বিশ্বনাথে বন্যার্ত ১১টি গ্রামের মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২২

বিশ্বনাথে বন্যার্ত ১১টি গ্রামের মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

বন্যার পানিতে ডুবেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়ন। দু-এক ইউনিয়নে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দেখা মিললেও সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ১১টি গ্রাম বন্যা কবলিত হলেও পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা। খাবার সংকট ও পানি সংকট দেখা দিলেও শুধু মাত্র স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিদের নিজস্ব উদ্যোগে কিছু কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দিলে বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়। কয়েকটি ইউনিয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেখা মিললেও বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ১১টি গ্রামের বন্যার্ত মানুষেরা মারাত্মক খাবার ও নিরাপদ খাবার পানি সংকটে পড়েছেন। বন্যার্ত মানুষেরা নিজ বাড়ি ঘর ছেড়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে স্থাপিত দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাদের এই দুঃসময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটি বারের জন্য এসে খোঁজ নিচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই দুঃসময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাবিবর খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়াসহ কোনো জনপ্রতিনিধিদের দেখা মিলেনি সদর ইউনিয়েনের ৫নং ওয়ার্ডের বন্যার্ত মানুষের পাশে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আশা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গত চারদিন ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। তাদেরকে দানশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাহায্যে খাওয়া-দাওয়া করছেন। কিন্তু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে কেউ কিছু দেয়নি।

ভুক্তভোগী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের পর থেকে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কোনো খোঁজ ছিল না। এখন এই দুঃসময়েও কেউ পাশে নেই। মানুষের কষ্টের সময় যদি পাশে না পায় তাহলে এসব জনপ্রতিনিধি দিয়ে কি হবে?

এব্যাপারে বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল মোমিন মামুন বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের ১১টি গ্রামের মানুষ বন্যার্ত। এখন অব্দি আমাদের উপজেলা প্রশাসন, এমপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কেউ একটি বারের জন্য খোঁজ নেননি। ৫০-৬০ জন মানুষকে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেরকে দেখভাল করছি। স্থানীয়রা সহযোগীতা করছেন।

এবিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া বলেন, সবগুলো গ্রামে যাওয়া সম্ভব না হলেও গতকাল (সোমবার) সদর ইউনিয়েনর ৪-৬টি গ্রামে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি এবং বন্যার্ত মানুষদের নিরাপদস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট