সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি রাস্তা মেরামতে সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২২

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি রাস্তা মেরামতে সেনাবাহিনী

বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট মেরামতের জন্য সিলেটে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চারটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার চারটি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট মেরামতে কাজ শুরু করেছেন তারা। এদিকে, এ দুই জেলার আরো তিনটি উপজেলায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে সেনাবাহিনী। এ নিয়ে এই দুই জেলার ২৩টি উপজেলায় সেনা মোতায়েন করা হলো।

১৭ পদাতিক ডিভিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে উভয় জেলার অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি অনুধাবন করে সেনাবাহিনী নিজ উদ্যোগে কয়েকটি রাস্তা সচল করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে দুই জেলার চারটি রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। রাস্তাগুলো হচ্ছে- সিলেটের দরবস্ত-কানাইঘাট এবং সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর-তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ সদর-জামালগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর-দিরাই রাস্তা। গত ২৭ জুন থেকে তারা রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হামিদুল হক, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি মঙ্গলবার (২৮ জুন) সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় অবস্থিত সেনা ক্যাম্প দুটি পরিদর্শন করেন এবং এ দুটি এলাকার বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ১৭ জুন হতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী প্রধানের দিক নির্দেশনায় ১৭ পদাতিক ডিভিশনের তত্বাবধানে সেনাবাহিনী সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ২০টি উপজেলায় মোতায়েন রয়েছে। তারা সর্বমোট ২৫টি উপজেলায় নিরলসভাবে অসংখ্য পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার ও তাদের মাঝে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করছে। ২৮ জুন হতে সেনাবাহিনী সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় নতুনভাবে ক্যাম্প স্থাপন ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি উভয় জেলার দুর্গম এলাকা থেকে জরুরী ভিত্তিতে বিপন্ন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ও বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সেনাবাহিনী বিভিন্ন মাধ্যম হতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, খাবার পানি সরবরাহ, বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট সংস্কার, বিদ্যুত কেন্দ্র সচল রাখাসহ সকল ধরণের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।