অভাবের কারণে বিয়ে থেকে বিরত থাকা যাবে কি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করা কি বৈধ?

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১

অভাবের কারণে বিয়ে থেকে বিরত থাকা যাবে কি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করা কি বৈধ?


মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার


দরিদ্রতা বা অর্থাভাব কি বিয়ের প্রতিবন্ধক? শুধু দরিদ্র্যতা ও অর্থের অভাবে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকা কি যুক্তিযুক্ত? এমনও তো হতে পারে যে, বিয়ের পর মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে দরিদ্রতাকে সচ্ছলতায় পরিবর্তন করে দেবেন। এ সম্পর্কে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাই বা কী?

বিয়ের উদ্দেশ্য যদি হয়, নিজের চরিত্রের হেফাজত করা; তবে এ বিয়ে সম্পাদনের পর মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সচ্ছলতা দান করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা অনেককেই দ্রুত সাহায্য করে থাকেন। এর মধ্যে প্রথম হলো- যারা পবিত্র থাকার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘তিন ব্যক্তি এমন আছে, যাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করে থাকেন। তারা হলো-

১. বিবাহকারী; যে পবিত্র থাকার ইচ্ছা করে।

২. লিখিত চুক্তিবদ্ধ দাস; যে চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধ করার নিয়ত রাখে এবং

৩. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী।

সুতরাং কেউ যদি চারিত্রিক পবিত্রতার জন্য বিয়ে করে আর যদি সে দরিদ্র বা অভাবি হয় তবে আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে এভাবে ঘোষণা দেন-

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবি হলে (চরিত্র রক্ষার জন্য যদি বিয়ে করে তবে) আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩২)

সুতরাং যদি কোনো পুরুষের চরিত্র পছন্দনীয় হয়। চারিত্রিকগুণে মুগ্ধ হয়ে কোনো নারী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়; তবে অভিভাবকের উচিত ওই নারীকে বিয়েতে বাধা না দেওয়া। হাদিসে পাকে এসেছে-

হরজত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুআনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যে ব্যক্তির দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ; তোমাদের কাছে সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সঙ্গে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি)

মনে রাখা জরুরিঃ

অর্থের অভাব বা দরিদ্রতা যেন বিয়ের বাধা হওয়ার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। যারা নিজ চরিত্রকে পবিত্র রাখার জন্য বিয়ে করতে চায়; তাদের বিয়ে ব্যাপারে সহযোগিতা করা জরুরি। কেননা চরিত্র পবিত্র রাখার মানসে যারা বিয়ে করবে; আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে সেসব বান্দাকে সচ্ছলতা দান করবেন।

নবদম্পতির জন্য দোয়াঃ

চারিত্রিক পবিত্রতার নিয়তে অর্থের অভাব থাকা সত্ত্বেও যারা বিয়ে করবেন; আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাদের জন্য দাম্পত্য জীবন সহজ করে দেবেন। অভাব দূর করে দেবেন। হাদিসে তাদের জন্য বরকত ও কল্যানের দোয়া করার কথা বলা হয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন কোনো লোক বিয়ে করতো, তখন তার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া করতেন-

উচ্চারণ : বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা ও ঝামাআ বায়নাকুমা ফি খাইরিন।’

অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা তোমার জীবন বারকাতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করা কি বৈধ?

অনেক সময় দেখা যায়, কাউকে না জানিয়ে শুধু ছেলে ও মেয়ে নিজেরা একে অপরকে পছন্দ করে বিয়ে করে ফেলে। আর এসব বিয়েতে থাকে না কোনো সাক্ষী। সেক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে বলে থাকে যে, আমরা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে দু’জনে বিয়ে করেছি। প্রশ্ন হলো-

কাউকে না জানিয়ে ছেলে এবং মেয়ে দু’জনে মিলে শুধু আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে, সে বিয়ে কি সংগঠিত হবে? কিংবা তা কি বৈধ হবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

না, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে তা সংগঠিত হবে না। ইসলামের দিকনির্দেশনা হচ্ছে বিয়ের জন্য সাক্ষী শর্ত। সাক্ষী ছাড়া বিয়ে সংগঠিত হবে না। আর বিয়ে হলেও তা বৈধ হবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তারা হল ব্যভিচারিনী- যারা সাক্ষী ছাড়া নিজেরাই নিজেদের বিবাহ করে নেয়।’ (তিরমিজি)

সময়ের গতিধারায় অনেক কিছুই বদলেছে। বর্তমান সময়ে অনেকে বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে শাদি করে থাকেন। আবার অনেকে কোর্ট ম্যারেজসহ নানা ধরনের স্বল্পপরিসর বিয়ের আয়োজন করে থাকে। তবে কোনো নারী ও পুরুষ সাক্ষী ছাড়া শুধু আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে, সে বিয়ে সংঘটিত হবে না।

কেননা বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক ও ন্যূনতম শর্ত হলো-

– দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী পুরুষ অথবা

– একজন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী পুরুষ ও দুইজন নারী।

এসব পুরুষ ও নারী বিয়ের ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) করার বিষয়টি বর-কনের মুখ থেকে নিজ নিজ কানে শুনবে। আর এর মাধ্যমেই ছেলে-মেয়ের বিয়ের বন্ধন বৈধ হবে। (বাহরুর রায়েক, দুররুল মুখতার, ফাতহুল কাদির, হেদায়া)।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষকে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক আপন আলো | সাবেক কাউন্সিলর: বিএফইউজে-বাংলাদেশ | সদস্য ডিইউজে |



 

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট