তুরিন আফরোজ গং যা করেছেন তা সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২২

তুরিন আফরোজ গং যা করেছেন তা সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন

গণ তদন্ত কমিশনের শ্বেতপত্রের সমালোচনায়, ইসলামী চিন্তাবিদরা

বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

গণ তদন্ত কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্র প্রত্যাখান করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদগণ।
মতবিনিময় সভায় ইসলামী চিন্তাবিদগণ গণ তদন্ত কমিশনের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। তারা বলেন, সংবিধানের দাবি মতে, দেশের কোন নাগরিক অন্য কোনো নাগরিকের ওপর অনুসন্ধান, গোয়েন্দাগিরি ও তদন্ত করতে পারেনা। তাদের কার্যক্রমের নাম -তদন্ত কিন্তু তদন্ত সংক্রান্ত কোড অফ দা ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ ধারা ৪ এর ১ উপধারা অনুসারে তদন্ত করার জন্য কোন ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি প্রয়োজন ।
এই বিবেচনায় চৌধুরী মানিক ও তুরিন আফরোজ গং যা করেছেন তা সংবিধানের মৌলিক ধারণার স্পষ্ট লঙ্ঘন । ইসলামিক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ, আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

একই সঙ্গে তারা কোনো ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা সংস্থা না হয়েও তদন্ত প্রতিবেদন শিরোনামে কিছু প্রকাশের মাধ্যমে আইনগত অনধিকার চর্চা করেছেন। নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে । তাদের এই শ্বেতপত্র প্রকাশ সংবিধানবিরোধী ।

নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন এবং স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মানবজাতির প্রতি অশ্রদ্ধা এই কমিশনের তদন্ত ও নৈতিক আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটা সংবিধান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা মানবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপরাধ।

গণ কমিশন বিশাল আয়োজন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। সংগত কারণে প্রশ্ন উঠেছে তাদের কে বা কারা অর্থায়ন করে? কেন কোন স্বার্থে কোন শক্তি তাদের পসে। এই সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব কি? কোথাও প্রকাশিত হয়েছে কিংবা আদৌ কি তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে সরকারি দপ্তরগুলো জানে?

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে। মতবিনিময় সভায় বক্তারা, গণ কমিশনকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না।

বুধবার ( ১৮ মে -) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলরুমে ইসলামিক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত কথিত গণকমিশনের ভিত্তিহীন অভিযোগ বিষয়ে আমাদের করণীয় নির্ধারনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মাওলানা মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, কওমি মাদরাসায় কোনো জঙ্গিবাদ তৈরি হয় না। কওমি মাদরাসাগুলো আদর্শ নাগরিক তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কথিত ঘাদানিক গণকমিশন শ্বেতপত্রের মাধ্যমে স্বনামধন্য আলেম ওলামা ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। এতে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি যারা মিথ্যা শ্বেতপত্রের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করার উস্কানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। তারা গণকমিশনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংগঠনের চেয়ারম্যান তেজগাও রহিম মেটাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মো. নাজমুল হকের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী, ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদ উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা আব্দুল্লাহ ফিরোজী, মুফতি ওয়াহিদুল আলম, মুফতি বোরহান উদ্দিন রব্বানী, মাওলানা শামসুল হুদা, হাফেজ মাওলানা মনছুরুল হক, মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলী, হাফেজ মাওলানা সা’দ সাইফুল্লাহ, শায়েখ ওসমান গণি ও হাফেজ মাওলানা মোতাহার। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজী বলেন, ঘাদানিক গণকমিশন ইসলাম, মুসলমান ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট