ভূমধ্যসাগর থেকে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটক

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২২

ভূমধ্যসাগর থেকে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটক

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির রাজধানী ত্রিপোলির পূর্ব উপকূল থেকে উন্নত জীবনের জন্য ইউরোপের পথে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতিকালে গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) তাদের আটক করা হয়।

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান এরই মধ্যে মার্কিন মিডিয়া ভয়েস অব আমেরিকার কাছে খবরটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। অন্য দিকে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ইউরোপের পথে পাড়ি দেওয়ার সময় ৫৪২ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে লিবিয়ার পুলিশ।

মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে লিবিয়ার পুলিশ আমাদেরকে ৫০০ জন বাংলাদেশিকে আটকের কথা জানিয়েছে। যদিও আমরা এ পর্যন্ত ২৪০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি একটি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ দিকে রবিবার (২৪ এপ্রিল) লিবীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে তুর্কি মিডিয়া টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, জাহাজে করে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ৫৪২ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন ফটোগ্রাফার বলছেন, আটককৃত অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালের পর উপকূল থেকে একদিনে এতো সংখ্যক বাংলাদেশিকে আটকের ঘটনা এটিই প্রথম। সে বছর ছয় শতাধিক অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২০ সালে দালালদের নিয়ন্ত্রিত এক বন্দিশালায় ২৬ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মূলত এরপর থেকে এই রুটে অবৈধ অভিবাসীদের যাতায়াতে কিছুটা ভাটা পড়ে। এমনকি মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণের সময় এই রুটে অনেকটাই বন্ধ ছিল যাতায়াত।

লিবিয়া কোস্টগার্ডের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, এক সময় ত্রিপোলির পশ্চিম উপকূল ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীরা ইউরোপের সমুদ্র অতিক্রম করার চেষ্টা করত।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, গত তিন মাসে নারী ও শিশুসহ মোট পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশিকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীকালে তাদের প্রত্যেককে দেশে পাঠানো হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বলছে, ২০২১ সালে প্রায় দুই হাজার অভিবাসী ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে এই সংখ্যাটি ছিল এক হাজার ৪০১ জন।

উল্লেখ্য, আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র লিবিয়ায় দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৬ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ওই নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করা হয়। যদিও আদালত মন্ত্রণালয়ের নোটিশের পক্ষেই রায় প্রদান করেন। ২০২২ সালের শুরুতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

মূলত এরপর থেকে কর্মসংস্থান ভিসা নিয়ে অনেকেই লিবিয়ায় যাচ্ছেন। যদিও এই বাংলাদেশিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লিবিয়াতে কর্মসংস্থান না খুঁজে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট