নারীর ক্ষমতায়ণ ও দূর্বৃত্তায়ণ এক নয় : ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়

প্রকাশিত: ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২১

নারীর ক্ষমতায়ণ ও দূর্বৃত্তায়ণ এক নয় : ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়


__মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ___

বাংলাদেশ নিয়ে এক সময় এক ধরণের আলোচনা ছিল।বলাহোত দেশটি অত্যন্ত রক্ষণশীল। এদেশে মেয়েরা কাজ করেনা ,করতে পারে না ।বিশ্বব্যাংক নারীর ক্ষমতায়ণ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মূলত এনজিও গুলোর ভূমিকাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে । তখনকার কথা নিয়ে যদি আলোচনা করা যায় তাহলে এটা বলা যাবে গ্রামে-গঞ্জে তখন যেসব মেয়েরা তুলনামূলক অনেক বেতনে চাকুরি করত তাদের মৌলিক শিক্ষা দীক্ষা ছিলনা বললেই হোত। এসব এনজিওগুলো যেহেতু তথাকথিত ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে কাজ করতে তাই খুব শিক্ষা দীক্ষার প্রয়োজন হোত না। একময় এসব মেয়েদের কাজও ভূমিকা নিয়ে জাতীয় বিতর্ক উঠেছিল । তখনই প্রশ্ন উঠেছিল এদের ব্যক্তিগত জীবনাচার নিয়ে। এ সময়টা আসলে বাংলাদেশের রাজনীতির এক দুঃসময়ের দিনলীপির সময়। সামরিক স্বৈরাচার তখন গেড়ে বসেছিল ।মানুষের আসলে ভাববার বা করবার খুব কিছু ছিল না । বলার অপেক্ষা রাখেনা,নয়া টাকা যাদের হাতে পৌঁচেছিল তাদের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ভাবান্তর শুরু হয়। কোথাও স্বামী বদল কোথাও নয়া প্রেম কোথাও পরকীয়া। এসব নানা কিছু ঘটছিল মূলত নয়া টাকা অনেকের দীর্ঘ দিনের ‘অন্ধত্ব’ ঘুছিয়ে দিয়েছিল। তারা নতুনভাবে বুঝতে শুরু করেছিল ।সমাজের গ্রন্থীতে দীর্ঘদিন গেড়ে থাকা যেসব কুসস্কার বা মিথ্যা ধারণা সক্রীয় ছিল তা ভাংতে শুরু করে । আর এব্যাপারটিও ঘটতে থাকে মূলত নতুন বিভ্রান্তির ঘেরাটোপে । বাঁধ ভাংগা জোয়ার রশি ছেড়া গরু যেমনি বাদ বিচার করেনা তেমনি সংস্কারের নামে সমাজে প্রবেশ করতে থাকে এক ধরণের ধর্ম বিরোধিতা । নিজেদের অধিক কথিত প্রগতিশীল প্রমাণের জন্য যারা মরিয়া হয়ে উঠেছিল তাদেরই একটি অংশ মূলত কথিত প্রগতির নামে নারীকে ভোগের সামগ্রীতে প্রতিপন্ন করতে থাকে। আঘাত করে বিয়ের উপর । ভাংতে চায় সমাজ পরিবার । নারীকে তার কথিত “ইচ্ছা’ দাসে পরিণত করানামে মূলত নয়া কর্তাদের সেবাদাসে পরিণত করতে থাকে । একদিকে অর্থ অন্যদিকে সনাতনি ব্যবস্থা । মূলত আমাদের মত অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশগুলোতে একসময় বেনিয়ারা যেমনি অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক সতীত্ব কিনে নিয়েছে তেমনি নয়া অর্থও সামাজিকভাবে সতীত্বের বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে এক নয়া ধারণার জন্ম দিতে থাকে । এক অর্থে হয়ত অনেকেই একে সামাজিক বিপ্লব বলতে পারেন।মনেহতে পারে এর কোন বিকল্প ছিলনা নেই । মূল বিষয়ে যাবার আগে এটি ছোট্ট ঘটনা মনেকরিয়ে দিই । বিটিভিতে একটি সাড়া জাগানো নাটক হয়েছিল ব্রেইণ ফ্যান্টাসী ।বিষয়বস্তু সংক্ষেপে এরূপ, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত দুজন মানুষের একজনের শরীর অন্যজনের মস্তিষ্ক ঠিক ছিল । চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিলেন দুজন মিলে একজন বানাবেন । উভয় পক্ষ সম্মতিও দিল কিন্তু দেখা গেল চিকিৎসাবজ্ঞাণে সুস্থ হলেও মনোবিজ্ঞানে সুস্থ করে তোলার অগেই রোগী পালিয়ে যায়।পরবর্তী ঘটনা আদালতে । মূলত আমাদের দেশে মোঘল পরবর্তী কাল থেকেই এক ধরণের ধাধা সমাজ দেহে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।বেনিয়া ইংরেজরা এদেশে লুন্ঠন করতে এসেছে যখন তাদের দেশে শিল্প বিপ্লব সাধিত হয়েছে ।শিল্প বিল্পবের মাধ্যমে সেসব দেশে যে স্বাধীন মানসিকতার বিকাশ হয়েছে তার কোন প্রভাব ভারতে পরেনি বা পরতে পারেনি । কৃষক অনুকূল ভূমি ব্যবস্থা সমূলে ধ্বংস করে প্রজাপীড়নের শোষণের ভূমি ব্যবস্থা চালুর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের দুর্গতির সুবাদে যে নব্য ধণিক শ্রেণরি জন্ম হয়েছিল তাদের লালনার্থেই ইংরেজরা ভারতে তথা কথিত আধুনিক যুগের সুচনা করেছিল যার মূলে ছিল মদ নারী আশক্তি । এরাই প্রথম আইনকরে পতিতাবৃত্তি চালু করেছিল । কারা সমাজে পতিতাবৃত্তিতে নাম লেখান কিভাবে এর বিস্তৃতি হতো বা হয়ে আসছে এসবই এখন অনেকের নখদর্পণে। সোজা কথায়, আইনে স্বেচ্ছা কথার উল্লেখ থাকলেও পুরো ব্যাপারটি হতো বাধ্যকরণ । একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রীয়তাই এসব ক্ষেত্রে বড় বিষয় । বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্রই শুধুনয় অনেকেই পতিতাদের প্রেমাশক্তি নিয়ে হৃদয় বিদারক মনোমুগ্ধকর উপন্যাস রচনা করেছেন । তবে পতিতা বৃত্তি উচ্ছেদ হোক বা উচ্ছেদ প্রয়োজন এনিয়ে কোন অন্দোলন তারা করেছেন এমন প্রমাণ নেই । বাল্য বিবাহ রোধে বিধবা বিবাহ চালুর অন্দোলনের কথা সুবিদিত কিন্তু সমাজে পতিতাবৃত্তি রোধর কোন আন্দোলন সুবিদিত নয়। যদিও আমাদের সংবিধানে পতিতাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে পতিতাবৃত্তি এখন আর লিখিত কোন পদ্ধতিতে নেই বরং ছড়িয়ে অছে নানা পদ্ধতিতে। যারা বিদ্যমান বাস্তবতা বহলা রেখে পতিতাবৃত্তি নিরোধ করতে চেয়েছেন তাদের অবস্থা হচ্ছে “পঞ্চস্বরে বিদ্ধকরে করেছ একি সর্বনাশ /বিশ্ব মাঝে দিয়েছ তারে ছড়ায়ে।”
সমাজকে সচল রাখতে নারীর ক্ষমতায়নকে হালকা করে দেখার কোন সুয়োগ নেই। এই ক্ষমতায়ণ বলতে আসলে কি বোঝায় এর উদাহরণ কি বোধকরি এনিয়ে নানা বিতর্ক থাকতে পারে এবং অনেকেই নানা প্রসঙ্গ তুলতে পারেন ।সহজ কথাটা আগে বলে নিই । যোগ্যতা দক্ষতাই মূল বিষয়।আসলে এ দিকটাতে আমরা কতটা নজর দিয়েছি বা দিতে পারছি সেটি বোধহয় এখন খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ চিরন্তন। একে এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। মূল ঘটনার সূত্রপাত পুরুষেরাই করে।সাধারণভাবে দেখুন যখন আমর বিয়ে করি তখন নারী শুধু সম্মতি দেন। সব ক্ষেত্রেই অবস্থাটা একই। অাসলে আমরা নারীকে প্রলুব্ধ করি ব্যবহার করি পরে যখন ধরা পরে যাই তখন তাকে প্রবঞ্চিত করি।যেহেতু নারী হচ্ছে ধরীত্রীর প্রতিরূপ তাই তার তো এড়িয়ে যাবার অবস্থা থাকেনা। রমরমা গল্প বলি আসর জমাই বিক্রীত সুখ উপভোগ করি। অথচ একবারও ভাবিনা কে বা কারা তাদের ঘরের বাহির করেছে ।হ্যাঁ অবশ্যই বর্তমান সময়ে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা এখন আর কাউকে এগিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই বরং সংঘবদ্ধচক্র নিজেরাই এগিয়ে আসছে সামাজিক অপরাধে। রাস্তায় হাটে বাজারে যা বা যাদের দেখা যায তাদের অলোচনা সহজ।একটু চোখ ফেরান। কনেষ্টবল বা সুইপার মহিলার প্রতি পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কুদৃষ্টির কথা মাত্র সেদিনের। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কথিত বসদের খুশি করতে মহিলা কর্মীরাই মেয়েদের সরবরাহ করেছে এখবরও তো এখনো বাসী হয়নি।এমনকি নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাতে আত্মসমর্পণের কথাও তো সরবে প্রচারিত হয়েছে ।


বিদ্যমান সময়ে সমাজের এমন কোনো বিভাগ স্তর বা পেশা কী খুঁজে পাওয়া যাবে, যেখানে এই অসামাজিক দূর্বৃত্তায়ণ নেই বা এর কোনো প্রভাব নেই । এক সময় বলা হতো ডিসি এসপি ওসির স্ত্রী এখন অনেক ক্ষেতেই বলা হচ্ছে ডিসি এসপি ওসির স্বামী । ক্ষমতার জায়গায় লিঙ্গান্তর হলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে তা বোধহয় বলা যাবে না । কিন্তু কেন? কোনো ঘটনা ঘটলে চারিদিকে সাড়া পরে যায়। হুড়োহুড়ি করে তৎপরতার সিরিজ দেখা যায় । অথচ বিষয়গুলো যে ছিল সেটাই যেন আমরা ভুলে যাই। লোক দেখাতে ব্যস্ততা । আসলে সমস্যা সমাধানের পথ এটা নয়।
একটি দৈনিক চমৎকারভাবে বলা হয়েছে যখনই প্রভাবশালীদের নাম আসে তখনই সবকিছু মিলিয়ে যায় । আসলে মনে হয় তাদের জন্য বৈধ আর নবু – ছবুর জন্য অবৈধ । কথাটা স্পষ্ট করলে এই দাঁড়ায় যে আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে এই ধরনের দূর্বৃত্তায়ণ বিদ্যমান । এর নাম প্রগতি নয় বরং নষ্টামি ।

এখন অনেক কিছু লেখার সুযোগ কম । তবুও না বললেই নয়, বলে তুলে ধরতে চাই । স্বাধীন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ণ নিয়ে আন্তরিক ছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান । যারা নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করবেন তারা অবশ্যই এটা বলবেন তার জীবন ছিল এধরনের দূর্বৃত্তায়ণ মুক্ত । তিনি প্রকৃত বিবেচনায় এদেশে নারী জাগরণের পক্ষে কাজ করেছেন। ব্যক্তি জীবন ছিল নিস্কলুষ । বলতেই হবে, নারীদের মধ্যে অসহায়ত্বক রয়েছে । তারা নির্ভর করতে পছন্দ করে । সে কারণেই তাদের সহায়তা করা এগিয়ে যেতে সাহায্য করা জরুরি । তবে অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া বা প্রলুব্ধকরণে ইন্ধনদেয়া অসংগত । বোধকরি আমরা যারা বিবেকহীন ভূমিকায় রয়েছি তাদের কারণেই সমাজে আজ অনৈতিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে । প্রধানত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কঠোর না হলে ক্ষমতায়ণ আর দূর্বৃত্তায়ণ রোধে কোনো ভূমিকাই পালন করতে পারবে না । একটি কথা সকলকে স্বরণ করিয়ে দিতে চাই – সামরিক স্বৈরাচারসহ স্বৈরাচারী শাসনামলে এধরনের দূর্বৃত্তায়ণ বেশি হয়েছে। প্রকৃত জবাবদিহিতা এধরনের দূর্বৃত্তায়ণ রোধে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম ।।

বর্তমান সময়ের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য ইসলাম ও হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কিছু উক্তি পাঠকের দৃষ্টি আর্কষণ করছিঃ-

উসামা বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার গত হওয়ার পরে পুরুষের পক্ষে নারীর চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা অন্য কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না।’’
®(আহমাদ, বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ৭১২২, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘দুনিয়া হল সুমিষ্ট ও শ্যামল। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তাতে খলীফা বানিয়েছেন, যাতে তিনি দেখে নেন যে, তোমরা কেমন আমল কর। অতএব তোমরা দুনিয়া ও নারীর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর জেনে রেখো যে, বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা যা ছিল, তা ছিল নারীকে কেন্দ্র করে।’’
®(আহমাদ, মুসলিম ২৭৪২, তিরমিযী ২১৯১, ইবনে মাজাহ ৪০০০)

আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবূ ব্যবহার না করে সাদাসিধাভাবে আসে।’’
® (আহমাদ ৯৬৪৫, আবূ দাঊদ ৫৬৫, সহীহুল জামে’ ৭৪৫৭)
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যদি কোন কিছুতে কুলক্ষণ থাকে, তাহলে তা আছে নারী, বাড়ি ও ঘোড়া (সওয়ারী বা গাড়ি)তে।’’
®(বুখারী ৫০৯৪, মুসলিম ৫৯৪৫)

♦নারী ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপায়ঃ

জেনে রাখুন, এই জীবন মানেই হচ্ছে পরীক্ষা। এই পরীক্ষা খুব কঠিন এবং বিপদজনক। সেইজন্য চলার পথে সামান্য একটু অসতর্ক হলে কিংবা ছোট একটা ভুলের কারণে অনেক সময় অনেক বড় বিপদ চলে আসে; যা মানুষ হয়তো কখনো কল্পনাই করতে পারেনা। সেইজন্য আমাদের উচিত সর্বদা সতর্ক থাকা এবং বিশুদ্ধ চিত্তে আল্লাহ অভিমুখী হয়ে বারবার তোওবা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।

ইমাম ইবনে জাওজী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “নারী প্রেম ও নারী আসক্তির প্রায়শ্চিত্ত বিভিন্ন প্রকার। কখনো ভোগ করতে হয় সঙ্গে সঙ্গে কখনো দেরিতে, কখনো প্রকাশ পায় কখনো তা প্রকাশ পায় না। আবার এর কিছু শাস্তি রয়েছে যা আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারে না। তবে সব চেয়ে বড় শাস্তি হচ্ছে
> আল্লাহকে ভুলে যাওয়া ও ঈমান বিলুপ্ত হওয়া।
> নারী আসক্তি ও গুনাহের কারণে অন্তর মরে যায়,
> যার ফলে সে আল্লাহর সঙ্গে মুনাজাতের স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম হয় না।
> পবিত্র ক্বুরআন তার অন্তরে অবস্থান করে না।
> ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) সহ অন্যান্য ইবাদত তার কাছে অর্থহীন মনে হয়।
> আরো অনেক ধর্মীয় অবক্ষয় রয়েছে, যা তাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নেয়, যা সে নিজে অনুধাবনও করতে পারে না।
> তার অন্তরের দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত হয় গুনাহের অন্ধকার।
> নষ্ট হয়ে যায় তার অন্তর দৃষ্টি, যার প্রভাব পড়ে তার শরীরেও। যেমন, চোখের দৃষ্টি চলে যায়, স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে ইত্যাদি।”
তাই অন্তরের মধ্যে গুনাহের আসক্তি উপলব্দি করার সাথে সাথে তওবা করা উচিৎ, হয়তোবা এর দ্বারা আসন্ন বিপদ দূরীভূত হয়ে যাবে।”

® জাম্মুল হাওয়াঃ ২১৭।

যাই হোক, যেই সমস্ত দ্বীনি ভাইয়েরা প্রেম নামক বিষাক্ত ভাইরাসের শিকার হয়ে দ্বীন ও দুনিয়া হারাতে বসেছেন, তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত কিছু উপদেশ।

(১) আপনি যদি এই মুহূর্তে বিয়ে করার জন্য উপযুক্ত ও প্রস্তুত থাকেন তাহলে দুই নং পয়েন্ট থেকে দেখুন। আর আল্লাহ নির্ধারিত তাক্বদীরের ফয়সালা অনুযায়ী যদি এই মুহূর্তে আপনার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রেম-ভালোবাসা, অবৈধ যোগাযোগ ও সম্পর্ক থেকে তোওবা করুন। গায়ের মাহরাম নারীদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ, কথা-বার্তা, দেখা-সাক্ষাত বন্ধ করুন। নিজেকে নিয়ন্ত্রন ও আত্মশুদ্ধির জন্য বেশি বেশি নফল রোযা রাখুন। নেক আমল ও ইলম অর্জনে মনোযোগী হন। আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও দুয়া করুন। বেশি বেশি নফল ইবাদত ও ক্বুরআন তিলাওয়াত দ্বারা আত্মাকে শান্ত ও পবিত্র রাখার চেষ্টা করুন।


(২) আপনার পক্ষে যদি বিয়ে করা সম্ভব হয় আর মেয়ে যদি বিয়ে করার মতো নূন্যতম দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রের হয়ে থাকে তাহলে ইস্তিখারা সালাত পড়ে মেয়ের বাবা বা বৈধ গার্জিয়ানের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। মেয়ের বাবা যদি বিয়ে দিতে রাজী হয় তাহলে আলহা’মদুলিল্লাহ বলে দেরী না করে শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে বিয়ের আয়োজন করুন।

(৩) মেয়ের বাবা যদি রাজী না হয়, তাহলে সেখান থেকে ফিরে আসুন। ধৈর্য্য ধারণ করুন আর আল্লাহর কাছে দুয়া করুন, এই মেয়েকে বিয়ে করা যদি আপনার ভাগ্যে লিখা না থাকে, অথবা এই মেয়েকে বিয়ে করা যদি আপনার জন্য অকল্যাণকর হয় তাহলে আপনার অন্তর থেকে এই মেয়ের প্রতি ভালোবাসা আল্লাহ যেনো দূর করে দেন। আপনার নেককার জীবন সংগিনীর জন্য দুয়া করুন। আর খেয়াল রাখবেন, প্রেমিকার সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনাদের দুইজনের দ্বীন ও দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হবে।


লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক আপন আলো | বিশেষ প্রতিবেদকঃ শ্যামল বাংলা ডট নেট | ও – সদস্য ডিইউজে |


 

  •