নতুন নুরুল হুদা খুঁজছে সরকার : মোঃ শাহজাহান

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

নতুন নুরুল হুদা খুঁজছে সরকার : মোঃ শাহজাহান

ইসলামি রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ বইটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে বিদায় নিচ্ছেন বর্তমান কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই তোরজোড় শুরু হয়েছে নতুন ইসি গঠনের। এমনকি এই প্রক্রিয়ার জন্য সার্চ কমিটির বিষয়টিও উঠে আসছে আলোচনায়। কিন্তু ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সার্চ কমিটির উপর আস্থা নেই দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর। তারা বলছে, এর আগে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এজন্য সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নিতে হবে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী বা নির্দেশনা মতে, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহানের সাথে আজ(২০ সেপ্টেম্বর সোমবার)বিকেলে গুলশান শাহজাদপুর তাঁর বাসায় একান্ত সাক্ষাৎ। গার্ডিয়ান পাবলিশ থেকে প্রকাশিত বর্তমান সময়োপযোগী সময়ের জন্য অত্যান্ত মূল্যবান সহায়ক গ্রন্থ বই ” ইসলামি রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ ” সম্পর্কে বলেন তিনি এই বইটি খুবই গুরুত্বসহকারে সম্পুর্ণ বই পড়েছেন। এতে দেশের সকল রাজনীতিক দলের বিষয়ে অত্যান্ত সুন্দর ভাবে আলোচনা করা হয়েছে যা আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে অনেক সহায়ক হিসেবে এই বইটি অনুপ্রেরণা যুগাবে। তিনি উক্ত বইয়ের লেখক বিশিষ্ট সাংবাদিকও কলামিস্ট এহসানুল হক জসিম [ পিএইচডি গবেষক -]তাঁহাকে আন্তরিক অভিনন্দনও ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে রাজনীতির নেতাকর্মীসহ সবাইকে আহবান জানান এই বইটি সংগ্রহ করে পড়ার জন্য। এই বই থেকে আমাদের রাজনীতিবিদও নেতাকর্মীদের অনেক কিছু শেখার আছে,যা সকলকে অনুপ্রাণিত করে তুলবে। এই বইটি অত্যন্ত নিখুঁত বিন্যাসের সাথে চমৎকার ভাবে বিষয়বস্তু ফুৃঁটিয়ে তোলা হয়েছে। অনেক অজানাকে জানার ও শেখার মতো শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে লেখক এহসানুল হক জসিম তাঁর লেখনির মাধ্যমে ফুৃটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সকলের প্রতি আহবান জানান এই বইটি সংগ্রহ করার জন্য। পরিশেষে তিনি লেখকও প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে।

ইসি গঠনের বিষয়ে মোঃ শাহজাহান মতামত ব্যক্ত করে বলেন এখনও আইন প্রণয়নের যথেষ্ট সময় রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কেউ কেউ বলেছন, দুই বছরের জন্য জাতীয় সরকার গঠন করে সুষ্ঠু, অবাধও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করতে হবে। আবার কেউ বলছেন, আইনের আশ্রয় নেবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করে দাবি আদায়ের চিন্তা করছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল।

ইসি গঠন বিষয়ে মোঃ শাহজাহান আরও বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই হিসেবে দলনিরপেক্ষ, নীতি-নিষ্ঠও সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিত। তবে তা একটি বিধানের মধ্যে দিয়ে করতে হবে।’

নতুন নুরুল হুদা খুঁজছে সরকার। নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার মতোই আরেকজনকে সরকার খুঁজতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান ।

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনই তো নাই। যারা নির্বাচন নিয়ে লেখালেখি করছেন, যারা গবেষণা করছেন, তাদের গবেষণা থেকে আমরা দেখছি, ৫০ বছরে এ আইন তৈরিই হয়নি। রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রের অভিভাবক, তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন। কিন্তু তিনি কি তা পারছেন?

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কখনই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। কেননা নির্বাচন ব্যবস্থার ভেতর অনেক আগে থেকেই পক্ষপাতিত্বের উপাদান বিরাজ করছে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করতে হবে। টাকার খেলা, পেশী শক্তির দাপট, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ইত্যাদির হাত থেকে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে হবে। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত খরচের বিষয়টি নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে সকল প্রার্থীর হ্যান্ডবিল, পোস্টার ছাপিয়ে দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো কর্মসূচি আছে কি না? জবাবে মোঃ শাহজাহান বলেন, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নয়, আমরা তার কার্যালয় ঘেরাও করব।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় নিয়ে আমরা আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। কোনো কারণে সরকার আইন প্রণয়ন না করলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু,অবাধও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির শরণাপন্ন হব। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে যদি সার্চ কমিটি দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, সেই সার্চ কমিটিও সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে করতে হবে।এ সব বিষয় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠকে বসা হবে বলে জানান তিনি।

দলের চেয়াপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা (সরকার)এত বেশি ভয় পান এজন্য তাকে দেশের বাইরে যাওয়া অথবা মুক্ত করার বিষয়টা ভাবতেই পারেন না। চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন বলছে, বেগম জিয়ার উন্নত ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন তখন সরকার অনুমতি দিচ্ছে না, তাকে আটকে রেখেছে।’

মোঃ শাহজাহান আরও বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সমাধি সম্পর্কে মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। মূলত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে দৃষ্টির আড়ালে রাখার একটি ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এভাবে ইতিহাস বিকৃত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিকৃত অপপ্রচার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ব্যতীত কিছু নয়।’

এতে সবাইকে এধরনের মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।


এই মুহুর্তের খবর জানতে ভিজিট করুন
সিলেট সংবাদ
www.sylhetsangbad.com

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট