন কমিশনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেটি হলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে। যেখানে জিয়াউর রহমান ছিলেন মাস্টারমাইন্ড। জিয়াউর রহমান না থাকলে এই খুনি ঘাতকদের সাহস ছিল না বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার। এ হত্যার মেইন বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমান। খুনিদের পুরস্কৃত করা ও খুনিদের হত্যার দায় থেকে বাচাতে ইনডেমনিটি করেছিল জিয়াউর রহমান। খন্দকার মোশতাক তাকে প্রধান সেনাপতি করে। হত্যার সুফল সে ভোগ করে। সেই পথ ধরেই একুশে আগস্ট, হাওয়া ভবন। যার মাস্টারমাইন্ড ছিল তারেক রহমান। যিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, অর্থ পাচার করে বিদেশে আছে। লন্ডনে আছে। এদের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট