ক্ষতিগ্রস্থ সকল বন্যার্তদের পূণর্বাসন করা হবে : বিশ্বনাথে হানিফ

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২২

ক্ষতিগ্রস্থ সকল বন্যার্তদের পূণর্বাসন করা হবে : বিশ্বনাথে হানিফ

পাহাড়ি ঢল ও টানাবর্ষণে মাসখানেকের ব্যবধানে ফের বন্যায় কবলিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বন্যার্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি।
সোমবার (২৭ জুন) সকালে লামাকাজী পয়েন্টে এলাকার দেড় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে ত্রাণ (খাদ্য সামগ্রী) বিতরণ করেন তিনি।

এর পূর্বে সুনামগঞ্জের ছাতক এবং পরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮১ সালে দেশে আসার পর থেকে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগেই দেশবাসীর পাশে থেকেছেন, এখনও আছেন। দেশবাসীকে মায়ের মতো ভালোবাসেন বলেই ৮৮ সালের বন্যার সময় আশ্রয় শিবিরে বন্যার্ত মানুষকে নিজ হাতে রুটি বানিয়ে খাইয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তাই গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশের কোন মানুষ ত্রাণের জন্য কিংবা খাদ্যের জন্য কাউকে কষ্ট পাবেন না। ক্ষতিগ্রস্থ সকল বন্যার্তদের পূণর্বাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি পূণনির্মাণের জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের জনগন সকল দূর্যোগে সবার আগে আওয়ামী লীগকেই কাছে পেয়েছেন, ভবিষ্যতেও পাবেন। আর দেশে কোন দূর্যোগ এলে বিএনপি ঘুমিয়ে থাকে। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল চট্টগ্রামে হয়ে যাওয়া ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় লক্ষাধিক মারা গেলেও, সেদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন তৎকালীর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আর ঘুম ভাঙ্গার পর খালেদা জিয়া বলে ছিলেন,‘ যত মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তত মানুষ মরে নাই। এর মানে আরো বেশি মানুষ মারা গেলে তিনি খুশি হতেন।

এটাই ছিল বিএনপির রাজনীতি।’ অন্যদিকে সিলেটে বন্যা হয়েছে শুনেই সিলেটবাসীর কাছে ছুটে এসেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখে গিয়েও তিনি আমাদেরকে পাঠাচ্ছেন আপনাদের খোঁজ-খবর নিতে। এটাই হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ জনগনের জন্য রাজনীতি করে।

লামাকাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পুলক ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এনামুল হক এনাম মেম্বারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহ সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, উপদেস্টা মন্ডলীর সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া।

সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সদস্য শাহনুর হোসাইন, লামাকাজী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফয়ছল আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পার্থ সারথি দাশ পাপ্পু। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন লামাকাজী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য হাফিজ আব্দুল হক ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অরবিন্দু পাল।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কবির উদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমল আলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মজির উদ্দিন, সদস্য গোলাপ মিয়া, শহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ, ডাঃ নাজরা চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আখদ্দুছ আলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক আব্দুল জলিল জালাল, সদস্য মুজিবুর রহমান খান, দবির মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক আমিনুল ইসলাম, আব্দুল রব, সমুজ আলী, লালা মিয়া, শহিদ খান আতা, জেলা যুবলীগ নেতা অতুল দেব, উপজেলা যুবলীগ নেতা রুহেল খান, আবুল কাশেম মেম্বার, লামাকাজী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক সিজিল মিয়া, লামাকাজী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফজল হোসেন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সম্পাদক আকমল হোসেন প্রমুখসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।