মসজিদের পাশে ক্লাব নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন করা হয় সোহেল চৌধুরীকে : র‍্যাব

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২২

মসজিদের পাশে ক্লাব নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন করা হয় সোহেল চৌধুরীকে : র‍্যাব

মসজিদের পাশে ক্লাবের অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করতে গিয়ে খুন হন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী। এমনটাই জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।


সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামি আশীষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাতে র‍্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে আশীষকে গ্রেফতার করে।

এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারণসহ সোহেল হত্যায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন আশীষ।

র‍্যাব বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আশীষ বলেন, বনানীর আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় অবস্থিত ট্রাম্পস ক্লাবের পাশে ছিল বনানী জামে মসজিদ। সোহেল চৌধুরী মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে ক্লাবের অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে বারবার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে সোহেল চৌধুরীর প্রতিবাদের কারণে ক্লাব মালিক বান্টি ও আশীষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত আসে। একই কারণে আজিজ মোহাম্মদের স্বার্থেও আঘাত লাগে। ক্লাবটি বন্ধের চেষ্টা করায় বান্টি, আশীষ, আজিজ, তৎকালীন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের চক্ষুশূলে পরিণত হন সোহেল চৌধুরী। ১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাই আজিজের সাথে সোহেল চৌধুরীর তর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আজিজ ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে বান্টি ও আশীষকে অনুরোধ জানান।

র‍্যাবের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আশীষ বলেন, জনসমক্ষে আজিজকে অপমান করায় সোহেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে তিনি (আশীষ) ও বান্টি একটি পরিকল্পনা করেন। ক্লাবে ইমনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তখন বান্টি, আশীষ ও আজিজ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিয়ে সোহেলকে হত্যার প্রস্তাব দেন। ইমন এ প্রস্তাবে রাজি হন। পরে ইমন এ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন।

১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি।

২০০১ সালে ৩০ নভেম্বর এ মামলায় অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। আগে দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে রায় দেন। গত ২৮ মার্চ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত।