‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় বিএনপি

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২২

‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় বিএনপি

নেত্রনিউজে প্রচারিত সংবাদের সূত্র ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি দাবি করছি নেত্রনিউজে প্রকাশিত ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও গণ আন্দোলনের নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এই মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করে।

নেত্রনিউজে প্রচারিত সংবাদের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুইডেন থেকে একটি পত্রিকা বের হয়। তার নাম নেত্রনিউজ। সেই নেত্রনিউজে এই অবৈধ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাদের পরিচালিত ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই ‘আয়নাঘরে’ অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের সেখানে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রচারের পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকালই (সোমবার ১৫ আগস্ট) বিবৃতি দিয়েছে। ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চিত্র অবশ্যই জঘন্যতম একটা ঘটনা। তারা বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারকে বলেছেন যে, আপনি এটার নিন্দা করেন এবং এ সম্পর্কে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ইতিহাস হলো গণতন্ত্রের ইতিহাস। সারাটা জীবন গণতন্ত্র রক্ষা, পুনরুদ্ধার ও চর্চায় ব্যয় করেছেন। গণতন্ত্রের জন্যই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা মামলায় তাকে কারান্তরীণ করে রেখেছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের মানুষকে মুক্ত করতে লড়াই করে চলেছেন।

তিনি আরো বলেন, এই অবৈধ সরকারের সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর তুলনা করতে হবে। নির্যাতন হত্যা খুন করে অনির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ত্রাস সৃষ্টি করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে।

সরকার সহজে যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, জনগণ তাদের সাথে নেই। সকলকে নিয়ে সরকার হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই প্রথম দাবি এমনটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করতে হবে।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, মীর সরফত আলী সপুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট