বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ : ১০ জনকে আদালতে তোলা হচ্ছে বিকেলে

প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২২

বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ : ১০ জনকে আদালতে তোলা হচ্ছে বিকেলে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী রতন হোসেনসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গতকাল রাত ৮টার পর রতনসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে আনা হয়। পরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হবে।

রবিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১২ ও ১৪)।

র‌্যাব ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বাসের হেলপারের ছদ্মবেশে ২০১৮ সাল থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি চালিয়ে আসছিলেন রতন হোসেনসহ অন্যরা। ডাকাতির ঘটনায় দুই দফা কারাভোগও করেছেন রতন। দ্বিতীয় দফায় ৯ মাস কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে এসে আবার যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করেন। শুধু একজন নারী নন, বাসের একাধিক নারী যাত্রী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য ডাকাত সদস্যরা হলেন আলাউদ্দিন (২৪), সোহাগ মন্ডল (২০), খন্দকার হাসমত আলী ওরফে দীপু (২৩), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), জীবন (২১), আব্দুল মান্নান (২২), নাঈম সরকার (১৯), রাসেল তালুকদার (৩২) ও আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান (১৮)।

টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ডাকাত বাসচালক রাজা মিয়া, কালিয়াকৈর থেকে আব্দুল আউয়াল এবং নুরনবীকে গ্রেপ্তার করে। রাজা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। আউয়াল ও নুরনবী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলে বাস ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রতন হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর গ্রামে। তার মায়ের নাম বেলী বেগম আর বাবার নাম মজিবর রহমান। রতনের মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হওয়ার মা বেলী বেগম বাবুল নামের আরেকজনকে বিয়ে করেন। পরে বাবুল ও তার ভাই ঢাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে রতন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এদিকে ধর্ষিতা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ডাক্তারি পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিচারের দাবিতে হচ্ছে মানববন্ধন। সেই সাথে রাতে হাইওয়ে পুলিশের টহল ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা রোধে যথাযথ বিচার দাবি করেছে সব মহল।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রাবিরতি নেয়। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশে ১০-১২ জন ডাকাত বাসে ওঠে। বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাস তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাদের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের অলংকার লুট করে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট