আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি বিএনপির

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি বিএনপির

দীর্ঘদিন পর নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে বিএনপি। সভাটিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের আগে তাদের মতামত গ্রহণের চূড়ান্ত সভা বলে মনে করছেন। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া রাজধানীর দুই মহানগরীর বিএনপি ও যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকেও অনেকে দেখছেন আন্দোলনের কৌশল হিসেবে। তবে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা এটাকে দেখছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তবে আমরা বিএনপি যেহেতু বিরোধী দল, সে হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামের সাথে এসব পুনর্গঠনের কিছু সম্পর্ক থেকেই যায়। এছাড়া নির্বাহী কমিটির সভা একটি রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম। যেহেতু করোনার কারণে সভাটি দীর্ঘ সময় পর হচ্ছে তাই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহটা বেশি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাহী সভা আহ্বান করেছেন। সভাটি আরো আগে করার কথা থাকলেও করোনার কারণে হয়নি। এখন সেটা হতে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সেখানে তাদের মতামত তুলে ধরবেন। তারা আন্দোলন চাইলে সেখানে তা বলবেন। তাদের কথা শুনে দল একটি সিদ্ধান্ত নিবে। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পুনর্গঠনের যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর আন্দোলন- সেটা তো দলের লোকেরাই করবে।

শিগগিরই বিএনপি চূড়ান্ত কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। এখন শুধু মতবিনিময় চলছে। সবার কথা শোনা হচ্ছে। সবার কথা শোনার পরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যা আপনারা দলের স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে জানতে পারবেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আন্দোলনের জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। আমরা ১০/১২ বছর যাবত আন্দোলনেই আছি। কিন্তু যে লক্ষ্যে পৌঁছানো দরকার ছিল তা পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে রাজনীতি আনেকটা বন্ধ ছিল। এখন স্কুল-কলেজের মতো রাজনীতিও চালু হয়েছে। এ অবস্থায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছেন। সভা শেষে আমরা বলতে পারবো আসলে কি সিদ্ধান্ত হলো।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান কি হবে জানতে চাইলে দুদু বলেন, আমরা নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ তার ভোট দিয়ে পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু গত দুটো নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবে ভোট না দিতে পারলে যা হয় সে পরিস্থিতিতে আমরা আছি। আমরা চাই সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থাটা ফিরে আসুক। সেটার জন্য এই প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদের অবশ্যই দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রপ্রেমী হতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ তার ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিবে, এটাই তো স্বাভাবিক।


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ বলেন, এদেশের মানুষ চায় সুষ্ঠু নির্বাচন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। এজন্য আমরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করছি। কিন্তু বর্তমান সরকার জণগণের ভাষা বুঝতে পারছে না।

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় গণতন্ত্র ও দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে আছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছেন। আমরা আশা করছি সেখান থেকে একটি দিকনির্দেশনা আসবে। যা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।

আন্দোলন ও নির্বাহী কমিটির সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি তো দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। করোনা মহামারীর কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কাযক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তা ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেছে। এটা দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও উৎসাহের। আমরা আশা করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের সিনিয়র নেতাদেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে সরাসরি কথা বলে একটি আন্দোলনের ঘোষণা দিবেন। সেই আন্দোলনে এদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ অংশ নিয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাবে।


যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। ডু অর ডাই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদেরকে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

শিগগিরই সরকার পতনের কর্মসূচি আসবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাহী কমিটির সাথে কথা বলবেন। এছাড়া ২০ দলীয় জোট, অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলের সাথে আমরা আলোচনা করবো। আমরা তৃণমূলের মতামত জানবো। তারপরই আমাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবো। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

নির্বাহী কমিটির সভা থেকে কি দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি নির্বাহী কমিটির সভা থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের দিকনির্দেশনা আসবে। আমরা সেই আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে অংশ নিবো এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো।

নির্বাহী কমিটির সভা থেকে কি প্রত্যাশা করছেন জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন বলেন, আমরা বিগত সময় যেসব বর্ধিত সভা করেছি তার একটাই উদ্দেশ্য ছিল যে আমরা কিভাবে আন্দোলন করবো। কারণ আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে। তাই নির্বাহী কমিটির সভা থেকে যে দিকনির্দেশনা আসবে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, নির্বাহী কমিটির সভা থেকে আমরা সরকার পতনের একটি কাযকর আন্দোলনের ঘোষণা প্রত্যাশা করছি। যেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো।


 

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট