ডিআরইউ তে এবি পার্টির দুই শীর্ষ নেতার সংবর্ধনা

প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২১

ডিআরইউ তে এবি পার্টির দুই শীর্ষ নেতার সংবর্ধনা

 বিশেষ প্রতিবেদক

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার


ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার এক দফা দাবিতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে কাজ করবে এবি পার্টি


আজ ৯ অক্টোবর’২১ শনিবার সকাল দশটায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও তুরস্ক সফরোত্তর নেতাদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির কেন্দ্রীয় আহবায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্বর্ধনা সভায় সফরের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন পার্টির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব জননেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু।

দলের সম্বর্ধিত সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন, ব্যক্তিগত সফর হলেও নানা কারণে আমাদের এই সফর ছিলো ঐতিহাসিক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে সাক্ষাতসহ সফরের বর্ননা দিতে গিয়ে মন্জু বলেন, এই সফর ছিল নতুন দলের জন্য প্রাথমিকভাবে অনেক বড় অর্জন। এবি পার্টি নিয়ে আজ অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমাদের কয়েকজন নেতার পদত্যাগ ও অন্যদলে বড় বড় পদে যোগদান করায় মিডিয়া সেটিকে ফলাও করে প্রচার করেছে। যারা সারাক্ষণ আমাদের নিন্দা করে বেড়ান তারা বলছেন, দলে দলে যোগ্য লোকজন আমাদের দল ছাড়ছে। অথচ একসময় তারা বলেছেন আমাদের দলে নাকি কোন কোন লোকই আসবেনা! কোন যোগ্য লোক নাকি আমাদের দলে যোগ দেয় নাই, সব নাকি বাতিল মাল! এখন আমাদের দল থেকে নেতারা গিয়ে অন্যদলের বড় নেতা হয়েছেন। এখন নিন্দুকেরা উল্টা বলে নিজেরাই ফেঁসে গেছেন। তিনি বলেন সংগ্রাম আন্দোলন চড়াই উৎড়াই ও ভাঙ্গা গড়ার মধ্যদিয়ে এবি পার্টি ক্রমান্বয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের দলের ওপর ব্যাপক নজরদারী করছে। তারা ভাবছে আমরা কারও গোপন পারপাস সার্ভ করছি কিনা! অপরদিকে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে আমরা নাকি সরকারী বা অন্য কারও পক্ষ হয়ে কাজ করছি। মন্জু চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন আপনারা উভয় পক্ষ সাধ্যমত চেষ্টা করুন, ইন’শা আল্লাহ আমাদের সকল কার্যক্রম স্বচ্ছ-ট্রাসপারেন্ট। কোনো কিছুর গন্ধ ও প্রমান খুঁজে পান কিনা দেখেন। এবি পার্টি কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সৃষ্টি হয়নি। এবি পার্টি একটি স্বয়ক্রিয় ও স্মতস্ফূর্ত রাজনৈতিক দল।
জনাব মন্জু সরকারের সমলোচনা করে বলেন, সরকার একটার পর একটা রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে। একবার তারা রেকর্ড করেছিলো মোট ভোটারের চেয়ে বেশী ভোট কাস্ট করে, আর এবার নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর জামানত হারানোর রেকর্ড সৃষ্টি করে তারা সারা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। দেশবাসী ভোটের অধিকার ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন আমাদের আন্দোলনের প্রথম দাবী আমার ভোটাধিকার ফেরত চাই। ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার এক দফা দাবিতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে কাজ করবে এবি পার্টি।

দলের যুগ্ম–আহবায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। এখানে বাক স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মানুষ অধিকার বঞ্চিত হয়ে নির্যাতিত নিষ্পেষিত হচ্ছে। এবি পার্টির জন্ম হয়েছে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল উপহার দেওয়া এবি পার্টির চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। দুর্নীতি আর লুটপাটতন্ত্র কায়ম হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচার হচ্ছে। তিনি দেশ রক্ষায় নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহবান জানান। তাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রবাসী, যাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে একটি করে বাংলাদেশ অবস্থান করে। তাদেরকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। এই জন্যই আমরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও তুরস্কের বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে এবি পার্টি গঠন, এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সেখানেও বলেছি আজো বলছি, এবি পার্টি জনগণের পার্টি। ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি আমরা প্রতিষ্ঠা করবোনা। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।

যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ডাঃ মেজর (অবঃ) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, আমরা আজ আমাদের নেতাদের কাছে তাদের সফরের অভিজ্ঞতা শুনবো। এই দেশকে আমরা একটা কল্যানরাষ্ট্রে পরিনত করার যে সংগ্রাম শুরু করেছি, তাতে এই অভিজ্ঞতা আমাদের বিরাট কাজে লাগবে। গোটা দেশে আমরা সংগঠন বিস্তৃত করে সবাই একত্রে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আন্দোলনকে সফল করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

সভাপতির বক্তব্যে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, আমরা আমাদের নেতাদের আত্মবিশ্বাস দেখেছি। আমি খুলনা সফরে ছিলাম, গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা বিদেশ সফরে ছিলেন, তারপরও আমাদের নেতারা সকল সমস্যা কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। পার্টি আজ দেশে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবোই। তিনি অনুষ্ঠানে আগত সকল নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানান।

সম্বর্ধনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব বিএম নাজমুল হক, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, সহকারী সদস্য সচিব আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুব পার্টির সমন্বয়ক এবিএম খালিদ হাসান, শ্রমিক নেত্রী বেবি পাঠান, গাজীপুর জেলা আহবায়ক আমজাদ খান, উত্তরের সমন্বয়ক আলতাফ হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক আব্দুল হালিম খোকন, গাজীপুর মহানগর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী নাসির, আবদুল হালিম নান্নু, সুলতানা রাজিয়া, গাজীপুর যুব আহবায়ক মাসুদ জমাদ্দার রানা, সিলেট মহানগর যুব সমন্বয়ক তানজিল নাফি, যুবনেতা ইলিয়াস আলী, মিনহাজুল আবেদীন শরীফ, নারায়নগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক আনোয়ার ফারুক সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।


 

  •