ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২

ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুন) রাত ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ময়মনসিংহে। এই জেলায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সদর, নান্দাইল ও ধোবাউড়া উপজেলায় বজ্রপাতে ছয়জন মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনটি আলাদা বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার দড়িকুষ্টিয়া বাল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বকর (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (৩০), নান্দাইল উপজেলার কংকরহাটি গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে সাঈদ মিয়া (১২), হাদিস মিয়ার ছেলে স্বাধীন মিয়া (১১), বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. শাওন (৮), ধোবাউড়া উপজেলার চরমুহিনী গ্রামের আবু সাঈদ (৩০)।

কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, দুপুরে ফসলের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে বকর ও জাহাঙ্গীর মারা যান।

নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাঈদ, স্বাধীন ও শাওন মারা যায়।

অন্যদিকে ধোবাউড়া থানার ওসি টিপু সুলতান জানান, সাঈদ সকালে এলাকার গুগড়া বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মারা যান।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে নদীপথে নৌকায় কাওয়াকোলা যাওয়ার সময় বজ্রপাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হন। নিহত আব্দুর রাজ্জাক মুন্সি (৪৫) শহরের ধানবান্ধি এলাকার দরবেশ মুন্সির ছেলে। আহত অপর দুই ব্যক্তি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণকাজে নৌকায় করে ইট নিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ী রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে নৌকার ওপর বজ্রপাত হলে আব্দুর রাজ্জাক নামে ওই ব্যবসায়ী নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হন। এ সময় বজ্রপাতে আহত হন দুই শ্রমিক। পরে ব্যবসায়ী রাজ্জাকের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যক্তিদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

অপরদিকে সায়দাবাদ ইউনিয়নের চলমান রেল সেতু প্রকল্পে নিরাপত্তাকর্মী মো. নাসির বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি সায়দাবাদ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, সদর থানাধীন দুটি স্থানে দুজনবজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন। আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলার মজিদচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোবহান হোসেন (৫০) কালিয়াকৈর উপজেলা মজিদচালা এলাকার বসু উদ্দিনের ছেলে।

মজিদচালা ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলে সোবহান হোসেন বাড়ির পাশে গরু আনতে যান। এসময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী সোবহানকে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন নিহতের লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতে আব্দুর রহিম জোয়ার্দ্দার নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বাগানদোপ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

আব্দুর রহিম জোয়ার্দ্দার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ানের ফরিদপুর গ্রামের খোকা জোয়ার্দ্দারের ছেলে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকেলে আব্দুর রহিম জোয়ার্দ্দার জমিতে কৃষি কাজ করতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখসুন্দর গ্রামে বজ্রপাতে আ. মতিন (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আ. মতিন নিজ শেখসুন্দর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে শাকিল (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আলাদা বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মোমিনপুরে বজ্রপাতে এক নারীর ও বগুড়ার আদমদিঘীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট