প্রাণের বইমেলা ২০২২ : করোনাকাল ও এবারের বইমেলা

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২২

প্রাণের বইমেলা ২০২২ : করোনাকাল ও এবারের বইমেলা

|•| মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার |•|

অমর একুশে গ্রন্থমেলা
ধারাবাহিক পাঠকমেলা- পর্ব-১৮


আজ ৪ মার্চ শুক্রবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৮তম দিন শেষ হয়েছে । ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মাস। ফেব্রুয়ারি আমাদের আশার মাস। বাঙালির বিসর্জন ও অর্জনের মাস। বইমেলা মানেই অমর একুশে গ্রন্থমেলা। একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাঙালি আজ শোককে শক্তিতে পরিণত করেছে। এই বইমেলাতে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়া যায়।

বাঙালি তার ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিকে বাংলা সাহিত্যে ধারণ করে। নতুন নতুন বইয়ে ভরে যায় বইমেলা। এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে নতুন লেখক তৈরি হয়। তারা অতি উৎসাহে তার প্রথম গ্রন্থটি পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারে। আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত হয়। সব লেখকের কাছে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পাঠক ও লেখকের মধ্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসা বিনিময় হয়। ভক্তরা প্রিয় লেখকের বই কিনতে উৎসাহী হয় অটোগ্রাফসহ।

আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে জাতিসংঘ কর্তৃক। এটিও আমাদের কম অর্জন নয়। তবু আজও বাংলাদেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা সম্ভব হয়নি। যেটা হওয়া একান্ত উচিত। সংশ্লিষ্টদেরকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে, সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের উচিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করা। তা হলেই আমরা সফল হব। প্রাণের বইমেলা২০২২ । কল্লোলিত শিশু-কিশোর, উচ্ছল তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণ লেখকদের প্রায় সবাই মেলায় অংশগ্রহণ করেন আনন্দচিত্তে। শিশুরা উপযোগী বই খুঁজে নেয় মহানন্দে।

অন্যরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বই কিনে নেয়। শুনেছি কবিতার বই বিক্রি হয় কম কিন্তু কবিতার বই বেশি প্রকাশিত হয়। করোনাকালে মানুষের যেমন ক্ষতির সীমা নেই তেমনি প্রকাশকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এবারের করোনাকালে বইমেলা মোটামুটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশ জমে উঠেছে। মাস্ক পরে থাকাটা জরুরি। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মানার নিয়ম তো বাংলাদেশের কোথাও তেমনভাবে পরিলক্ষিত হয়নি। ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমা বলেন মেলা জমে উঠেছে। গিয়েছিলাম মেলাতে। বাংলা একাডেমির মঞ্চে কবিতা পাঠ করলাম, রাইটার্স ক্লাবের মঞ্চে কবিতা পাঠ শেষে মেলা ঘুরে বেশ জমজমাটই দেখলাম।

রুমা আরও বলেন মেলার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন। আয়োজন বেশ ভালো। আমার দুটো গ্রন্থ মেলায় এসেছে। একটি গল্পগ্রন্থ ‘মধ্যরাতের মেয়েটি’ আর একটি ছড়াগ্রন্থ ‘রকমারি ছড়া’। মেলায় আসা সবার প্রতি প্রত্যাশা- দুটো করে বই কিনুন, তা হলে প্রকাশকদের মুখে হাসি ফুটবে। লেখকরাও অনুপ্রাণিত হবেন। প্রাণের এই বইমেলার জন্য আমরা বছরব্যাপী আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। একুশের বইমেলা আমাদের দীপ্ত অহঙ্কার।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৫তম দিন ছিল গত ( ২ মার্চ বুধবার-)। শবে মেরাজের ছুটি থাকায় এ দিন মেলাপ্রাঙ্গণে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ মেলায় এলেও বিক্রি সে রকম ছিল না। গতকাল বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মেলাপ্রাঙ্গণ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ছুটির দিন উপলক্ষে মেলা জমজমাট ছিল। স্টলে স্টলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বইকেনা বেচা নিয়ে কথা হচ্ছিল।

এর বাইরেও মেলাপ্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যাদের হাতে নেই কোনো বইয়ের ব্যাগ, নেই স্টলে গিয়ে বই দেখার ইচ্ছা। প্রকাশক ও স্টল কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের আনাগোনা হয় মেলাপ্রাঙ্গণে। তবে এর মধ্যে ক্রেতা কম। দর্শনার্থীরা বেশি।

চন্দ্রাবতী একাডেমির প্রকাশক রোকনুজ্জামান বলেন, এখানে অনেকেই ঘুরতে আসে। তবে ঘুরতে আসাটাও খারাপ নয়। মেলায় আসবে, ঘুরবে, বই সম্পর্কে জানবে এভাবেই বই কেনার ইচ্ছা তৈরি হবে।

এদিকে মেলায় গত ২ মার্চ ১৫তম দিনে নতুন বই এসেছে ৬৯টি। বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : জামিলুর রেজা চৌধুরী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবদুল কাইয়ুম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মাসুদুল হক এবং মুনির হাসান। সভাপতিত্ব করেন আইনুন নিশাত।


লেখক:-: বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশক |•| ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: বাংলা পোস্ট |•| বিশেষ প্রতিবেদক: দৈনিক নয়াদেশ |•|


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট