বাইরে থেকে একটা কোরবানির পশুও ঢুকতে দেয়া হবে না : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২২

বাইরে থেকে একটা কোরবানির পশুও ঢুকতে দেয়া হবে না : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাইরে থেকে একটি গবাদি পশুও আমদানি করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

তিনি বলেন, সাধারণত আমাদের দেশে মহিষ দিয়ে খুব একটা কোরবানি দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে গরু, ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা বেশি। আমাদের উৎপাদিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু মজুদ আছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবারের কোরবানির ঈদে বিদেশ থেকে একটি গবাদি পশুও আমদানি করা হবে না।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরামের (এফএলজেএফ)’ সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় এফএলজেএফ’র সভাপতি মুন্না রায়হান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক কাওসার আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ রহমান, দফতর সম্পাদক মো: বায়েজীদ মুন্সীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে আমরা দেশের বাইরে থেকে পশু আসতে দেইনি। তাতে পশুর সংকট হয়নি। এ বছরও দেশে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। যাতে চোরাই পথে বা অন্য কোনো পথে একটা পশুও দেশের ভেতর প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকে গবাদি পশু না আসলে আমাদের কয়েক দিকেই লাভ। বাইরের গরু আসলে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছাড়ানোর সম্ভাবনা থাকে, চোরা চালানিরা উৎসাহ পায়। এসব অসুবিধা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এছাড়া আমাদের খামারিদের কথা মনে রাখতে হবে। তারা অনেক কষ্ট করে খামার তৈরি করেছে, বিনিয়োগ করেছে। তাদের পশু বিক্রি হবে না, বাইরে থেকে আসবে-এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি আরো জানান, বরাবরের মতো এবারো সারাদেশে কোরবানির হাটে পশুর চিকিৎসায় ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে।

গরুর গোশতের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোজার মাসে আমরা সাড়ে পাঁচ শ’ টাকা দামে গরুর গোশত বিক্রি করেছি, তারা (গোশত ব্যবসায়ী) কেন পারবেন না। দু-তিন জন মধ্যস্বত্বভোগী মাঝে ঢুকে যায়। এ কারণে দামটা বেশি। আমরা তো লোকসানে বিক্রি করিনি, তাহলে তারা কেন পারবেন না।’

খামারীরা বলছেন, গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণেই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। দেশেই যখন গো খাদ্যের উচ্চমূল্য তখন ভারতে রফতানি হচ্ছে খাদ্যের উপাদান সয়ামিল বা সয়া কেক। এটি রফতানি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু, তা আমলে নেয়া হয়নি। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে লাখ লাখ খামারি পশু পালন করছেন। গো খাদ্যের উচ্চ মূল্যের কারণে কোরবানির পশুর মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আর বেশি দিন নেই। আমার মনে হয় না এই অল্পসময়ের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। যারা পশু পালন বা খামার করছেন তাদেরকে একই সাথে পশু খাদ্য উৎপাদনে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি পশু খাদ্য উৎপাদনে ইন্ডাস্ট্রি করার যন্ত্রপাতি আনতে চায়, উৎসে কর মওকুফ করা হবে। শুধু সয়ামিল বা এ জাতীয় খাদ্যের ওপর নির্ভর না করে গরুর খামারীদের খামারের পাশে ঘাস চাষেও গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, সয়ামিল রফতানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলাম। বাণিজ্যমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এটা যাতে বাইরে না যায়, সেটার ব্যবস্থা করবেন। নতুন করে চিঠি দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা মনে করি আবেদনটা এখনো বিবেচনাধীন আছে। তিনি সেটা বিবেচনা করবেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট