বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনও নেটওয়ার্কের বাইরে ৭০৩টি টাওয়ার

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২২

বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনও নেটওয়ার্কের বাইরে ৭০৩টি টাওয়ার

বন্যা পরিস্থিতিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলায় মোট ২ হাজার ৫২৮টি সাইটের মধ্যে ৭০৩টি সাইট (টাওয়ার) বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯৮৪টি অচল সাইট অপারেটরদের প্রচেষ্টায় সচল করা হয়েছে।

অবশিষ্ট অচল সাইটগুলো অতিদ্রুত সচল হবে বলে বুধবার (২২ জুন) সকালে জানিয়েছে বিটিআরসি।

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত অঞ্চলের অধিবাসীদের সার্বিক সহায়তা প্রদানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণরূপে সচল রাখার উদ্দেশ্যে সব অপারেটর কাজ করে যাচ্ছে। অপারেটরদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বন্যা দুর্গত এলাকার পানির পরিমাণ কিছুটা কমতে শুরু করায় অপারেটরদের অচল সাইটগুলো ক্রমান্বয়ে সচল হচ্ছে।

আইএসপি: সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সিলেট বিভাগের অন্যান্য এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ১০৫টি আইএসপি অপারেটর সেবা দিয়ে আসছে। ওই এলাকায় আইএসপি অপারেটরদের ৩৭৫টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স রয়েছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় সেসব এলাকায় অবস্থিত আইএসপি অপারেটরদের নেটওয়ার্ক অপারেশন্স সংক্রান্ত স্থাপনাগুলো প্লাবিত ও বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার প্রেক্ষিতে উক্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্তিতে সাময়িকভাবে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। বর্তমানে ৩৭৫টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স-এর মধ্যে ৩৩৯টি কার্যকর রয়েছে এবং বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে ৩৬টি অকার্যকর রয়েছে। যেসকল পয়েন্ট অব প্রেজেন্সে প্রবেশ করা যাচ্ছে সেগুলো পোর্টেবল জেনারেটর দিয়ে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।

এনটিটিএন: বন্যাকবলিত তিন জেলার এনটিটিএন অপারেটরদের মধ্যে বাহন লিমিটেডের ২৯টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স, ফাইবার এট হোম লিমিটেডের মোট ৫৭টি রয়েছে, যার সবকটিই একটিভ। ফাইবার এট হোম লিমিটেডের মোট ৫৭টির মধ্যে সবগুলোই একটিভ রয়েছে।

অন্যদিকে, এনটিটিএন অপারেটরদের মধ্যে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের মোট ২৬২টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স রয়েছে, এরমধ্যে ১৩৭টি এ্যাকটিভ। বন্যাপ্লাবিত এলাকায় অবস্থিত অনেক সাইটে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকাগুলোতে এনটিটিএন সংযোগ প্রাপ্তিতে সাময়িকভাবে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে সবগুলো এনটিটিএনই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ দিতে সক্ষম।

বিটিসিএল: সিলেট শহরে ১৯ জুন জেনারেটর রুমের পানি পাম্প দিয়ে সেচে বের করা হয় এবং টেলিটকের জেনারেটর ব্যবহারের জন্য বিকল্প পাওয়ার ক্যাবল সংস্থাপন করা হয়। দুইদিন সার্বক্ষণিক কাজ এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯ জুন দুপুর ২টায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকার টেলিকমিউনিকেশনস ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিদুৎ না থাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ আছে।

জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট বন্যার জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় টেলিযোগাযোগ বন্ধ আছে। এসব উপজেলা ছাড়া সিলেট জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিটিসিএলের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু আছে। মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলা ছাড়া সবকটি উপজেলায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু আছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ২০ জুন বিটিসিএলের একটি টিম পোর্টেবল জেনারেটর ব্যবহার করে বিটিসিএলের ভয়েস সার্ভিস ২১ জুন চালুসহ ইন্টারনেট সংযোগ সচল করতে সক্ষম হয়েছে। বিটিসিএলের টিম সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় ভয়েস/ডাটা সার্ভিস সচল করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিএসসিএল: সিলেট স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ২৩টি ভিস্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। যার মধ্যে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ১টি, সিলেট ডিসির কার্যালয়ে ১টি এবং সিলেট সদর উপজেলার কার্যালয়ে ১টি করে চালু করা হয়েছে।

মোবাইল অপারেটরদের বিশেষ প্যাকেজ: সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলালিংক তাদের গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ফ্রি ১০ মিনিট ও ১০০ এমবির প্যাকেজ দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্যাকেজটি মঙ্গলবার (২১ জুন) রাত ১২টা থেকে চালু হয়। এছাড়াও টেলিটক সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বন্যার্তদের জন্য ফ্রি ১৫ মিনিট, ২০টি এসএমএস ও ৫০০ এমবির একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এছাড়া গ্রামীণফোন বন্যাদুর্গত এলাকার তাদের গ্রাহকদের জন্য ১০ ফ্রি মিনিট দিয়েছে। এই ফ্রি মিনিট ব্যবহার করা যাবে তিন দিন পর্যন্ত।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট