পরিবর্তনকে সহজ ভাবে নেয়াই বৈধ : অভিবাদন আফগান সরকার

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১

পরিবর্তনকে সহজ ভাবে নেয়াই বৈধ : অভিবাদন আফগান সরকার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার


আফগানিস্থান নিয়ে মাতামাতি নাকি পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো বৈধ এনিয়ে বেশ নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। একথা কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না যে মধ্যরাত শেষ হবার এক মিনিট আগে আফগানিস্থানের মাটি থেকে সকল মার্কিন সৈন্য সহি ছালামতে বিদায় হবার মধ্য দিয়ে সেখানে নতুন যুগের সুচনা হয়েছে। এই সূচনা খুব সহজসাধ্য ছিলনা নিঃসন্দেহে । ব্যাপারটি প্রায় সকলেরই জানা ।কেন এবং কি পরিস্থিতিতে সেখানে এবং অন্য কটি দেশে মার্কিনসহ তাদের বন্ধু প্রতীম দেশগুলো সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল । ধরুন ইরাকের কথাই। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বারবার উচ্চারণ করেছিলেন তার দেশে মানব বিধ্বসী কোন অস্ত্র নেই । কে শোনে কার কথা । সাদ্দাম হোসেন সত্য কথা বলেছেন বা বলতে পারেন এটাই তখন পাশ্চাত্ত্য দুনিয়ার কাউকে বিশ্বাস করানো যায়নি। মিথ্যা ছূতায় ইরাক আক্রমণ করে ইরাকের মাটি তছনছ করে মার্কিনী তথা তাদের মিত্রবাহিনী প্রমাণ করেছে সাদ্দাম হোসেনই সত্য বলেছিলেন -অন্যরা অসত্য ভাষণ দিয়েছে । অবস্থাটা ভেবে দেখুন। নিয়মানুযায়িতো যখন তারা অভিযানের পর দেখল তাদের কথা সত্যি নয় তখন আর সেখানে থাকার কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। সে ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার কথা বাদ দিলেও একটি সভ্য সমাজে যাদের আইনের প্রতি আনুগত্য অাছে তাদের উচিৎ ছিল ইরাক থেকে ফিরে আসা কিন্তু তেমনটা ঘটেনি। সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর করার কোন এখতিয়ার কি তাদের ছিল ? সেসব কথা থাক। বিষয় হচ্ছে,যে অভিযোগে ইরান আক্রমণ করা হয়েছিল তা যখন অসত্য এবং ভূয়া বলে প্রমাণিত হল তখন এই বর্বর হামলার একটা বিচার হওয়া জরুরি ছিল। বাস্তবে যা ঘটল তো হল কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে ইরাকে দখলদারিত্ব বহাল রইল ।রফতানিজাত পণ্য হিসেবে গণতন্ত্র যে আসলেই একটি অচলমাল সেটি অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হলো। আসলে হয়ত সাদ্দামকে হত্যা করাই মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ।

কথাটা একারণে যে ২০বছর পর আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সৈণ্য বিদায় হল এক বিষাদাক্ত অভিজ্ঞতায়, তালেবানদের দয়ায়। অাফগানিস্থানে বা ইরাকে মার্কিন বাহিনী দখল নেয়ার পর তারা যা করেছে তালেবানরা যদি তেমনটি বা তার কাছাকাছি কিছু করত তাহলে একজন মার্কিন সেনাও হয়ত আফগানিস্থানের মাটি থেকে অক্ষত যেতে পারত না । সাধারণত বিজয়ি বাহিনীরই এই অধিকার রয়েছে পরাজিতদের পাকরাও করার। অনেকে বলতে পারে এটা পরাজয় নয় চুক্তির মাধ্যমে চলে যাওয়া। কথা নানা রকম হতে পারে। এনিয়ে বিতর্কে জড়াবার ইচ্ছে নেই । শুধু এ কথাটা বলতে চাই “বীরে বেশে পশ্চাদাপসারন “বোধহয় আটোকেই বলে। বসনিয়ায় সার্ব বাহিনীর নজিরবিহীন নির্যাতন ইরাকে যৌথবাহিনীর নির্বিচার হত্যা ধর্ষণ বন্দীদের উপর অমানুসিক অত্যাচার গুয়েন্তানামাবের নির্মমতা সবকিছু ইতিহাসের অংশ হওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্থান থেকে নির্বিবাদে মার্কিন সৈণ্যদের নিরাপদে ফিরে যাওয়া আর যাই হোক তালেবানদের বর্বরতার কোন উদাহরণ হতে পারেনা ।বরং এটি আধুনিক যুগে একটি নয়া নজির যা হয়ত অনেকদিন ধরে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে । ভেবে দেখুন,সাধারণত কোন যুদ্ধে তা স্বাধীনতার বা সরকার পরিবর্তনের যাই হোক সেখানে নেতার মৃত্যু হলে সে আন্দোলনে খানিকটা হলেও ভাটা পরে। অনেক ক্ষেত্রেই তা বিশ্বাসঘাতকতার চোরাবালীতে আটকে যায় । আমাদের দেশেও এর ভুরি ভুরি নজির রয়েছে ।অর্থের টোপ ক্ষমতার টোপ সব মিলে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার তত্ত্বই শেষপর্যন্ত বিজয়ি হয় ।ফিরে তাকান আফগানের দিকে ২০বছল তারা লড়াই করেছে ।যেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছে সেখানেই অবস্থান নিয়েছে ।প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে দেশটিতে মূল্যবান খনিজের প্রাচুজ্যতা রয়েছে । সুতরাং কম দুঃখে যে বিদেশিরা ছেড়ে যায়নি সেকথা সহজেই বোঝা যায় ।বলা হচ্ছে,, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরোধিতা উপেক্ষা করে আফগানিস্থানের আরো হাজার হাজার সেনা মোতয়েন করেন বারাক ওবামা । কিন্তু পাকিস্থানে অবস্থানরত বিন লাদেনকে হত্যার পরের বছর থেকে ধীরে ধীরে আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমিয়ে আনা শুরু হয় । যার অবসান হয় ৩১ আগষ্ট মধ্যরাতের এক মিনিট আগে । এখন দেখুন, একজন বিন লাদেন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বা তিনিই কি একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন?

তালেবানরা প্রাচীন বৌদ্ধমূর্তি ভেঙ্গে দিয়েছিল এটাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। আধুনিক সভ্যতার দাবীদার ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের হৃদয় নিংরানো ভালবাসাও শ্রদ্বার আসনে বসা হযরত মুহাম্মদ (দঃ)-এর ব্যঙ্গচিত্র করে যখন কার্টুন প্রকাশ করে তখন সেটি বাক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তালেবানরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০বছর লড়াই করেছে অথচ এই ২০বছর তারা ক্ষমতায় থাকলে বোঝা যেত তারা আসলে কি চায় ? এটা কতটা জনকল্যাণমূলক। যাই হোক,সশস্ত্র সংগ্রাম করা আর সন্ত্রাসী হওয়া এক নয় । গণতান্ত্রিক লড়াই ব্যর্থ হলে তা এক পর্যায়ে সশস্ত্র রূপ নেয় ।পৃথিবীর দেশে দেশে তার নমুনা রয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলকেও এক সময় ভয়াবহ সন্ত্রাসী বিবেচনা করে অন্ধকার কুঠরিতে রাখা হয়েছে। আধুনিক বিশ্ব অবশ্যই স্বীকার করবে ম্যান্ডেলার প্রতি এছিল যুগ যুগের মিথ্যাচার। মূলত কালো মানুষের প্রতি নির্মমতা ।পারমাণবিক ক্ষমতা থাকলে আফগানীদের ক্ষমতাচ্যুত হতে হত না। মূলত সমরাস্ত্রের সংকটে তাদের ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল। এখন হয়ত আপাতত সে ভয় নেই । সুতরাং সময় এসেছে সংহত হবার । যারা তালেবানদের দেখে নানা কথা বলছেন তাদের বলি ভারত বিভক্তির পর পাকিস্থান নিয়েও নানাজনে নানা কথা বলেছে ।পাকিস্থান এখন পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারি । ইরানে বিল্বব সম্পন্ন হবার পর যারা তার বিনাশ করতে চেয়েছিল তারা উড়ে গেছে। কথায় বলে, যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা । অনেকে বলে,ছেলে বেঁচে থাকলে কি হবে লেখাপড়া হবে না,লেখাপড়া হলে কি হবে চাকুরি পাবে না, চাকুরি পেলে কি হবে বেতন পাবে না, বেতন পেলে কি হবে ওতে সংসার হবে না । ছেলেটি বড় হয়ে প্রমাণ করল শকুণের অভিশাপে গরু মরে না। সময় দিন দেখুন তালেবানরা কি হয়। মনেরাখবেন ২০বছর লড়াই করেছে সবর করেছ শেষতক বিজয় ছিনিয়ে এনেছে নিজেদের অনুকূলে ।

এখন বলা যায় আফগানিস্তান একটি পথের দিকে যাচ্ছে।দখলদারদের কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে হাতে পাবার তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার আফগানিস্তানে অন্তবর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে বিজয়ী তালেবানরা। দীর্ঘ লড়াইয়ে থাকার অভিজ্ঞতায় সিঞ্চিত হয়ে তারা তাদের মত করে একটি মন্ত্রীসভা ঘোষণা করেছে। বলা হয়েছে, এই মন্ত্রীসভায় আফগানিস্তানের সাবেক দখলদারও তাদের তাবেদাদের ঘোষিত নিষিদ্ধ তালিকার অনেকেই এই মন্ত্রীসভায় রয়েছেন। এটাই স্বাভাবিক ।কারণ সেখানে মূলত দুটি পক্ষ ছিল। একটি নিজভূমি রক্ষায় নিয়োজিত যোদ্ধারা অন্য পক্ষছিল দখলদাররা। সুতরাং আজ যখন বিজয় এসে গেছে তখন তো তারাই সরকার গঠন করবে। নাকি এমন ধারণা করা যেতে পারে যে যারা যুদ্ধ করেছে তারা ধারকরে বিদেশ থেকে তাবেদারদের প্রতিনিধিদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করবে। এটা একটা ধারনা। ঔপনিবেশিক বিশেষকরে বৃটিশ উনিবেশে এধরনের উদাহরণ রয়েছে। তারা মনে করত,তারা চলে গেলে দেশের মানুষ আর দেশ চালাতে পারবে না। তাই তাদের খুব প্রয়োজন। আসলে তারা এবং তাদের সহযোগীরা এটা ভুলে যেতে পছন্দ করেছে যে, তাদের দখলের আগেও এটি শাসিত হোত বরং বলা যায় বৃটিশ কলোনী হবার আগে প্রতিটি দেশের নাগরিকরাই সুখে শান্তিতে বসবাস করেছে। সেই বিবেচনায় দখলদারিত্বের কারণে যে অশান্তি দুর্যোগ দৃর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তা ভুলিয়ে দেয়ার মলম হিসেবে তারা নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করত। এই মানসিকতার এখনো অবসান হয়নি। অনেকেরই ধারণা ওরা ছাড়া অসম্ভব। এই ওনারা যে কি করেছে তা বোধকরি এখন আর বিষদ বিবরণে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তাদের দোসররাই বলছে। বাস্তবতা হচ্ছে ,একসময় যুদ্ধহত অর্জণের জন্য । অথচ এ শতাব্দিতে যুদ্ধ বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ থাকার পরেও দেশে দেশে যে যুদ্ধ তথা আগ্রাসণ পরিচালনা করা হয়েছে তা নিরোধে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মোড়ল সম্প্রদায় কোন ইতিবাচক ভূমিকা তো পালন করেইনি বরং ইন্ধন যুগিয়েছে। বলা যায় অর্জণের চেয়ে ধ্বংস করাটাই মূল বিষয় ছিল ।

আফগানিস্তানে যখন মন্ত্রীসভার নাম ঘোষিত হয়েছে তখন বার্তা সংস্থা সমূহ খুঁজে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে কার বিরুদ্ধে কথিত কি কি অভিযোগ রয়েছে। এসব পুরোনো বিষয় তুলে আনার মধ্যে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য যে নিহিত রয়েছে সে কথা না বললেও চলে। ধরুন ভিয়েতনামের কথা। সেখানে যতদিন মার্কিন দখলদারিত্ব ছিল তখন বার্তা সংস্থা রয়টার সেখানকার দখলদার বিরোধীদের বলত“ভিয়েতকং”। এর অর্থ হচ্ছে ভিয়েতনামী ডাকাত। আসলে এরা ডাকাত না যারা তাদের দেশ লুটে নিতে চেয়েছিল তারা ডাকাত সেটি প্রমাণিত হয়েছে পালিয়ে যাবার মধ্য দিয়ে। কারা পালিয়ে যায়? বাড়ীর মালিক না ডাকাত? ভিয়েতনামের সেই হুড়োহুড়ির দৃশ্য এযুগে অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছে আফগানিস্থানে। ভাবতে অবাক লাগে বিজয়ি শক্তি যখন মন্ত্রীসভা গঠন করেছে তখন সেখানে সন্ত্রাসী খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে অথচ ২০বছর দখলে রেখে মার্কিনীরা কি করেছে তার কোন বিবরণ নেই। অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয় ছিল, এই ২০ বছর অনেকের জীবন থেকে বসন্ত কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে ঘড় সংসার করার ন্যূনতম স্বপ্ন। অনেকের জীবন তছনছ হয়ে গেছে। মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। তারপরেও এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে যখন যোদ্ধারা তাদের মাটির ঘ্রাণ নিয়েছে প্রাণভরে সেখানে কোন অঘটন ঘটেনি। কাবুল বা দেশটির রাস্তায় রাস্তায় কোন লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। কারো বাড়ী লুণ্ঠন সম্পদহানীর বিবরণ পাওয়া যায়নি। যুদ্ধের সাধারণ নিয়মানুযায়ি পরাজিতশক্তির উপর যে অধিকার জন্মায় তার কোন প্রয়োগ বা সে ধরণের কোন প্রবণতার খবর পাওয়া যায়নি । অনেকে দেশ ছেড়েছেন বলে খবর রেড়িয়েছে । আসলে এরা তারা যারা নিজেদের অপকর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত । বিগত ২০ বছরে তারা যা করেছে তার গ্লানী মুছতেই দেশ ত্যাগের বিষয়টি হবার কথা । যদি তালেবানদের উপর সেখানকার জনগণের অস্থা ও বিশ্বাস না থাকত তাহলে ২০ বছর টিকে থেকে বিজয় অর্জণ সম্ভব হত না কোন অবস্থাতেই । দক্ষিণ অফ্রিকাকে দখলদার মুক্ত করার স্বাধীনতার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকেও তো দুর্ধষ ডাকাত বানিয়ে অন্ধকারে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। অাসলে কি তিনি তাই ছিলেন । অত্যন্ত সম্মানজনক পরিবার থেকে তিনি এসেছিলেন । আফ্রিকার যে কালো মানুষগুলোকে গায়ের জোড়ে বন্ধীকরে জাহাজ ভর্তি করে নিয়ে আসা হয়েছিল দাস বানানো হয়েছিল তাদেরও তো নানা মিথ্যা অজুহাতের নিগড়ে আটকে ফেলা হত ।তাদের একটাই অপরাধ তারা কালো । এশিয়া ও অফ্রিকার সাথে ইউরোপের দন্দের মূলে রয়েছে ইউরোপের মানসিক বৈকল্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। সভ্যতার সূত্রপাত এশিয়ায়। যাইহোক যে কোন বিবেচনা থেকেই এটা বলা যাবে একটি বিল্পবোত্তর দেশে সবকিছুই যে এক সাথে ঠিকঠাক হয়ে যাবে বা শুরু হবে তেমনটা না ভাবাই সহানুভূরি সাথে দেখার নিদর্শন । তালেবানরা শুরু করেছে এবারে নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে । বিশ্ব পরিস্থিতিও আলাদা । নয়া বিশ্ব বাস্তবতায় নয়া যাত্রায় তালেবানরা যে একা নয় সেকথা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে ।বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নানা পরিবর্তন স্থান করে নিয়েছে । সেই আগের নিষেধাজ্ঞাজনীত ভীতি এখন কার্যত অর্থহীন । বিশ্বব্যাংক বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ছাড়াও অনেক অর্থনৈতিক সংস্থা গড়ে উঠেছে যারা একটি দেশকে টিকে থাকার মত সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে যদি সেখানে দুর্ণীতি গেড়ে না বসে ।বিগত তাবেদার সরকারের সময়ে আফগানিস্তানে দুর্ণীতি একটি বড় বিষয় ছিল । আশা করা অনুচিত নয় যে দেশটি এখন শতভাগ দুর্ণীতিমুক্ত হবে ।কারণ দূর্ণীতির বেলায় একটি ফেঁটাই যথেষ্ট । মুক্তিযুদ্ধ বা সশস্ত্র লড়াইয়ের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে তা থাকে সর্বাংশে দূর্ণীতিমুক্ত।

দূর্ণীতিমুক্ত সৎ প্রশাসনের আকাঙ্খা একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আফগানিস্থানের নয়া সরকারকে আন্তরিক অভিবাদন জানাই -এই বিবেচনায় যে এটি একটি দুর্ণীতিযুক্ত বিশ্বে নয়া উদাহরণ হয়ে থাকবে । যাত্রার শুরুতে সব কথা বলা যায়না সংগতও নয় । বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যেমনি তাকিয়ে অাছে দেখার জন্য আমরাও তাকিয়ে থাকলাম ইতিবাচকতায় । যাত্রা শুভ হোক -এটাই প্রত্যাশা।


লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক আপন আলো | সাবেক কাউন্সিলরঃ বিএফইউজে-বাংলাদেশ | সদস্যঃ ডিইউজে |


 

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট