বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪৩ লাখ ১৫ হাজার ছাড়াল

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২১

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪৩ লাখ ১৫ হাজার ছাড়াল

শ্বাসতন্ত্রের প্রাণঘাতী রোগ করোনা ভাইরাসে গত রবিবার থেকে পরদিন সোমবার- শেষ ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে হ্রাস পেয়েছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় সুস্থতার হারও।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ও সংক্রমিতদের তথ্য হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটার্সের মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, সোমবার বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৫০ জন। আর মারা গেছেন সাত হাজার ৯৫৩ জন। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী এ রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন পাঁচ লাখ ছয় হাজার ১০৪ জন।

আগের দিন রবিবার বিশ্বে করোনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ১৮৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ২৭৯ জনের। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন চার লাখ ৩০ হাজার ৩৬ জন।

অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ৪৬ হাজার ১৩৯ জন। এই সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যা কমেছে ৩২৬ জন। এছাড়া করোনায় আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন- এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮ জন।

গত প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে প্রতিদিন বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অপর দিকে করোনার এশীয় উপকেন্দ্র (এপিসেন্টার) হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিদিন এ ভাইরাসে ঘটছে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। সোমবারও এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। অর্থাৎ এ দিনও প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে।

ওয়ার্ল্ডো মিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৪০৪ জন। এছাড়া মহামারি আঁকারে থাবা বসানোর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এদিন দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৭ জনের।

অন্য দিকে একই দিন দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৪৭৫ জন। যা ছিল সোমবার করোনায় দৈনিক মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক। একই সঙ্গে এদিন দেশটিতে মহামারি করোনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৭০৯ জন।

এছাড়া শনিবার বিশ্বের অন্যান্য যেসব দেশে করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর উচ্চহার দেখা গেছে সে দেশসমূহ হলো- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান (নতুন আক্রান্ত ৪০ হাজার ৮০৮ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জন), দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত (নয়া আক্রান্ত ২৭ হাজার ৪২৯ জন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭৬ জন), যুক্তরাজ্য (নতুন আক্রান্ত ২৫ হাজার ১৩৭ জন, একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের), ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক (নতুন আক্রান্ত ২৩ হাজার ৭৩১ জন এবং প্রাণ গেছে ১১৭ জনের), রাশিয়া (নতুন আক্রান্ত ২২ হাজার ১৬০ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৭৬৯ জনের), থাইল্যান্ড (নতুন আক্রান্ত ১৯ হাজার ১০৩ জন, এই সময়ের মধ্যে প্রাণ গেছে ১৪৯ জন), মালয়েশিয়া (নতুন আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৩৬ জন, এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১২ জনের) ও জাপান (নতুন সংক্রমিত ১৪ হাজার ৪৭২ জন এবং এই সময়ের মধ্যে প্রাণ গেছে সাতজনের)।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ ছয় হাজার ৬০১ জন। তাদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ বহন করছেন এক কোটি ৬৪ লাখ সাত হাজার ৫২০ জন। এই সময়ের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে রয়েছেন ৯৯ হাজার ৮১ জন।

ওয়ার্ল্ডো মিটার্সের পরিসংখ্যান বলছে, মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২০ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬০৬ জন। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ জনের।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আক্রান্ত হওয়ার পর বিশ্বে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৮ কোটি ২২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল চীনে।

তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

যদিও তাতেও এই এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় অবশেষে ওই বছর ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট