সিলেট পুলিশ লাইনসে ‘স্মৃতি ৭১’ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২২

সিলেট পুলিশ লাইনসে ‘স্মৃতি ৭১’ উদ্বোধন



১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিলেটে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নাম না জানা অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মরদেহ সিলেট নগরীর পুলিশ লাইনসে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। সেই স্থানে সিলেট জেলা পুলিশের উদ্যোগে গড়ে তোলা হল স্মৃতিস্তম্ভ স্মৃতি৭১।

দেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেও এ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের প্রচেষ্টায় ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে এটি স্থাপন করা হয়।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে সিলেট পুলিশ লাইনসে ’স্মৃতি ৭১’ উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান স্মৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এই গণকবরকে স্থায়ী রূপ দিতে ’স্মৃতি ৭১’ নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমপির কমিশনার নিশারুল আরিফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম বলেছেন, স্মৃতি-৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে সিলেটে আত্মদানকারী পুলিশ সদস্য ও নাম না জানা অন্য শহীদদের চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণে মূল উদ্যোক্তা বিদায়ী পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন পিপিএমও জেলাবাসীর হৃদয়ের গভীরে চিরকালীন জায়গা করে নিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর পুলিশ-এসএমপি কমিশনার মো নিশারুল আরিফ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথমেই আক্রান্ত হয় এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশ বাহিনী। স্মৃতি-৭১ নতুন প্রজন্মকে বাঙালির ইতিহাসের সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় জানান দেবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন পিপিএম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, সাবেক মহানগর কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ রানা, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-ইমজার সদস্য ইকরামুল কবির ও সিলেট আনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী।

১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদদের গণকবর দেয়া সিলেট নগরীর রিকাবিবাজার এলাকার পুলিশ লাইনসের ভেতর। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এখানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হল স্মৃতিস্তম্ভ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী- মুক্তিযুদ্ধের পরপরই গণকবরটি চিহ্নিত করা হয়। রিকাবিবাজারের পাশের মুন্সিপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করে ফেলে রাখে এখানেই। পরে এসব শহীদের মরদেহ এনে স্বজন ও পরিচিতরা পুলিশ লাইনসের ভেতরে একটি ডোবায় গণকবর দেন। কতজনকে এখানে গণকবর দেয়া হয়েছে, এমন সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও সংরক্ষিত না থাকলেও গণকবর দেয়া আটজন শহীদের নাম জানা গেছে। তারা ওই সময় পুলিশ বাহিনীতে চাকরিরত ছিলেন।

তারা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক আবদুল লতিফ, হাবিলদার আবদুর রাজ্জাক, কনস্টেবল মোক্তার আলী, শহর আলী, আবদুস ছালাম, মো. হানিফ ব্যাপারী, মনিরুজ্জামান ও পরিতোষ কুমার।

এসব পুলিশ সদস্য ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকে (বর্তমানে সোনালী ব্যাংক) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ব্যাংকের টাকা লুটের উদ্দেশে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে। পরে ৬ এপ্রিল এসব শহিদকে পুলিশ লাইনসে গণকবর দেয়া হয়। এর বাইরে শহরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে শহিদ অনেককেই এখানে কবর দেয়া হয়েছে।

এর আগে স্মৃতি-৭১ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ‘সুহৃদ পুলিশ : করোনা ও প্লাবনে’ নামের স্মারক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট