১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স করবে সিসিক

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স করবে সিসিক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সিলেটে বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ করবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন(সিসিক)। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এ প্রকল্প এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। । প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ২৫তলা বিশিষ্ট এই কমার্শিয়াল হাবের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সিলেট মহানগরীর ব্যবসা বাণিজ্যে অভ‚তপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর একটি কনভোকেশন হলে সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিসিকের এবারের বাজেটের আকার ৮৩৯ কোটি ২০ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। নতুন সিলেট গড়ার স্বপ্ন দিয়ে প্রস্তাবিত এ বাজেটে আয় ও ব্যয় সমান ধরা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, সিসিক এলাকা বর্ধিত করা হয়েছে। এ কারণে সিটি কর্পোরেশনের কাজের পরিধি ও ব্যাপ্তি এখন আরও বৃদ্ধি করতে হবে। এটি আমাদের জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। তাই পরিকল্পিত নগরায়ন ও নাগরিকদের অধিকতর সুবিধা ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এবারের বাজেট গত অর্থবছরের থেকে বেড়েছে।’

মেয়র আরও জানান, ‘সীমিত জনবল ও সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট সিটি এলাকায় কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৬ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারীর শুরু থেকেই সিসিকের পক্ষ থেকে নগরজুড়ে জীবানুনাশক ছিটানো, মাস্ক ও সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ, ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে অভিযানও অব্যাহত আছে।’

তিনি আরও জানান, ‘শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা ইউনিটের জন্য ১টি গভীর নলকূপ স্থাপন, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য ৪টি বেসিন স্থাপন এবং পরিবহনের জন্য ১টি মাইক্রোবাস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে হেপাফিল্টার স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ওসমানী হাসপাতালে নবনির্মিত করোনা ইউনিটে সেন্ট্রাল অক্সিজেনস্থাপনের কাজ চলমান আছে।’

ঘোষিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাতের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ৯২ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্থান্তরের উপর কর ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণের উপর কর ২ দুই কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৬ কোটি ৫০ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফিস বাবদ ৯০ লক্ষ টাকা, ঠিকাদারী তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফিস বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা, বাস টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৫৫ লক্ষ টাকা, ট্রাক টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ১৭ লক্ষ টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ও দোকান ভাড়া বাবদ ১ কোটি টাকা, রোড রোলার ভাড়া বাবদ আয় ৬০ লক্ষ টাকা, রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ৫০ লক্ষ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ ৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনঃসংযোগ ফিস বাবদ ৮০ লক্ষ টাকা, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে।

এছাড়া রাজস্ব খাতে সর্বমোট ৮০ কোটি ৫৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ২৮ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা, সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) খাতে ১০ কোটি টাকা, কোভিড-১৯ মোকাবেলা, ডেঙ্গু মোকাবেলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচার উপ-খাতসহ সরকারি বিশেষ মঞ্জুরী খাতে ব্যয় ৩১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, অন্যান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ব্যয় ১ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ৯০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১৩০ কোটি টাকা, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় (২০১৮ সনে) ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প খাতে ২৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২৬ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আরিফ বলেন, ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশন সম্প্রসারণ হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সিলেটে পানি উৎপাদন ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পানি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারি নদীতে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রায় ৭শ ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বড়শালায় ১৩ একর জায়গা অধিগ্রহণসহ প্লান্ট নির্মাণের ডিপিপি মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তোপখানা পানি শোধনাগারের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্পটির জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগের জন্য স্থানীর সরকার বিভাগে পত্র দেওয়া হয়েছে। এবার সিটি এলাকায় নতুন ৫ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ কিলোমিটার পানির লাইন সংস্কার করা হয়েছে।’

বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সিসিকের সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট