গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চ্যানেল বাংলাভিশন

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২২

গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চ্যানেল বাংলাভিশন

 || মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ||


জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশন ১৬ বছর পারি দিয়ে ১৭তম বছরে পদার্পন উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র _ এক

বিবর্তনের স্রোতে ভেসে মানবসভ্যতা সামনের দিকে এগিয়েছে।জীবনকে উপভোগ্য ও অর্থবহ করার ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই।
সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের ধারণাও মানুষের কল্যাণকর ভাবনার চমকপ্রদ উদ্ভাবনী। রাজতন্ত্র থেকে আধুনিক গণতন্ত্র- প্রবৃত্তিগত জোটবদ্ধতার অনুকূলে মানুষের নিরন্তর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এ এক পর্যায়ক্রমিক উত্তরণ।

জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশনের আজ ১৭তম বছরে পদার্পন উপলক্ষে সর্বপ্রথম
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে। তার দেখানো সত্যও ন্যায়ের পথে চলবে বাংলাভিশন। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুখপত্র হবে বাংলাভিশন।
দেশও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নির্যাতিত-নিপীড়ত মানুষের পক্ষে সাহসী অবস্থান অব্যাহত রাখবে দেশের জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশন । প্রতিষ্ঠানটির স্বপ্নদ্রষ্টা একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সৈনিক গেরিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা,অভিভুক্ত ঢাকার উন্নয়নের রূপকার,সাবেক সফল মন্ত্রীও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার দেখানো পথ অনুসারে সত্য,ন্যায়ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
দেশের উন্নয়নও অগ্রযাত্রায় চ্যানেল বাংলাভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাভিশন দীর্ঘপথ অতিক্রম করে দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ।

গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র-আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কাঠামো ক্রমাগত যুক্তিগ্রাহ্য,মানবিকও শ্রেয়তর করার অব্যাহত প্রচেষ্টার মাঝেই নিহিত আছে সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে মানুষের চিরকালীন আকাঙ্ক্ষা।

জনমানসে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে নাগরিকতাবোধ, জনমনে ক্রমশ দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে সার্বভৌমত্বের ধারণা। আইন,বিচারও শাসন বিভাগের পাশে যুক্ত হয়েছে গণমাধ্যম; যা কার্যত রাষ্ট্রও নাগরিকের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে। গণতান্ত্রিক অনুশীলনের সংস্কৃতিতে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা,নতুন গতি।

মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কার ইউরোপে নবজাগরণের সূচনা ঘটিয়েছে। উনিশ শতকে বিজ্ঞানের এ অর্জন সংবাদপত্রও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ইতিবৃত্তে আধুনিকতার উদ্বোধন ঘটায়। চীনে হাতে লেখা খবরের কাগজের চল থাকলেও ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি ভারতবর্ষেও সংবাদপত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে এশতকেই।

সংস্কৃতিও সভ্যতার বিকাশে সংবাদপত্র নতুন যুগের সূচনা ঘটায়।মানুষের ভাবনা, চিন্তা, ধর্ম,রাজনীতি,আদর্শের বাহনে পরিণত হয় এ প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মিডিয়া । ‘মুক্তচিন্তাও মত প্রকাশের স্বাধীনতা’শব্দবন্ধটি নতুন ব্যঞ্জনা লাভ করে।

ঔপনিবেশিক আমল এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংবাদপত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রাধান্য সুস্পষ্ট ছিল। তবে এ কথাও সত্য যে, সরকার বা সরকারবিরোধী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা বা জনমত সংগঠনে সংবাদপত্রের প্রচ্ছন্ন বা প্রবল ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে যুগ নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তান শাসনামলে দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ,পূর্বদেশ,জনপদ, অবজারভার যেভাবে বাঙালির অন্তর্গত চেতনার স্ফুরণ ঘটিয়েছিল;গণমাধ্যমের মহত্ত্ব, সক্ষমতাও জনসম্পৃক্ততা যেভাবে একটি জাতিসত্তার বিকাশে ইতিহাস-নির্ধারণী ভূমিকা রেখেছিল,তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জয় বাংলা, বাংলার বাণী,সংগ্রামী বাংলা, মুক্তবাংলা,জাগ্রত বাংলার মতো অনেক পত্রিকা কখনও মুক্তাঞ্চলে,কখনও প্রবাসে অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাও স্বাধীনতাকামী জনতাকে যেভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল;উত্তাল মুক্তিকামী জনতাকে জাতীয়তাবাদী জনউচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত করেছিল-তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মাতৃভূমির মুক্তির জন্য শহীদুল্লা কায়সার,নিজামুদ্দিন আহমেদ, সেলিনা পারভীন,সিরাজউদ্দিন হোসেন বা গোলাম মুস্তফার মতো মহৎপ্রাণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের মহান আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। আর এজাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পথে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আত্মবলীদানের এ বিরল দৃষ্টান্ত একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধের প্রকৃতি,ব্যাপ্তিও চরিত্র সম্পর্কে অনাগত সময়ে সমাজ গবেষকদের কৌতূহলী উপাদান জুগিয়ে চলবে-এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

কেতাবি ধারণা বলে-একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা কতটা গণতান্ত্রিক, কতটা বিরুদ্ধমত সহনীয়,তা পরিমাপের মাপকাঠি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। গণতান্ত্রিক চর্চাকে নিশ্চিত করতে হলে মতের বহুত্ব,পথের বিবিধতা,আচরণিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে, গণমাধ্যমের মুক্তও নিরাপদ পরিসর অপরিহার্য। সমালোচনা বন্ধ হলে গণতন্ত্র সৌন্দর্য হারাবে, বিকল্প তথ্যপ্রবাহ চালু হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই সরকার শুধু ভিন্নমতকে সহ্য করবে তা নয়,প্রতিস্পর্ধী কণ্ঠকে নিরাপত্তাও দেবে। গণতন্ত্রের এই প্রহরীকে(ওয়াচ্ ডগ)রক্ষা করা জীবন্ত(ভাইব্র্যান্ট)সমাজের অস্তিত্বের জন্য ভীষণ জরুরি। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সামরিক,ধর্মভিত্তিক এমনকি গণতান্ত্রিক সরকারও কখনও কখনও মুক্তচিন্তার প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অগণতান্ত্রিক চিন্তার বিকাশকে উৎসাহিত করেছে,ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ১৯৭৫-এ মানবসভ্যতার কলঙ্কজনক স্খলন,সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করা বা প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের উত্থানকে নিরুৎসাহিত করায় গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় মনে হয়েছে। অথচ বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সামাজিক মনস্তত্ত্ব নির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষ অবদান থাকবে-এটি কাম্য, প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত।

বিগত শতাব্দীর ৮০-র দশক থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অকল্পনীয় উন্নতির ফলে সংবাদপত্র,টিভি চ্যানেলও রেডিওর মতো গতানুগতিক সংবাদমাধ্যমের পাশে জায়গা দখল করে নেয় সাইব্যানেটিকস; গড়ে ওঠে বিশাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব,মেসেঞ্জার, ই-মেইলের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সংযুক্ত হওয়া যায় এক লহমায়। শুধু শ্র“তিমাধ্যমে নয়, দৃশ্যমাধ্যমেও মানুষ মানুষের সঙ্গে যুক্ত ।

পুরো গণমাধ্যম জগৎটিই ছিল এক সময় গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এমনকি প্রায় সকল গণমাধ্যমগুলোর উদ্যোক্তাগণও ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরাই । কালের বিবর্তনে এখন বেশীরভাগ গণমাধ্যমের উদ্যোক্তা হিসেবে আগমন ঘটেছে বিভিন্ন রকমের ব্যবসায়ীর অর্থাৎ বর্তমানে আদার বেপারী থেকে শুরু করে জাহাজের বেপারীদেরকেও লক্ষ করা যাচ্ছে গণমাধ্যমের উদ্যোক্তা হতে; শুধুমাত্র চাকরির ক্ষেত্রগুলো রয়ে গেছে গণমাধ্যমকর্মী বা সংবাদকর্মীদের হাতে । কারন ব্যবসায়ীদের হাতে উদ্যোগ নেয়ার টাকা বা মূলধন আছে; আর সিংহভাগ সংবাদকর্মীদের উদ্যোক্তা হওয়ার টাকা নেই কিন্তু চাকরি করার মেধা বা যোগ্যতা আছে । তাই টাকা থাকলেই গণমাধ্যমের উদ্যোক্তা হওয়া যায় কিন্তু সাংবাদিক হওয়া যায়না কারন সাংবাদিক হতে হলে কিছু যোগ্যতা লাগে যা টাকা দিয়ে কেনা যায়না, কিন্তু টাকা দিয়ে সাংবাদিকদের বেতনভুক্ত চাকরিজীবী বানানো যায়, যা এখন সে সকল বেপারীরা হরহামেশাই করছেন । এক সময় গণমাধ্যমে মেধাকে নিয়োগ দিয়ে সাংবাদিক বানানো হত আর এখন এই সকল বেপারীরা সেই সকল তৈরি সাংবাদিকদের নিয়োগ দিয়ে সাংবাদিক থেকে চাকরিজীবী বানিয়ে ফেলছেন এবং যতই দিন যাচ্ছে ঘটনাগুলো ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে গণমাধ্যমে যাদের নতুন আগমন ঘটছে তারা বাধ্য হয়েই জীবিকার প্রয়োজনে সরাসরি চাকরিজীবী হয়ে যাচ্ছে, তাদের আর সাংবাদিক হয়ে চাকরিজীবী হওয়ার সুযোগ নেই। এই সুযোগ যাদের হয়েছিল তাদের বেশীরভাগই ইহলোক ত্যাগ করেছেন আর অল্প কয়েক মান্যবরগণ গণমাধ্যমকে এখনও শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন, একদিন তারাও ইহলোক ত্যাগ করবেন। সেদিক বিবেচনায় নিকটবর্তী ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মী বলতে যা বুঝায় তা আর থাকবেনা, থাকবে শুধুই গণমাধ্যম চাকরিজীবী যারা মালিকের তথা উদ্যোক্তার কথা মত লিখবেন বা রিপোর্ট করবেন আর তা না করলে যে কোন সময় ফায়ার হবেন। সবসময়ই তাদের মাঝে মালিকের কথামত না চললে চাকরি হারিয়ে পথে বসার ভীতি কাজ করবে মানে জৈবিক হয়রানি হবেন প্রতিনিয়ত, কারন তারা চাকরিজীবী তাই।

বাংলাভিশন ১৬ বছর ধরে সফলভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে,যেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষের সংবাদের যে চাহিদা, তার সিংহভাগ পূরণ করে যাচ্ছে এ জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশন । তথ্য-প্রযুক্তির এ সময়ে জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল বাংলাভিশন যে এখনো জনপ্রিয়তা ও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখে তার যাত্রার শুরু থেকেই অব্যাহত রেখেছে এটিও বড় একটি সাফল্য। সেই সাথে আরেকটি বিশেষ বিষয় হচ্ছে ক্রিড়াঙ্গন ও শোবিজাঙ্গনের কাজের খবরের পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনাও হয় চ্যানেল বাংলাভিশনে। আমি আমার এই জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল বাংলাভিশন এভাবে এগিয়ে যাওয়াকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।

পরিশেষে আরও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি – আমার নিউজ পোর্টাল বাংলা পোস্ট- দৈনিক নয়াদেশ , – জাতীয় জনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ এবং দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান দি ইউনিভার্সেল একাডেমীসহ ।

বাংলাভিশনের সকল শুভাকাঙ্ক্ষী দর্শক শ্রোতা ও বাংলাভিশন পরিবারের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । জয় হোক জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশনের সেই শুভকামনা রইল । আল্লাহ হাফেজ ।


লেখক:-: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক বাংলা পোস্ট |√| বিশেষ প্রতিবেদক দৈনিক নয়াদেশ |√| ও প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |√|